“ভালো বউ মানে কি গায়ে কাপড় দিয়ে, শাঁখা সিঁদুর পরে…” টেকেনি প্রথম বিয়ে, বয়সে ছোট বিরসার সঙ্গে দ্বিতীয় সংসার পাতেন বিদিপ্তা চক্রবর্তী! কেন ভেঙেছিল অভিনেত্রীর প্রথম দাম্পত্য? কে ছিলেন প্রথম স্বামী?

টলিপাড়ার অন্যতম আলোচিত দম্পতি বিদিপ্তা চক্রবর্তী ও বিরসা দাশগুপ্তকে ঘিরে চর্চা নতুন কিছু নয়। দুই মেয়েকে নিয়ে তাঁদের সুখের সংসার বহুদিন ধরেই নজরে থাকে অনুরাগীদের। ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও বরাবর খোলামেলা অভিনেত্রী। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সমাজের পুরনো ধারণা নিয়ে সরব হন বিদিপ্তা। তিনি বলেন, “ভালো বউ মানে কি, শাঁখা সিঁদুর পরে, গায়ে কাপড় দিয়ে, শুধু রান্না করে গেলাম, স্বামীর সেবা করে গেলাম, সংসার করলাম, তাহলেই কি ভালো বউ হয়?” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংসার, কাজ এবং নারীর পরিচয় নিয়ে নিজের স্পষ্ট মত তুলে ধরেছেন তিনি।

অভিনেত্রী আরও বলেন, “আমি যে নিজে এত ছোটবেলা থেকে রোজগার করেছি, দুই মেয়েকে বড় করেছি, বাবা-মাকে শেষদিন অবধি দেখেছি, এটা কি ভালো বউ বা ভালো মেয়ে হওয়ার পরিচয় নয়?” তাঁর মতে, একজন মানুষের মূল্যায়ন শুধুমাত্র বাহ্যিক নিয়মে হয় না। বিদিপ্তার কথায়, “আসলে এগুলো সবটাই না, তোমার মাতা কীভাবে চলছে, ভাবনা কীরকম, তার ওপরেই জীবনটা চলে।” নিজের জীবনসংগ্রাম, দায়িত্ববোধ এবং কাজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেই এই মন্তব্য করেন তিনি। সমাজে নারীদের নিয়ে তৈরি বহু পুরনো ধারণাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছেন অভিনেত্রী। সহজ ভাষায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করায় অনেকেই তাঁর বক্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের ৩০ জানুয়ারি আইনি বিয়ে করেছিলেন বিরসা ও বিদিপ্তা। তবে তার আগে অভিনেত্রীর প্রথম সংসার ভেঙে গিয়েছিল। বিদিপ্তার প্রথম স্বামী ছিলেন পরিচিত ক্যামেরাম্যান শুভাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, যাঁকে ইন্ডাস্ট্রিতে সবাই ‘লালু’ নামে চিনতেন। ভালোবেসেই তাঁদের বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু সেই দাম্পত্য দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। পরে বিচ্ছেদের পর নতুন করে জীবন শুরু করেন বিদিপ্তা। সেই সময় তাঁর প্রথম পক্ষের মেয়ে মেঘলার বয়স ছিল ১০ বছর। জীবনের কঠিন সময় পার করে তিনি নতুন অধ্যায়ে পা রাখেন বিরসার হাত ধরে। বিরসা শুধু বিদিপ্তাকে বিয়ে করেননি, মেঘলাকেও নিজের মেয়ের মতো গ্রহণ করেছিলেন।

শুধু নিজের পদবি দেওয়া নয়, পিতৃস্নেহে বড় করেছেন তাঁকে। মেঘলাও মন থেকে আপন করে নেয় বিরসাকে। সে আজও বিরসাকে ‘বাবুই’ বলে ডাকে। পরে এই দম্পতির সংসারে আসে দ্বিতীয় কন্যা সন্তান ইদা। ফলে এখন দুই মেয়েকে নিয়ে পূর্ণ পরিবার তাঁদের। বিদিপ্তার কথায়, সম্পর্ক শুধু আইনি পরিচয়ে নয়, ভালোবাসা ও দায়িত্বেই তৈরি হয়। তাঁদের সংসারের এই ছবিই বহু মানুষের কাছে আলাদা উদাহরণ হয়ে উঠেছে। শুধু স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক নয়, শাশুড়ির সঙ্গেও বিদিপ্তার বন্ধুত্বের সম্পর্ক নিয়ে বহুবার আলোচনা হয়েছে।

আরও পড়ুন: “নবান্ন থেকে শুরু করে সারা কলকাতার ফাঁকা রাস্তায় ঘুরে ঘুরে কাঁদছে কেন নচিদা?” তৃণমূলের হারে বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের মাঝেই নচিকেতা চক্রবর্তীকে টেনে ভাইরাল সৌম্যর ভিডিও! কী এমন বললেন ‘সারেগামাপা’ খ্যাত গায়ক? হেসে লুটোপুটি নেটপাড়া!

বিরসার মা চৈতালি দাশগুপ্তকে তিনি ‘কেয়া পিসি’ বলে ডাকেন। ফলে বিরসাকে তিনি আগে থেকেই চিনতেন। বয়সে প্রায় সাড়ে ৬ বছরের ছোট বিরসার গালও নাকি বহুবার টিপেছেন, এমন কথাও মজা করে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। পরে বোলপুরের পৌষ মেলায় তাঁদের সম্পর্ক নতুন মোড় নেয়। বিদিপ্তা এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “ওই পৌষ মেলায় সেই যে আমার হাতটা বিরসা ধরেছিল, সেটা আজও ছাড়েনি…ধরেই রেখেছে।” সে সময় বিদিপ্তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে, অন্যদিকে বিরসারও প্রেম ভেঙেছিল। দুটি ভাঙা মন কাছাকাছি আসে।

You cannot copy content of this page