অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু ঘিরে বিতর্ক যেন এখনও থামার নাম নিচ্ছে না। প্রায় দেড় মাস কেটে গেলেও টলিপাড়ায় সেই ঘটনার রেশ এখনও স্পষ্ট। তদন্ত চলছে নিজের গতিতেই, কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়া, শুটিং থেমে থাকা এবং বহু শিল্পী-টেকনিশিয়ানের আর্থিক সংকট নিয়ে এবার সরব হলেন অভিনেতা ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি একাধিক প্রশ্ন তুলে সরাসরি আঙুল তুলেছেন আর্টিস্ট ফোরামের সিদ্ধান্তের দিকে। তাঁর বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পোস্টের শুরুতেই লিখেছেন, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের ছেড়ে চলে যাওয়ার যন্ত্রণা কোনওদিনই মুছে যাওয়ার নয়। কিন্তু সেই শোকের আবহেই তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন এমন কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হল যার ফলে অসংখ্য পরিবার আজ চরম আর্থিক সমস্যার মধ্যে পড়েছে? তাঁর কথায়, যেসব ধারাবাহিক বা কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছে, তার ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সেইসব সাধারণ শিল্পী ও টেকনিশিয়ানরা, যাঁদের নিয়মিত রোজগারের একমাত্র ভরসা ছিল এই কাজগুলো। তিনি জানতে চেয়েছেন, “এই মানুষগুলোর অপরাধটা কোথায়?” পাশাপাশি আরও এক ধাপ এগিয়ে তাঁর প্রশ্ন, “আর্টিস্ট ফোরামের যদি কাজ দেওয়ার ক্ষমতা না থাকে, তাহলে কাজ কেড়ে নেওয়ার অধিকার তাদের কে দিল?”
অভিনেতার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে, তিনি তদন্তের বিরোধিতা করছেন না। বরং তিনি লিখেছেন, সত্য একদিন নিশ্চয়ই সামনে আসবে এবং তদন্ত তার নিজের পথেই চলুক। কিন্তু সেই তদন্তের জন্য কেন নিরপরাধ মানুষদের ভোগান্তির শিকার হতে হবে, সেটাই তাঁর মূল প্রশ্ন। তাঁর দাবি, দেড় মাস ধরে বহু শিল্পী ও কলাকুশলী কার্যত বেকার হয়ে পড়েছেন। যাঁরা বছরের পর বছর সংগঠনের সদস্য হিসেবে চাঁদা দেন নিজেদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার আশায়, আজ তাঁদের পাশেই কি দাঁড়াতে পারছে সংগঠন? এই প্রশ্নই বারবার তুলেছেন ভাস্কর।
পোস্টে তিনি আরও দাবি করেছেন, এই সিদ্ধান্তগুলোর ফলে চ্যানেল বা প্রযোজনা সংস্থার খুব একটা ক্ষতি হয়নি। যাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনেও হয়তো তেমন প্রভাব পড়েনি। কিন্তু বড় ক্ষতি হয়েছে আর্টিস্ট ফোরামের সাধারণ সদস্যদের, বিশেষ করে যাঁরা ওই বন্ধ হয়ে যাওয়া ধারাবাহিকগুলোর নিয়মিত অংশ ছিলেন। তাঁর মতে, সংগঠন মানে শুধু বড় বড় বক্তব্য নয়, প্রয়োজনে সদস্যদের মাথার উপর ছাতা হয়ে দাঁড়ানো। ঠান্ডা ঘরে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে মাঠে নেমে বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের “হটকারি” সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরও সতর্ক হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ রাহুল অরুণোদয়ের মৃ’ত্যুতে তুমুল বিতর্ক, রাজ্যে নারী নি’র্যাতনের ঘটনায়ও নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ! চরম ব্যর্থতার পরেও নিজের পদ আঁকড়ে ছিলেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়! রাজনৈতিক পালাবদল হতেই, হঠাৎ মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সনের পদ থেকে ইস্তফা? ক্ষমতার মোহ, নাকি এতদিন প্রাক্তন সরকারের ভরসাতেই চাপা ছিল কিছু, প্রশ্ন উঠছে সমাজ মাধ্যমে?
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই পোস্ট সামনে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে টলিপাড়ায়। অনেকেই তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেছেন। আবার একাংশ মনে করছেন, তদন্ত চলাকালীন এমন মন্তব্য নতুন বিতর্ক তৈরি করতে পারে। তবে একটা বিষয় স্পষ্ট, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর শোক এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি ইন্ডাস্ট্রি। আর সেই শোকের মাঝেই শিল্পীদের কাজ, নিরাপত্তা এবং সংগঠনের ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠছে, তা আগামী দিনে আরও বড় আকার নিতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকে।






“স্ত্রী হিসেবে ওর সঙ্গে থাকা যায় না” দেবশ্রী রায়কে নিয়ে বি’স্ফোরক মিঠুন চক্রবর্তী, দিলেন ‘খামখেয়ালী ও খিটকেল’ তকমা! প্রসেনজিতের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর, দ্বিতীয়বার সংসার পাতেননি অভিনেত্রী! হঠাৎ তাঁকে নিয়েই বর্ষীয়ান অভিনেতার এমন মন্তব্যের নেপথ্যে কী কারণ?