“মায়ের পরিচয় শুধু জন্মদানে নয়” মা না হয়েও তিনি মা! হারিয়েছেন নিজের মাকে, মাতৃদিবসে সুদীপা চট্টোপাধ্যায় শোনালেন বিশ্বজননী দেবী দুর্গার মাতৃত্বের কোন গল্প?

মাতৃদিবস মানেই মায়েদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর বিশেষ দিন। যদিও অনেকের মতে, মাকে ভালবাসার জন্য আলাদা কোনও দিনের প্রয়োজন হয় না, তবুও এই দিনটি মায়েদের সম্মান জানানোর উপলক্ষ হয়ে ওঠে। সন্তানদের জীবনে মায়ের গুরুত্ব কতটা গভীর, তা নতুন করে মনে করিয়ে দেয় এই দিন। আবার এমন অনেক নারীও আছেন, যাঁরা সন্তান জন্ম না দিয়েও মায়ের দায়িত্ব পালন করেন প্রতিদিন। সেই ভাবনাকেই সামনে এনে এ বছরের মাতৃদিবসে বিশেষ বার্তা দিলেন সুদীপা। তিনি পুরাণের গল্প তুলে ধরে বোঝাতে চাইলেন, মাতৃত্ব শুধু জন্মদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে অনুরাগীদের মধ্যেও শুরু হয়েছে আলোচনা।

সুদীপা এদিন দেবী দুর্গার প্রসঙ্গ টেনে জানান, মা দুর্গা তাঁর চার সন্তানের কাউকেই গর্ভে ধারণ করেননি। পুরাণ অনুযায়ী, নিজের ইচ্ছাশক্তি দিয়ে তিনি সৃষ্টি করেছিলেন গণেশকে। আবার কার্তিককে ধারণ করেছিলেন গঙ্গা। লক্ষ্মী ও সরস্বতীকেও দেবীরই অন্য রূপ হিসেবে ধরা হয়। অর্থাৎ সন্তানকে জন্ম না দিয়েও মাতৃত্বের পূর্ণ রূপে পূজিতা হন দেবী দুর্গা। সেই কারণেই তাঁকে শুধু দেবী নয়, বিশ্বজননী হিসেবেও মানা হয়। সুদীপার বক্তব্যে এই পুরাণকথাই নতুন করে সামনে আসে। তাঁর মতে, মাতৃত্বের আসল পরিচয় ভালোবাসা ও দায়িত্বে।

আরও পড়ুন: “দিদিকে বলব, তোকে বুঝে নিচ্ছি” ক্ষমতার দাপটে হু’মকির অভিযোগ! মমতা সরকারের পতন ঘটতেই বিপাকে, এবার আর্টিস্টস ফোরাম থেকে পদত্যাগ করলেন দিগন্ত বাগচী?

পুরাণের আরও একটি কাহিনি তিনি স্মরণ করান। বলা হয়, গণেশকে হারিয়ে ক্রুদ্ধ দেবী দুর্গা অভিশাপ দিয়েছিলেন, এরপর আর কোনও দেবী মা হতে পারবেন না। সেই সময় ব্রহ্মা দেবীকে শান্ত করে বোঝান, নিজের সন্তান না থাকলেও জগতের সকলেই তাঁর সন্তানসম। এরপর থেকেই দেবী দুর্গা কন্যারূপে পুজিতা হলেও সকলের মা হিসেবে স্বীকৃতি পান। শুধু মানুষের নয়, পশুপাখি, গাছপালা, সমস্ত জীবজগতের মা হিসেবেই তাঁকে মানা হয়। সুদীপা মাতৃদিবসে এই কাহিনি শেয়ার করে জানান, মা হওয়ার অর্থ অনেক বড়। শুধু রক্তের সম্পর্কেই মাতৃত্ব সীমাবদ্ধ নয়।

নিজের ব্যক্তিগত জীবনেও এই ভাবনার প্রতিফলন রয়েছে সুদীপার জীবনে। তিনি এক সন্তানের জন্মদাত্রী মা হলেও পরিবারের আরও এক সন্তানের কাছেও সমান স্নেহময়ী। আদিব তাঁর জৈবিক সন্তান হলেও আকাশকেও নিজের সন্তানের মতোই আগলে রাখেন তিনি। প্রসঙ্গত, আকাশ হলেন অগ্নিদেব চট্টোপাধ্যায়ের আগের স্ত্রীর সন্তান। তবে গর্ভধারিণী মা না হয়েও আকাশকে কখনও আলাদা করে দেখেননি সুদীপা। বরং দুই সন্তানকেই সমান ভালবাসায় বড় করছেন তিনি। তাই অনেকেই মনে করছেন, মাতৃদিবসে দেবী দুর্গার উদাহরণ টেনে তিনি নিজের জীবনের কথাই ইঙ্গিত করেছেন।

গত কয়েক মাস সুদীপার ব্যক্তিগত জীবন খুব সহজ ছিল না। কিছুদিন আগে অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন অগ্নিদেব চট্টোপাধ্যায়। বর্তমানে তিনি অনেকটাই সুস্থ বলে জানা গেছে। স্বামী ও পরিবারের দেখাশোনা করতে গিয়ে একসময় নিজেও অসুস্থ হয়ে পড়েন সুদীপা। এর মধ্যেই ছোট ননদের মৃত্যুর ধাক্কাও সামলাতে হয়েছে তাঁকে। সব মিলিয়ে টানাপোড়েনের সময়ের মধ্য দিয়েই কাটছিল তাঁর দিন। সেই কঠিন সময়েও মাতৃত্ব, পরিবার ও ভালবাসার বার্তা দিয়েই মাতৃদিবসে সকলের নজর কাড়লেন তিনি।

You cannot copy content of this page