২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই টালিগঞ্জের নতুন বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীকে ঘিরে রাজনৈতিক এবং বিনোদন জগতে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘ ২০ বছর পর তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত টালিগঞ্জ কেন্দ্রে অরূপ বিশ্বাসকে হারিয়ে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে জয় পেয়েছেন তিনি। জয়ের পর থেকেই একের পর এক মন্তব্য করে খবরের শিরোনামে উঠে আসছেন অভিনেত্রী থেকে রাজনীতিক হওয়া পাপিয়া। এবার বাংলা ধারাবাহিকের বিষয়বস্তু নিয়েই সরাসরি মুখ খুললেন তিনি। তাঁর দাবি, বাংলা সিরিয়ালে বারবার ‘পরকীয়া’ দেখানো বন্ধ হওয়া উচিত। সংবাদ মাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “দর্শকদের জন্য, আপনাদের ভালোলাগার জন্য কাজ করতে চাই।
আপনারা এর আগে খুব বিরক্ত হয়েছেন। বারবার করে বলেছেন, এসব পরকীয়া আমরা আর দেখতে চাই না। কারণ এতে সংসারের ভারসাম্য নষ্ট হয়, এটা আপনারাই বলেছিলেন।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই টলিপাড়ায় শুরু হয়েছে জোর চর্চা। পাপিয়া অধিকারী আরও জানান, তিনি এর আগেও ধারাবাহিক নির্মাতাদের এই বিষয়ে প্রশ্ন করেছিলেন। তাঁর কথায়, “যারা এসব বানায়, আমি তাদের জিজ্ঞাসা করেছিলাম, কেন এগুলো লেখ তোমরা, জবাব আসত, ‘দর্শকরা এটা খাবে’!” এরপরই নিজের বক্তব্য বোঝাতে একটি উদাহরণও দেন তিনি। পাপিয়া বলেন, “খাওয়ানোটা বড় কথা নয়, সে তো একটা বাচ্চাকেও জোর করে খাওয়ানো যায়। কিন্তু বাচ্চাকে যদি আমরা সুষম খাবার না দেই, তাহলে অপুষ্টি হয়।”
এখানেই থেমে না থেকে তিনি স্পষ্ট করে দেন, ভবিষ্যতে দর্শকদের জন্য অন্য ধরনের কনটেন্ট তৈরির উপর জোর দেওয়া হবে। তাঁর ভাষায়, “তেমনই ঠিকঠাক সুষম বিনোদন যেখানে আছে, সেই সমস্ত কনটেন্ট আমরা বানাব। মাথার নিউট্রিশন, চোখের নিউট্রিশন, মনের নিউট্রিশন।” তাঁর এই বক্তব্যকে ঘিরে দর্শকদের একাংশের মধ্যেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অভিনয়ের জগতে পাপিয়া অধিকারীর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। ১৯৮৫ সালে রতিশ দে সরকার পরিচালিত ‘সোনার সংসার’ ছবির মাধ্যমে অভিনয় জীবন শুরু করেছিলেন তিনি। এরপর ধীরে ধীরে বাংলা সিনেমা এবং টেলিভিশনের পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।
আরও পড়ুন: মাকে হারানোর যন্ত্রণা আজও তাজা! দুঃসহ স্মৃতি বুকে নিয়েই, ৫ বছর পর অদিতি সিংয়ের মৃ’ত্যুবার্ষিকীতে ফের ব্যতিক্রমী উদ্যোগে নজির গড়লেন অরিজিৎ সিং!
তাঁর অভিনীত জনপ্রিয় ছবির তালিকায় রয়েছে ‘মাদার ইন্ডিয়া’, ‘আমার মায়ের শপথ’ এবং ‘শঙ্কা’র মতো সিনেমা। শুধু বড় পর্দা নয়, ছোট পর্দার একাধিক জনপ্রিয় ধারাবাহিকেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। তবে মাঝের দীর্ঘ একটা সময় অভিনয় জগত থেকে অনেকটাই দূরে ছিলেন পাপিয়া। এবার রাজনৈতিক ময়দানে জয়ের পর ফের নতুনভাবে আলোচনায় উঠে এসেছে তাঁর নাম। রাজনৈতিক দায়িত্বের পাশাপাশি বিনোদন জগত নিয়েও যে তিনি সক্রিয়ভাবে ভাবতে শুরু করেছেন, সেই ইঙ্গিতই মিলছে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যে। পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পর টলিপাড়াতেও বড়সড় বদলের ইঙ্গিত মিলছে।
নতুন সরকারের তরফে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই বিজেপির চার বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী, রুদ্রনীল ঘোষ, রূপা গঙ্গোপাধ্যায় এবং হিরণ চট্টোপাধ্যায়কে বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছেন। সূত্রের খবর, টলিউডের বিভিন্ন সমস্যা এবং দীর্ঘদিনের অস্থিরতা দূর করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সংগঠন, শিল্পী এবং কলাকুশলীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হবে বলে জানা যাচ্ছে। টলিপাড়ার একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কাজের পরিবেশ নিয়ে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, সেই বিষয়গুলিও নতুন করে খতিয়ে দেখা হতে পারে। পাপিয়া নিজেও জানিয়েছেন, দর্শকদের চাহিদা এবং সুস্থ বিনোদনের বিষয়টি এখন থেকে বেশি গুরুত্ব পাবে। তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই দিকেই ইঙ্গিত করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই টেকনিশিয়ানদের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তুতিও শুরু করেছেন পাপিয়া অধিকারী। জানা গিয়েছে, বুধবার তিনি টলিউডের টেকনিশিয়ানদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছেন। সেখানে কাজের পরিবেশ, ধারাবাহিকের বিষয়বস্তু এবং শিল্পীদের নানা সমস্যার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন সরকারের তরফে টলিউডে ‘আরাজকতা’ বন্ধ করার যে বার্তা দেওয়া হয়েছে, সেই নিয়েই এখন জোর চর্চা চলছে। তবে বাস্তবে কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং বাংলা ধারাবাহিকের বিষয়বস্তুতে সত্যিই কোনও পরিবর্তন আসে কি না, সেটাই এখন দেখার। পাপিয়ার বক্তব্য ইতিমধ্যেই দর্শক মহল থেকে শুরু করে টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির ভিতরেও নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। আগামী দিনে এই বিষয়ে আরও কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তার দিকেই নজর থাকবে সকলের।






