“ইন্ডাস্ট্রিতে বড্ড বেশি খেয়োখেয়ি চলছিল.. আবার সোনার ইন্ডাস্ট্রি তৈরি হবে” তৃণমূল আমলেই টলিউডের ভিত নড়ে যাওয়ার আভাস পেয়েছিলেন চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী! রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ইন্ডাস্ট্রির আশায় বিজেপি সরকারের দিকেই তাকিয়ে তৃণমূলী অভিনেতা?

রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই টলিউডের অন্দরমহল নিয়ে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য সামনে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে ইন্ডাস্ট্রির ভেতরে রাজনৈতিক প্রভাব, পক্ষপাতিত্ব এবং কাজের ক্ষেত্রে বিভাজনের অভিযোগ নিয়ে চর্চা চললেও, এবার সেই বিষয়গুলো নিয়েই খোলাখুলি মুখ খুলতে শুরু করেছেন অনেক শিল্পী। কেউ সরাসরি অভিযোগ তুলছেন, কেউ আবার ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিচ্ছেন যে গত কয়েক বছরে বাংলা ইন্ডাস্ট্রির পরিবেশ অনেকটাই বদলে গিয়েছিল। এই পরিস্থিতির মধ্যেই অভিনেতা চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী টলিউডের বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের মতামত জানালেন। তাঁর কথায় উঠে এল রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ইন্ডাস্ট্রির ভিত নড়ে যাওয়ার আশঙ্কা, আবার সেই জায়গা থেকেই নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর আশাও।

চিরঞ্জিৎ একসময় সক্রিয়ভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রাজনীতির ময়দানেও তিনি যথেষ্ট পরিচিত মুখ ছিলেন। তবে অভিনেতার কথায়, তিনি অনেকদিন ধরেই বুঝতে পারছিলেন যে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে। সরকারের কিছু আদর্শ এবং কাজের ধরন তাঁর ভালো লাগছিল না বলেই তিনি ধীরে ধীরে দূরত্ব তৈরি করতে শুরু করেছিলেন। যদিও তিনি সরাসরি কাউকে আক্রমণ করেননি, তবে তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল যে রাজনৈতিক প্রভাব শিল্পের জগতে অতিরিক্তভাবে ঢুকে পড়েছিল। অভিনেতার মতে, ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের জায়গায় যোগ্যতার থেকে অন্য বিষয় বেশি গুরুত্ব পেতে শুরু করেছিল, আর সেই কারণেই একটা অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে চিরঞ্জিৎ বলেন, “বড্ড বেশি এদিক-সেদিক নাড়াচাড়া চলছিল ইন্ডাস্ট্রিতে।” তাঁর মতে, শিল্পের জায়গাটা কখনও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মঞ্চ হওয়া উচিত নয়। তিনি স্পষ্টভাবেই বলেন, “ইন্ডাস্ট্রি যদি আগের মতো হয়ে যায়, যদি এই রাজনৈতিক ইনফ্লুয়েন্সটা একেবারেই না আসে, তাহলে খুবই ভালো হবে।” অভিনেতার বিশ্বাস, শিল্পের জগৎ স্বাধীন থাকলেই সেখানে সৃজনশীলতা এবং সুস্থ পরিবেশ ফিরে আসতে পারে। তাঁর মতে, গত কয়েক বছরে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যেখানে শিল্পীরা অনেক সময় নিজেদের মতামত খোলাখুলি বলতে ভয় পেতেন। সেই পরিবেশ থেকে বেরিয়ে আসাটাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

তবে শুধুই সমালোচনা নয়, ভবিষ্যৎ নিয়ে আশার কথাও বলেছেন চিরঞ্জিৎ। তাঁর মতে, এখন ধীরে ধীরে একটা পরিবর্তনের হাওয়া তৈরি হচ্ছে এবং সেই পরিবর্তন টলিউডের জন্য ইতিবাচক হতে পারে। অভিনেতা বলেন, “হয়তো আমরা আবার সারভাইভ করে যাব, ওই চাপ থেকে মুক্ত হব।” তাঁর বিশ্বাস, বাংলা ইন্ডাস্ট্রির নিজস্ব শক্তি এবং সংস্কৃতি এখনও পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। সঠিক পরিবেশ তৈরি হলে আবারও সুস্থ প্রতিযোগিতা, ভালো গল্প এবং মানসম্মত কাজ ফিরে আসবে। তিনি আরও বলেন, বাংলা সিনেমার একটা আলাদা ঐতিহ্য রয়েছে, আর সেই ঐতিহ্যই আবার নতুন করে শিল্পীদের একজোট করতে পারে।

আরও পড়ুনঃ একেই বলে রাজনৈতিক সৌজন্যতা! অ্যাকাডেমিতে বিরল ছবি, তৃণমূল নেতা পার্থর নাটক দেখে প্রশংসায় ভরালেন বিজেপি নেতা শমীক

সবশেষে চিরঞ্জিতের বক্তব্যে একটা বড় বার্তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে শিল্পের জগৎকে রাজনীতির বাইরে রাখাই সবচেয়ে জরুরি। তাঁর মতে, যখন কোনও ইন্ডাস্ট্রিতে অতিরিক্ত প্রভাব বা বিভাজন তৈরি হয়, তখন সৃজনশীলতা ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। তাই তিনি আশা করছেন, আগামী দিনে বাংলা ইন্ডাস্ট্রি আবার নিজের পুরনো ছন্দে ফিরবে এবং শিল্পীরা স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পাবেন। অভিনেতার এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই টলিউডে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। অনেকেই মনে করছেন, চিরঞ্জিতের বক্তব্য শুধু একজন অভিনেতার ব্যক্তিগত মতামত নয়, বরং দীর্ঘদিনের জমে থাকা এক বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রতিফলন।

You cannot copy content of this page