“যে অন্যায় আমার সঙ্গে হয়েছিল, তা আর হতে দেব না…কারও পেটের ভাত মে’রে দেওয়া চলবে না” পদ্ম শিবিরে নাম লেখাতেই বন্ধ হয়েছিল সব দরজা, দিতে হয়েছিল চরম মাশুল! বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই, অতীত নিয়ে বি’স্ফোরক লকেট চট্টোপাধ্যায়!

আজ শহরে মিঠুন চক্রবর্তীর ছেলের ‘আখরি সওয়াল’ ছবির প্রচার অনুষ্ঠানে, একটি নামকরা হোটেলে বসেছিল চাঁদেরহাট! সেখানেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মুখ খুললেন লকেট চট্টোপাধ্যায় (Locket Chatterjee)। তিনি মহিলাদের স্বাধীনতা, পোশাক নিয়ে জল্পনা থেকে শুরু করে টলিউডের ‘ব্যান কালচার’ নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দেন। সাম্প্রতিক সময়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ভয় বা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তা ভাঙতে তিনি বলেন, “কোনও কিচ্ছু হবে না। আমরা প্রতিটি মহিলা স্বাধীন নিজেদের জায়গায়।” তাঁর বক্তব্য, বাংলার মহিলাদের নিজস্ব চিন্তাভাবনা, ব্যক্তিত্ব ও আত্মবিশ্বাস রয়েছে।

তাই তাঁদের জীবনযাপন নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই বলেই জানান তিনি। মহিলাদের পোশাক বা ব্যক্তিগত পছন্দ নিয়ে সরকার কোনও রকম হস্তক্ষেপ করবে না বলেও আশ্বাস দেন লকেট। তিনি বলেন, “যে রকম ভাবে থাকছেন, সেভাবেই থাকুন। যাঁর যেটা ভাল লাগে, সেটাই করুন। সরকার তাঁদের কোনও বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না।” তাঁর দাবি, এসব নিয়ে যেসব কথা ছড়ানো হচ্ছে, তা শুধুই মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা। তিনি আরও বলেন, “যা শুনছেন, এগুলো সব বিভ্রান্ত করার জন্য ছড়ানো হচ্ছে। এগুলো কখনই হবে না। নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন।”

দীর্ঘদিন দল করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে লকেট জানান, কখনও তাঁকে বলা হয়নি কী পরতে হবে বা কী খেতে হবে। সেই কারণেই তিনি মনে করেন, ভবিষ্যতেও মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হবে না। টলিউডের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও এদিন সরব হন প্রাক্তন সাংসদ! রাজ্যের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী টলিউডের বিভিন্ন বিষয় দেখভালের জন্য চার বিজেপি নেতাকে দায়িত্ব দিয়েছেন, সেই তালিকায় রয়েছেন লকেট চট্টোপাধ্যায়ও। এই দায়িত্বে থেকে তাঁরা কী কাজ করবেন, তা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমরা সবসময় বলে এসেছে শিল্পীরা যেন স্বাধীনতা পায়, এটাই চেষ্টা থাকবে আমাদের।”

তাঁর কথায়, শিল্পীদের কাজের সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক থাকা উচিত নয়। প্রত্যেক শিল্পী যাতে কাজ পান, সংসার চালাতে পারেন এবং সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারেন, সেই পরিবেশ গড়াই তাঁদের লক্ষ্য। ‘ব্যান কালচার’ নিয়ে স্পষ্ট অবস্থানও জানান লকেট। তিনি বলেন, “শিল্পী সত্ত্বার যেন কোনও রাজনৈতিক রং না লাগে। কোনও ব্যান করে দেওয়া এসব হবে না।” তাঁর মতে, ভাল গল্প ও ভাল কাজকে সিনেমার মাধ্যমে মানুষের সামনে তুলে ধরার সুযোগ থাকা দরকার। সেই কারণেই তিনি জানান, “কাউকে, কোনও সিনেমাকে ব্যান করা চলবে না।” আরও বলেন, “আমরা কিছু করতে না পারি, কারও পেটের ভাত মেরে দিতে পারি না।”

আরও পড়ুনঃ “আমি কোনও পতাকার তলায় থাকলে, ২৬ মাস কাজ ছাড়া বসে থাকতে হত না…অন্তত দু-তিনটে ফ্ল্যাট হয়ে যেত” “মানুষ শিল্পীদের সহজলভ্য মনে করছে” মমতার সঙ্গে ছবি পোস্ট ঘিরে ‘চটিচাটা’ কটা’ক্ষ, এবার মুখ খুললেন অভিনেত্রী মৈত্রেয়ী মিত্র! তবে, কি সত্যিই না বুঝে শিল্পীদের কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে?

অর্থাৎ রাজনৈতিক মত বা ব্যক্তিগত অবস্থানের কারণে কারও কাজ বন্ধ করে দেওয়ার বিরোধিতাই করেছেন তিনি। শিল্পীদের কাজের স্বাধীনতা বজায় রাখার আশ্বাসও দেন। নিজের অতীত অভিজ্ঞতার কথাও এদিন তুলে ধরেন লকেট চট্টোপাধ্যায়। তিনি জানান, “২০১৪ সালে আমি যখন পার্টিতে জয়েন করি তখনই অনেক প্রযোজককে বলে দেওয়া হয়েছিল আমাকে যেন কাজ না দেওয়া হয়।” এমনও হয়েছে, চুক্তি সই হওয়ার পর তাঁকে জানানো হয়েছে ওপর থেকে নির্দেশ এসেছে, তাই নাম বাদ দিতে হবে। তাঁর কথায়, “আমার সঙ্গে অন্যায় হয়েছিল। আমি মেনে নিয়েছি, প্রতিবাদ করেছি। কিন্তু সেই সময় কোনও শিল্পীকে আমি পাইনি। আমার পাশে কেউ ছিল না।” তাই যাঁরা এমন পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন, তাঁরা যেন আবার টলিউডে ফিরে আসেন, সেটাই চান তিনি।

You cannot copy content of this page