“আমি অনেকদিন আগেই দল থেকে সরে আসছিলাম… ফেল করবে আশা করেছিলাম, কারণ সরকার আদর্শচ্যুত হচ্ছিল!” তৃণমূলের ভরাডুবি নিয়ে বিস্ফো’রক প্রাক্তন বিধায়ক চিরঞ্জিত চক্রবর্তী!

তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক চিরঞ্জিত চক্রবর্তী (Chiranjeet Chakraborty)। দীর্ঘদিন সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার পর তিনি এবার নতুন সরকারের প্রতি আশার কথা শোনালেন। তাঁর কথায়, মানুষ পরিবর্তনের জন্য ভোট দিয়েছে এবং সেই পরিবর্তনের মর্যাদা রাখা এখন নতুন সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। তিনি মনে করেন, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে যদি নতুন সরকার কাজ করে, তাহলে বাংলার উন্নয়নের নতুন রাস্তা খুলে যেতে পারে। বিশেষ করে কেন্দ্র ও রাজ্যের সংঘাত কমে গেলে প্রশাসনিক কাজ অনেক সহজ হবে বলেও মত তাঁর।

অভিনয়ের পাশাপাশি বহু বছর ধরে রাজনীতির ময়দানেও পরিচিত মুখ ছিলেন চিরঞ্জিত। বারাসাত কেন্দ্র থেকে টানা তিনবার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। তবে রাজনৈতিক জীবনের শেষ কয়েক বছরে ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নিতে শুরু করেছিলেন অভিনেতা। তাঁর দাবি, ২০১৬ সালের পর থেকেই তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু দলীয় নেতৃত্ব তাঁকে বারবার নির্বাচনে দাঁড়ানোর জন্য অনুরোধ করে। এমনকি ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগেও তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে আর ভোটের লড়াইয়ে থাকতে চান না।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে যখন প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হয়, তখনই চিরঞ্জিত স্পষ্ট করে দেন যে এবার তিনি আর প্রার্থী হচ্ছেন না। জানা যায়, তিনি ব্যক্তিগতভাবে মমতা ব্যানার্জিকে অনুরোধ করেছিলেন তাঁকে রাজনৈতিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য। অবশেষে সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। কিন্তু ভোটের ফল প্রকাশের পর যে তৃণমূল কংগ্রেস এত বড় ধাক্কা খাবে, তা নিয়ে তাঁর মন্তব্য এখন রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু করেছে। সম্প্রতি একটি ছবির প্রিমিয়ারে উপস্থিত হয়ে তিনি খোলাখুলি নিজের অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক হতাশার কথা জানান।

চিরঞ্জিতের কথায়, তিনি আগে থেকেই বুঝতে পারছিলেন যে দলের পরিস্থিতি ভাল নয়। যদিও এত বড় পরাজয়ের কথা তিনি কল্পনাও করেননি। অভিনেতা বলেন, “আমি ফেল করব আশা করেছিলাম। এভাবে ডাহা ফেল করব সেটা বুঝতে পারিনি। এটা আমার কাছে চিন্তাভাবনার বাইরে।” তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, দলের ভিতরে থেকেই তিনি নানা সমস্যার ইঙ্গিত পাচ্ছিলেন। তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন, কারণ তিনি অনুভব করছিলেন যে দল এবং সরকার নিজেদের মূল আদর্শ থেকে সরে যাচ্ছে।

এই প্রসঙ্গেই তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর সবচেয়ে বড় অভিযোগ উঠে আসে। চিরঞ্জিত বলেন, “আমি আদর্শ থেকে সরছিলাম। কারণ সরকারও আদর্শচ্যুত হচ্ছিল।” তাঁর মতে, যে লক্ষ্য এবং প্রত্যাশা নিয়ে ২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় এসেছিল, বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতির অনেকটাই পূরণ করা সম্ভব হয়নি। সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থতার কারণেই ধীরে ধীরে মানুষের সমর্থন কমতে থাকে বলেও মনে করেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “ঘটনাচক্রে সবটাই মিলে গেল। আমায় ছাড়ল, আর তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়ল।” তাঁর এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।

আরও পড়ুন: খোলা মঞ্চে অনুষ্ঠান করা শিল্পীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক! বেসামাল আয়োজকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক, রাতের শো নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে খোলা চিঠি মেদিনীপুরের ভূমিকন্যা শিশু শিল্পী অঙ্কনার

তবে শুধুই সমালোচনা নয়, নতুন সরকারের প্রতি আশার কথাও শোনাতে ভোলেননি চিরঞ্জিত। তাঁর বক্তব্য, বাংলার মানুষ নতুন করে উন্নয়নের স্বপ্ন দেখছে এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করাই এখন সরকারের প্রধান কাজ। তিনি বলেন, “আমরা অনেক প্রত্যাশা নিয়ে ২০১১ সালে ক্ষমতায় এসেছিলাম, কিন্তু তা পূরণ করতে পারিনি। আমরা পাশ করতে পারলাম না পরীক্ষায়। আমি আশা করব এবার তারা পারবেন।” পাশাপাশি তিনি মনে করেন, কেন্দ্রের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন কমে গেলে রাজ্যের উন্নয়নের কাজ আরও দ্রুত এগোতে পারে। তাঁর আশা, এবার আর কেন্দ্রের বঞ্চনার অভিযোগ নিয়ে রাজ্যকে বারবার সরব হতে হবে না এবং উন্নয়নের রাজনীতি সামনে আসবে।

You cannot copy content of this page