বরানগর বিধানসভা কেন্দ্রে পরাজয়ের পর কিছুদিন নীরব ছিলেন অভিনেত্রী ও তৃণমূল নেত্রী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষের কাছে হারের পরে তিনি প্রকাশ্যে খুব বেশি কিছু বলেননি। তবে এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় দুটি পোস্ট করে ফের আলোচনায় এলেন তিনি। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে প্রথম ছবিতে দেখা যায়, সোফায় মাথা হেলিয়ে আধশোয়া অবস্থায় রয়েছেন সায়ন্তিকা। সেখানে তিনি লিখেছেন, “ভাইরাল ফিভার, ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছি।” নির্বাচনের ধকলের মাঝেই তাঁর অসুস্থতার খবর সামনে আসে। ফলে অনুরাগীদের মধ্যেও চিন্তা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর নতুন বার্তাও জল্পনা বাড়িয়েছে।
দ্বিতীয় ছবিতে সম্পূর্ণ অন্য মেজাজে দেখা যায় সায়ন্তিকাকে। সেখানে তিনি জিমে ঘাম ঝরাচ্ছেন এবং ট্রেনারের সঙ্গে মিরর সেলফি তুলেছেন। সেই ছবির ক্যাপশনে অভিনেত্রী লেখেন, “যেখানে আমার স্থান, সেখানে ফিরে আসতে পেরে আমি খুশি।” এই মন্তব্য ঘিরেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের ধারণা, তিনি ফের অভিনয় জগতেই মন দিতে চাইছেন। কারণ দীর্ঘদিন ধরেই রাজনীতির পাশাপাশি সিনেমা থেকে দূরে ছিলেন সায়ন্তিকা। তাই তাঁর এই পোস্টকে অনেকে ‘প্রাক্তন’ অর্থাৎ পুরনো পেশায় ফেরার ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন। যদিও এ বিষয়ে তিনি সরাসরি কিছু জানাননি।
জানা গিয়েছে, এবারের নির্বাচনে বরানগর কেন্দ্রে সায়ন্তিকা প্রায় ১৩ হাজার ভোটে পিছিয়ে পড়েন বিজেপির সজল ঘোষের কাছে। ফল প্রকাশের পর সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি বলেন, মানুষের রায় তিনি মাথা পেতে মেনে নেবেন। এর আগেও ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাঁকুড়া কেন্দ্র থেকে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সেই সময় বিজেপির নীলাদ্রি শেখর দানার কাছে পরাজিত হন তিনি। তবে পরে ২০২৪ সালের উপনির্বাচনে জয় পেয়ে বরাহনগরের বিধায়ক হন সায়ন্তিকা। ফলে রাজনীতিতে তাঁর পথচলায় উত্থান-পতন দুই-ই দেখা গিয়েছে। এবারের ফল সেই তালিকায় নতুন অধ্যায় যোগ করল।
২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ৩ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলে যোগ দেওয়ার সময় তিনি জানিয়েছিলেন, গত ১০ বছর ধরে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থক। তাঁর কথায়, দিদির হাত শক্ত করতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পাশাপাশি মানুষের সেবা করার উদ্দেশ্যেই রাজনীতিতে আসার দাবি করেছিলেন অভিনেত্রী। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ফলাফলের পর শোনা যাচ্ছে, তিনি রাজনীতি থেকে কিছুটা দূরে সরে দাঁড়ানোর কথা ভাবছেন। দলীয় ভরাডুবির পরে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি তিনি।
আরও পড়ুনঃ “আমি পদ্মশ্রী পাওয়ার যোগ্য, এটা আমার অধিকার!” “আমি ছাই চাপা আ’গুন, এবার আমার জলওয়া দেখানোর সময়” টলিউডকে হলিউড বানানোর প্রতিশ্রুতির পর, এবার নিজেকে নিয়ে চরম আত্মবিশ্বাসী বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী! রুপোলি দুনিয়ায় দাপট দেখানোর হুঁশি’য়ারি দিয়ে আর কী বললেন অভিনেত্রী?
বিনোদন জগতে সায়ন্তিকার পথচলা শুরু হয়েছিল ‘ধুম মাচা লে’ রিয়েলিটি শো-এর মাধ্যমে। এরপর ‘টার্গেট’, ‘হ্যাংওভার’, ‘মনে পড়ে আজও সেই দিন’-এর মতো ছবিতে কাজ করেন। ২০১২ সালে জিতের বিপরীতে ‘আওয়ারা’ ছবির সাফল্য তাঁকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দেয়। পরে ‘শুটার’, ‘নকাব’, ‘বিন্দাস’, ‘পাওয়ার’, ‘ব্যোমকেশ পর্ব’, ‘বাঘ বন্দী খেলা’ এবং ‘শেষ থেকে শুরু’-এর মতো ছবিতেও অভিনয় করেন তিনি। ২০২৩ সালে বাংলাদেশে জায়েদ খানের বিপরীতে ‘ছায়াবাজ’ সিনেমায় শেষ দেখা গিয়েছিল তাঁকে। এখন নজর, সায়ন্তিকা সত্যিই কি রাজনীতিকে বিদায় জানিয়ে আবার পুরোপুরি সিনেমাতেই মন দেন কি না।






