টলিপাড়ায় কয়েক দিন ধরে পরিচালক পারমিতা মুন্সী ও অভিনেতা দিগন্ত বাগচীকে ঘিরে তুমুল আলোচনা চলছিল। হুমকির অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই শিল্পীমহলে বিষয়টি নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়। এর মধ্যেই আজ জানা গিয়েছে, দিগন্ত বাগচী নাকি আর্টিস্টস ফোরামে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। যদিও এই সিদ্ধান্তের কারণ নিয়ে এখনও কোনও সরকারি ব্যাখ্যা মেলেনি। অভিনেতার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর তরফে এখনও কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। ফলে পারমিতার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরেই কি এই পদক্ষেপ, তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠছে।
দিগন্ত মুখ না খোলা পর্যন্ত পুরো বিষয়টি স্পষ্ট নয়, তবে ইঙ্গিত সেদিকেই বলেই মনে করছে টলিপাড়ার একাংশ। তাই নতুন মোড় নিয়েছে এই বিতর্ক। প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার ফেসবুকে দীর্ঘ পোস্ট করে প্রথমবার প্রকাশ্যে মুখ খোলেন পারমিতা মুন্সী। এতদিন নানান জল্পনা চললেও তিনি কোনও মন্তব্য করেননি। নিজের পোস্টে তিনি জানান, দিগন্ত বাগচীর সঙ্গে তাঁর একটি অস্বস্তিকর ঘটনার সৃষ্টি হয়েছিল। সেই পোস্ট সামনে আসতেই নতুন করে সরগরম হয়ে ওঠে টলিউড। কারণ ঘটনাটি শুধুই ব্যক্তিগত মনোমালিন্য নয়, আর্টিস্টস ফোরাম পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল বলেও জানা যায়।
ফলে বিষয়টির গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। শিল্পীমহলের অনেকেই এখন পুরো ঘটনার দিকে নজর রাখছেন। সামাজিক মাধ্যমেও এই নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পারমিতার বক্তব্য অনুযায়ী, অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃ’ত্যুর পরদিন তাঁর মরদেহ বাড়িতে আনা হলে আবেগঘন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সেই সময় উপস্থিত এক অভিনেত্রী প্রশ্ন তোলেন, “আর্টিস্টস ফোরাম কি কিছুটা সময়ের জন্য শুটিং বন্ধ রাখতে পারেনি?” এই প্রশ্নের জবাব দেন দিগন্ত বাগচী। সেই উত্তর ঘিরেই মতভেদ তৈরি হয় বলে দাবি পারমিতার। তিনি জানান, তিনিও তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: “পক্ষপাতিত্ব না করে শাস্তি চাই, আর একটা ‘অভয়া’ যেন না হয়…ন্যায়কে ন্যায় আর অন্যায়কে অন্যায় বলার সততা যেন থাকে!” দীর্ঘদিনের চাপা অস্বস্তির পর মানুষ খুঁজে পেয়েছে স্বস্তির জায়গা! শপথ মঞ্চ থেকে ফিরে গেরুয়া সরকারের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট বার্তা মমতা শঙ্করের!
তাঁর মতে, সেই পরিস্থিতিতে এমন আলোচনা করা ঠিক সময় ছিল না। তাই তিনি সেখানেই বলেন, এখন এসব নিয়ে কথা না বলাই ভাল। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে অস্বস্তি বাড়ে বলে জানা যায়। পরে পারমিতা জানান, তিনি শ্মশানে যেতে পারেননি। এরপর দিগন্তকে ফোন করে জানতে চান, পরবর্তী পরিস্থিতি কোথায় দাঁড়িয়েছে। সেই ফোনালাপেই উত্তেজনা তৈরি হয় বলে তাঁর অভিযোগ। পারমিতার দাবি, তখন দিগন্ত তাঁকে বলেন, “তুই আমাকে গালাগাল করেছিস! দিদিকে বলব, আমি তোকে বুঝে নিচ্ছি…”, এই মন্তব্যে তিনি বিস্মিত হন এবং কথাবার্তার ভঙ্গি নিয়ে আপত্তি জানান।
দু’জনের মধ্যে আরও কিছু কথা হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। যদিও সেই অংশ তিনি প্রকাশ্যে জানাননি। তাঁর মূল অভিযোগ, তাঁকে অকারণে চাপ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পর পারমিতা আর্টিস্টস ফোরামের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান। উল্লেখযোগ্যভাবে, যে কমিটির কাছে অভিযোগ জমা পড়ে, সেই কমিটিতেই দিগন্ত বাগচী ছিলেন বলে জানা যায়। তবে প্রথমে তিনি নাকি বিষয়টি প্রকাশ্যে আনতে চাননি। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হোক, এমন চেষ্টাও করেছিলেন বলে দাবি তাঁর। পরে ৮ মে তিনি বিষয়টি ফেসবুকে প্রকাশ করেন। এরপরই বিতর্ক নতুন মাত্রা পায়। আর এখন দিগন্তর পদত্যাগের খবর সামনে আসায় প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে, এই অভিযোগের চাপেই কি সরে দাঁড়ালেন অভিনেতা?






