১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাংলায় ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছে গেরুয়া শিবির। শনিবার, ১০ মে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। সরকার বদলের পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক আবহে নতুন করে শুরু হয়েছে নানা বিতর্ক ও রাজনৈতিক তরজা। ঠিক এই সময়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে বলিউড অভিনেত্রী তথা বিজেপি সাংসদ হেমা মালিনীর একটি পোস্ট, যেখানে তিনি বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। বিশেষ করে “ফ্রি ভোট ব্যাঙ্কের জন্য সীমান্ত খুলে দেওয়া হয়েছিল” এই মন্তব্য ঘিরেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
তবে এই মন্তব্য নতুন নয়, বিধানসভা ভোটের আগেই বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে একাধিকবার রাজ্যের তৎকালীন তৃণমূল সরকারকে নিশানা করেছিলেন হেমা মালিনী। ২৩ এপ্রিল উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ভোটের আগে শেষ দিনের প্রচারে ময়নাগুড়িতে বিজেপি প্রার্থী ডালিম রায়ের সমর্থনে সভা করতে এসে সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন তিনি। সেই সময় জলপাইগুড়ির আকাশ যেমন ছিল মেঘলা, তেমনই রাজনৈতিক আবহাওয়াও ছিল উত্তপ্ত। আর সেই আবহেই বিজেপির সভামঞ্চে উঠে রাজ্যের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছিলেন বলিউডের ‘ড্রিম গার্ল’।
সভামঞ্চ থেকে হেমা মালিনী বলেছিলেন, “ডবল ইঞ্জিন সরকার হলে পশ্চিমবঙ্গে উন্নয়নের গতি অনেক বাড়বে। এখানে কাজ নেই, কর্মসংস্থান নেই, নতুন কল-কারখানা নেই। সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন।” শুধু তাই নয়, তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক প্রকল্প বাংলায় সঠিকভাবে কার্যকর হতে দেওয়া হয়নি। বিশেষ করে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, বহু সাধারণ মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারতেন, কিন্তু রাজ্য সরকার তা আটকে রেখেছিল। একইসঙ্গে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, “দিদির রাজ্যে মহিলারাই নিরাপদ নন। আমরা অভিনেত্রী, আমাদেরও এখানে কাজ করার পরিবেশ নেই।” সেই সময় তাঁর এই বক্তব্য বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে যথেষ্ট সাড়া ফেলেছিল। শুধু রাজনৈতিক কর্মীরাই নন, বলিউড তারকাকে একবার সামনে থেকে দেখার জন্যও সভায় ভিড় জমিয়েছিলেন বহু সাধারণ মানুষ।
এবার সরকার বদলের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় আরও একধাপ এগিয়ে মন্তব্য করেছেন হেমা মালিনী। নিজের পোস্টে তিনি লেখেন, বাংলায় বিজেপির এই “ল্যান্ডস্লাইড জয়” আসলে বিজেপির আদর্শের জয়। সেই কৃতিত্ব তিনি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে। তাঁর দাবি, এই দুই নেতা বরাবরই সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে এবং বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশ ও জঙ্গি কার্যকলাপ রুখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। হেমা মালিনীর অভিযোগ, আগে “ফ্রি ভোট ব্যাঙ্ক” তৈরির জন্য সীমান্ত ইচ্ছাকৃতভাবে খুলে রাখা হয়েছিল, যার ফলে রাজ্যে বেড়েছিল অশান্তি ও আইনশৃঙ্খলার সমস্যা। বিজেপি সরকার আসার পর সেই পরিস্থিতির বদল হবে বলেই তিনি আশাবাদী। তাঁর কথায়, বাংলায় এবার শান্তি ও উন্নয়নের নতুন আশা ফিরবে।
আরও পড়ুনঃ দুঃসংবাদ! বেপরোয়া গতিতে গাড়ি, ভোররাতে কন্টেনার ট্রাকে ধা’ক্কা! মাত্র ৩১ বছরেই জনপ্রিয় তরুণ অভিনেতার ম’র্মান্তিক মৃ’ত্যু!
হেমা মালিনীর এই মন্তব্য ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। বিজেপি সমর্থকরা তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন জানালেও বিরোধীদের একাংশ এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই দাবি করছে। তবে এটা স্পষ্ট, সরকার বদলের পর বাংলার রাজনৈতিক আবহে এখন সীমান্ত, অনুপ্রবেশ, আইনশৃঙ্খলা ও ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতি এই বিষয়গুলিই বড় করে উঠে আসছে। আর সেই আবহেই হেমা মালিনীর এই বিস্ফোরক পোস্ট নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়িয়ে দিল।






