‘দিদি গো’ গান গেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয় উদযাপন ঊষা উত্থুপের? তৃণমূলের পনেরো বছরের রাজত্বের অবসান! বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্র বদলাতেই, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে বিতর্কে জড়ালেন বর্ষীয়ান গায়িকা?

তৃণমূলের টানা পনেরো বছরের রাজত্বের অবসান ঘটিয়ে বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তনের সাক্ষী রইল রাজ্য, ৪ মে ২০২৬ সেই ঐতিহাসিক দিনের পরই নতুন বিতর্কে জড়ালেন ঊষা উত্থুপ! নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরেই রাজ্যের বহু জায়গায় উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়। সাধারণ মানুষের একাংশ রাস্তায় নেমে ফল উদযাপন করেন। এই আবহের মধ্যেই হঠাৎ বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন প্রবীণ সঙ্গীতশিল্পী ঊষা উত্থুপ। সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও ঘিরে শুরু হয় নতুন আলোচনা। সেখানে দেখা যায়, তিনি মঞ্চে ‘দিদি গো’ গান গাইছেন। এরপরই অনেকের দাবি, এই গানের মাধ্যমে তিনি নাকি তৃণমূল নেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয় উদযাপন করেছেন।

মুহূর্তে সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে নেটদুনিয়ায়। জানা যায়, সম্প্রতি একটি লাইভ অনুষ্ঠানে ঊষা উত্থুপ আলজেরিয়ান গায়ক ও সুরকার খালেদের জনপ্রিয় আরবি গান ‘দিদি’-র বাংলা সংস্করণ পরিবেশন করেন। কিন্তু ভিডিও সামনে আসতেই নানা ব্যাখ্যা দিতে শুরু করেন নেটিজেনদের একাংশ। তাঁদের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘনিষ্ঠমহলে ‘দিদি’ বলে ডাকা হয় বলেই এই গানকে রাজনৈতিক ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হচ্ছে। এক ব্যক্তির বক্তব্য, “দিদি গো গান গাইছেন কিংবদন্তি শিল্পী ঊষা উত্থুপ। বাংলার মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের রাজনৈতিক পতন উদযাপন করছে। তিনি পরোক্ষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক পরাজয় উদযাপন করছেন।”

এই মন্তব্য ঘিরেই বিতর্ক আরও বাড়তে থাকে। অনেকেই বিষয়টিকে রাজনৈতিক রং দিতে শুরু করেন। আরও একটি পোস্টে দাবি করা হয়, “দিদি বাংলাছাড়া হওয়ার আনন্দে ঊষা উত্থুপ দিদি গো গান গেয়ে খুশি জাহির করলেন। তৃণমূল আমলে নাকি তাঁর অনুষ্ঠান করতে কাটমানি চাওয়া হত। তাই তিনি নাকি বিরক্ত হয়ে মুম্বই চলে গিয়েছিলেন। এখন আবার ফিরে এসেছেন।” এই দাবি নিয়েও জোর চর্চা শুরু হয়। তবে অনেকেই সেই ব্যাখ্যার বিরোধিতা করেন। তাঁদের বক্তব্য, “ভগবান! উনি তো খালেদের বিখ্যাত আরবি গান দিদির বাংলা সংস্করণই গাইছেন।” আরেকজন লেখেন, “এটা খালেদের বিখ্যাত গান দিদির নিজস্ব সংস্করণ।

আমরা ২০০৪ বা ২০০৫ সাল থেকেই এটা শুনে আসছি।” ফলে সামাজিক মাধ্যমে মতভেদ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কেউ রাজনৈতিক বার্তা দেখেছেন, কেউ এটিকে নিছক সঙ্গীত পরিবেশনা বলেছেন। বিতর্ক তীব্র হতেই ৭৮ বছর বয়সি ঊষা উত্থুপ নিজেই বিবৃতি দিয়ে বিষয়টি পরিষ্কার করেন। তিনি জানান, “এক্স হ্যান্ডেল, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপে আমাকে নিয়ে একটি পোস্ট ঘুরছে। সেখানে বেশ কিছু বক্তব্য সম্পূর্ণ ভুল ও বিভ্রান্তিকর।” তিনি আরও বলেন, “যে গানটি নিয়ে এত আলোচনা হচ্ছে, সেটি বহু বছর আগে একটি আরবি সুর দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে গাওয়া বাংলা গান। আমি গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এটি শুধুমাত্র সঙ্গীত পরিবেশনের অংশ হিসেবে গেয়ে আসছি।”

আরও পড়ুনঃ “দই এনেছ?” আজও কানে বাজে সেই ডাক! অভিনয়ে আসার কোনও পরিকল্পনাই ছিল না তাঁর, বাবা-মা কেউই চাননি! কীভাবে মৃণাল সেন তাঁকে গড়ে তুললেন জাত অভিনেত্রী? কিংবদন্তি পরিচালকের ১০৩তম জন্মবার্ষিকীতে আবেগে স্মৃতিমেদুর মমতা শঙ্কর, শোনালেন অজানা সব গল্প?

তাঁর কথায়, গানটির সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য জড়িত নয়। বহু বছর ধরে তিনি একইভাবে এই গান গেয়ে আসছেন বলেও জানান শিল্পী। কলকাতা ছেড়ে মুম্বই চলে যাওয়ার দাবিও সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন ঊষা উত্থুপ। তিনি স্পষ্ট বলেন, “আমি ১৯৭৬ সাল থেকে কলকাতাতেই বাস করছি এবং কখনও কলকাতা ছেড়ে মুম্বই চলে যাইনি। কলকাতাই সবসময় আমার বাড়ি ছিল এবং এখনও আমি এখানেই ভালোবাসা নিয়ে আছি এবং কাজও করছি। যে ধরনের ব্যাখ্যা, মন্তব্য ও রাজনৈতিক গল্প বোনা হচ্ছে সেগুলি কোনওটাই আমার কথা নয়। এধরনের বিতর্কে আমাকে অযথা জড়াবেন না। কারণ এর সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক নেই।” তাঁর এই বিবৃতির পরও বিতর্ক পুরোপুরি থামেনি, তবে শিল্পী নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

You cannot copy content of this page