বিধানসভা নির্বাচনের আগে নিয়মিতভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে প্রচার চালালেও এবারের ফলাফল নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, প্রচারের সময়ই তিনি বুঝতে শুরু করেছিলেন যে মানুষ ধীরে ধীরে পরিবর্তনের দিকে ঝুঁকছেন। তবে এত বড় পরিবর্তন তিনি প্রত্যাশা করেননি বলেও জানান। তিনি বলেন, “মানুষ এই পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। জনাদেশ অস্বীকার করার জায়গা নেই। অনেকেই ইভিএম কারচুপির কথা বলছেন ঠিকই। কিন্তু আমি তো জানি না। সবই প্রমাণসাপেক্ষ। কিন্তু মানুষ রায় দিয়েছে, তাই এই পরিবর্তন।” নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বিভিন্ন জায়গায় দলের অন্দরের সমস্যার কথাও উঠে আসছে বলে জানান তিনি।
অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা পুরসভার মুকুন্দপুর অঞ্চলের পুরপ্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করছেন। তিনি জানান, ফল প্রকাশের পর দলের একাধিক নেতা বিভিন্ন বিষয়ে মুখ খুলছেন এবং কেউ কেউ রাজনীতি ছাড়ার কথাও বলছেন। তবে তাঁর মতে, বিষয়টিকে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত স্বার্থ বা দলবদলের ইচ্ছা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তিনি বলেন, “ফল প্রকাশের পরে নানা মানুষ দলের অন্দরের সমস্যার কথা বলছেন। কেউ কেউ রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার কথাও বলছেন। এই শুনে কিছু মানুষ মনে করছেন, ক্ষমতার লোভে তাঁরা এখন পুরনো দলকে ভুলে নতুন দিকে ঝুঁকতে চাইছেন। কিন্তু এতটা সরলীকরণ করে দেওয়া ঠিক হবে না। কারণ, দলের অন্দরের সমস্যা বলার মতো জায়গাই ছিল না।”
তাঁর মতে, অনেক সময় ভিতরের কথা প্রকাশ করার সুযোগই ছিল না। নিজের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন অনন্যা। তিনি জানান, দীর্ঘ ১০ বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করলেও তাঁর কোনও পদোন্নতি হয়নি। তিনি বলেন, “দল নিয়ে কেউ কেউ গঠনমূলক সমালোচনা করছেন। এমন নয়, তাঁরা দল থেকে বেরিয়ে দায়মুক্ত হতে চাইছেন। আমি এখন বললেও হয়তো তা নিয়ে সরলীকরণ হবে। দল ক্ষমতায় থাকাকালীন বলা হয়নি কেন? এই প্রশ্নটাও যুক্তিসঙ্গত।” তিনি আরও বলেন, ২০১৫ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত তিনি ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বে থেকেও কাজ চালিয়ে গিয়েছেন, কিন্তু মূল্যায়ন পাননি। তাঁর কথায়, “আমি তো দলের জন্য কাজ করে গিয়েছি।
কিন্তু আমি তো সেই পুরপ্রতিনিধি হয়েই আছি। কোনও পদোন্নতি তো হয়নি। আমার মূল্যায়নও তো দল করেনি।” দলের বর্তমান অবস্থার জন্য সংগঠনের পরিবর্তনকে দায়ী করেছেন অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূল ‘মা, মাটি, মানুষের’ দল হলেও সময়ের সঙ্গে সেই সংযোগ দুর্বল হয়েছে। তিনি বলেন, “তৃণমূল তো ‘মা, মাটি, মানুষের’ দল। মাটিতে পা রেখে মাটির মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করার কথা। সংগঠনের শেষ মানুষটার সঙ্গেও যোগাযোগ থাকতে হবে। সেই জায়গায় হঠাৎ দলটা কর্পোরেট হয়ে গেল। এজেন্সি-নির্ভর একটি দল হয়ে গেল। এজেন্সিই নীতি নির্ধারক হয়ে গেলে সমস্যা হবেই।”
ভোট প্রচারে লুডোর বোর্ড বিতরণের প্রসঙ্গও তুলে ধরে তিনি বলেন, “আইপ্যাক সবাইকে লুডো দিচ্ছিল। কেন দিচ্ছিল? মানুষকে পরোক্ষ ভাবে বলা হল, ‘তোমাদের ভবিষ্যতে আর কিছু হবে না, তোমরা লুডো খেলো।’ আমি আজও জানি না, কেন দেওয়া হল। কিন্তু কেউ প্রশ্ন করতে পারবে না। নির্দেশ মানতেই হবে! মানুষ কিন্তু লুডো খেলেছে। সাপের মুখে ফেলে নীচে নামিয়ে দিয়েছে।” ফলাফল প্রসঙ্গে তিনি জানান, তিনি আগেই বুঝেছিলেন বিজেপির আসন কিছুটা বাড়তে পারে, কারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে পরিবর্তনের ইঙ্গিত পেয়েছিলেন। তবে এই পরিবর্তনের বাস্তব চিত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ “এই অস’ভ্য লোকটার কারণে সেদিন…বাকিরা দাঁড়িয়ে, বসে, উবু হয়ে, হামাগুড়ি দিয়ে মজা নিচ্ছিল” ‘চটিচাটা’র দিন শেষ! সরকার বদলাতেই বি’স্ফোরক শ্রীলেখা মিত্র! রাহুলের মৃ’ত্যুতে স্বরূপ বিশ্বাসকে সরাসরি নিশা’না করে টলিউডের ‘আসল চেহারা’ সামনে আনলেন অভিনেত্রী?
অনন্যা বলেন, “কিন্তু এই পরিবর্তনই কি মানুষ চেয়েছিলেন?” তিনি অভিযোগ করেন, কোথাও কোথাও রাজনৈতিক সংঘর্ষের পর পার্টি অফিসের রং বদল বা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি টালিগঞ্জ কেন্দ্রে অরূপ বিশ্বাসের পরাজয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অরূপ বিশ্বাসের পরাজয় বিশ্বাসযোগ্যই নয়। তিনি খুবই ভাল সংগঠক। ওঁর সঙ্গে কথাও হয়েছে। তিনিও বললেন, এ বার প্রার্থী দেখে ভোট হয়নি। এ বার দল দেখে মানুষ ভোট দিয়েছে।” ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি জানান, ‘ব্যান কালচার’ উঠে গেলে সব দলের জন্যই ভাল হবে, তবে বাস্তবে পরিবর্তন কতটা হবে তা সময় বলবে।






