“জিৎ হয়ে গেল সুপারস্টার আর আমি যেখানে ছিলাম, সেখানেই পড়ে রইলাম” বহু বছর পর কেরিয়ার নিয়ে চাপ ক্ষো’ভ উগরে দিলেন সম্রাট মুখোপাধ্যায়! কেন হঠাৎ জিতকে করলেন দায়ী? সুপারস্টার হওয়ার দৌড়ে কীভাবে হেরে গিয়েছিলেন অভিনেতা?

টলিউডে বহু বছর ধরে নিজের অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন অভিনেতা সম্রাট মুখোপাধ্যায়। কখনও নায়ক, কখনও পার্শ্বচরিত্র, আবার কখনও ধূসর চরিত্রে অভিনয় করে তিনি বারবার নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। তবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের কেরিয়ারের শুরুর দিকের এমন এক অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন, যা শুনে অনেকেই অবাক হয়েছেন। সম্রাট জানান, তাঁর প্রথম বাংলা সিনেমা ছিল “চন্দ্রমল্লিকা”। সেই ছবির মাধ্যমেই বড় নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু সময়ের খেলায় সবকিছু বদলে যায়। একই ধরনের গল্প নিয়ে তৈরি অন্য একটি ছবি আগে মুক্তি পেয়ে যায়, আর সেই ছবির নায়ক হয়ে রাতারাতি সুপারস্টার হয়ে ওঠেন জিত।

সাক্ষাৎকারে সম্রাট জানান, সেই সময় তাঁকে আজাদ নামে এক পরিচিত ব্যক্তি পরামর্শ দিয়েছিলেন পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী-র সঙ্গে দেখা করতে। কারণ অঞ্জন চৌধুরী একটি প্রেমের গল্পভিত্তিক নতুন ছবি তৈরি করছিলেন এবং নতুন মুখ খুঁজছিলেন। সম্রাট তখন তাঁর পোর্টফোলিও নিয়ে পরিচালকের সঙ্গে দেখা করতে যান। অভিনেতার কথায়, প্রথম দেখাতেই পরিচালক তাঁকে পছন্দ করেন এবং ছবির জন্য চূড়ান্তও করে দেন। সেই ছবিই ছিল ‘চন্দ্রমল্লিকা’। সম্রাটের আশা ছিল, এই ছবির মাধ্যমেই তিনি বাংলা সিনেমায় বড় পরিচিতি পাবেন। কিন্তু সমস্যার শুরু হয় ছবির কাজ দেরিতে এগোনোর কারণে। নানা কারণে ছবির মুক্তি পিছোতে থাকে এবং সেই সময়েই একই ধরনের গল্প নিয়ে আরেকটি ছবি তৈরির কাজ শুরু হয়ে যায়।

সম্রাট বলেন, প্রযোজনা সংস্থা ভেঙ্কটেশ ফিল্মস সেই সময় নতুন মুখ নিয়ে একটি প্রেমের ছবি বানাচ্ছিল। পরিচালক ছিলেন হরনাথ চক্রবর্তী। ছবিটির নাম ছিল সাথী। সেই ছবির নায়ক ছিলেন জিৎ। সম্রাটের কথায়, ‘সাথী’ মুক্তি পাওয়ার পরই তিনি বুঝে গিয়েছিলেন তাঁর ভাগ্য অন্যদিকে মোড় নিতে চলেছে। কারণ দর্শকদের মধ্যে ছবিটি নিয়ে বিপুল উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল। ছবিটি সুপারহিট হওয়ার পর জিৎ রাতারাতি বাংলা সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় নায়ক হয়ে ওঠেন। অন্যদিকে অনেক দেরিতে মুক্তি পাওয়া ‘চন্দ্রমল্লিকা’ সেইভাবে দর্শকের মন জয় করতে পারেনি। ফলে যে স্বপ্ন নিয়ে সম্রাট অভিনয় জগতে পা রেখেছিলেন, সেই জায়গায় পৌঁছনো আর সম্ভব হয়নি।

অভিনেতার কথায় স্পষ্ট, তিনি সেই সময় খুব কাছ থেকে দেখেছেন কীভাবে একটি ছবির সঠিক সময়ে মুক্তি পাওয়া একজন অভিনেতার জীবন পুরো বদলে দিতে পারে। তাঁর মতে, ভাগ্য একটু অন্যরকম হলে হয়তো তাঁর জীবনও অন্য পথে যেতে পারত। কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন, ‘চন্দ্রমল্লিকা’ যদি আগে মুক্তি পেত, তাহলে হয়তো দর্শকদের কাছে তিনিও সেইভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠতে পারতেন। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। জিৎ হয়ে ওঠেন টলিউডের অন্যতম বড় সুপারস্টার, আর সম্রাট নিজের জায়গাতেই থেকে যান। যদিও সেই নিয়ে তাঁর কথায় কোনও হিংসা বা আক্ষেপের তীব্রতা ছিল না, বরং ছিল সময়ের খেলাকে মেনে নেওয়ার সুর।

আরও পড়ুন: মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সনের পদ থেকে ইস্তফা লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের! রাহুলের মৃ’ত্যুর ধাক্কার পর তৃণমূল সরকারের পতন, অবশেষে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত লেখিকার?

তবে সুপারস্টারের তকমা না পেলেও বাংলা অভিনয় জগতে সম্রাট মুখোপাধ্যায়ের অবদান কোনও অংশে কম নয়। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছেন। দর্শকরাও তাঁর অভিনয়কে ভালোবেসেছেন। কিন্তু তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যে যেন আবার সামনে উঠে এল টলিউডের সেই পুরনো বাস্তবতা সব প্রতিভাই শেষ পর্যন্ত তার প্রাপ্য জায়গা পায় না। কখনও সময়, কখনও ভাগ্য, আবার কখনও একটি ছবির মুক্তির তারিখই বদলে দেয় একজন অভিনেতার পুরো কেরিয়ারের গল্প।

You cannot copy content of this page