বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে সোহম চক্রবর্তীকে ঘিরে জল্পনা বাড়ছিল। নদীয়ার করিমপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হওয়া এই অভিনেতাকে ভোটের পর প্রকাশ্যে খুব একটা দেখা যায়নি। এর মাঝেই সামনে এল তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ। সোহম দাবি করেছেন, এক প্রযোজক তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন। অভিনেতার কথায়, “আমি অভিভূত”, কারণ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করছেন, তা তাঁর ভাল লেগেছে। একই সঙ্গে তিনি বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছেও আবেদন জানিয়েছেন। সোহম বলেন, “যাঁরা অন্যায় করছেন তাঁদের বিরুদ্ধে যেন শুভেন্দু অধিকারী যথাযথ পদক্ষেপ করেন।” শুধু তাই নয়, নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়ার অনুরোধও জানিয়েছেন অভিনেতা। এই ঘটনার পর থেকেই নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা।
রাজনীতি ছাড়ছেন কি না, এই প্রশ্নের জবাবে সোহম স্পষ্ট করে বলেন, “রাজনীতি ছাড়ব না৷ এটুকু বলতে পারি৷ বাকিটা সময় বলবে৷” তবে ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদযাত্রায় তাঁকে দেখা যাবে কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত উত্তর দেননি অভিনেতা। তাঁর কথায়, সেই সময় তিনি কলকাতার বাইরে থাকতে পারেন। পাশাপাশি মানসিকভাবেও কিছুটা সময় নিজের জন্য দরকার বলেও জানিয়েছেন তিনি। ভোটের ফলের পর নিজেকে আড়ালে রাখার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সোহম বলেন, “এখন নিজেকে সময় দিচ্ছি৷ নতুন ভাবনাচিন্তা চলছে৷” তিনি আরও জানান, রাজনীতির কারণে অভিনয় থেকে দীর্ঘদিন দূরে থাকতে হয়েছে। “সেটা আমার কেরিয়ারে তো কিছুটা হলেও ক্ষতি,” বলেও মন্তব্য করেন অভিনেতা। পাশাপাশি ভোট প্রচারের জন্য দেড় মাস বাড়ির বাইরে থাকার পর অসুস্থ বাবার পাশে সময় কাটাতে চাইছেন বলেও জানান তিনি।
এরপরই ২০১৮ সালের একটি ঘটনার কথা সামনে আনেন সোহম। অভিনেতার দাবি, তখন তৃণা ফিল্মসের একটি ছবিতে অভিনয়ের কথা হয়েছিল। তিনি জানান, প্রযোজক তরুণ দাসের সঙ্গে তাঁর সরাসরি কথা হয়নি, তবে ইপি অমিতাভ মুখার্জি ও পরিচালক মহুয়া চক্রবর্তী তাঁকে গল্প শোনান। গল্প পছন্দ হওয়ায় তিনি কাজ করতে রাজি হন। সোহমের কথায়, “মহুয়া তখন প্রযোজকের তরফে ১৫ লক্ষ টাকার একটা চেক আমাকে দিয়েছিলেন৷” কিন্তু পরে ছবিটি আর তৈরি হয়নি। অভিনেতার দাবি, এই ছবির জন্য তাঁকে অন্য কাজও ছাড়তে হয়েছিল। কিছুদিন পর পরিচালক মহুয়া চক্রবর্তী জানান, তিনিও আর এই ছবির সঙ্গে থাকছেন না। বহু বছর পরে হঠাৎ সেই ১৫ লক্ষ টাকা ফেরত চেয়ে চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন সোহম। তাঁর দাবি, দু’দিন আগে সেই প্রযোজক তাঁকে টাকা ফেরতের কথা বলেন এবং ছবিটি না হওয়ার জন্য তাঁকেই দায়ী করেন।
সোহম অবশ্য জানিয়েছেন, ২০২১ সালের পর রাজনীতির কারণে তিনি ব্যস্ত হয়ে পড়লেও ছবির সমস্যা শুরু হয়েছিল অনেক আগেই। অভিনেতার কথায়, “আমি এতবড় স্টার নই যে ২ বছর ধরে আমার ডেট থাকবে না৷” তিনি আরও বলেন, টাকা ফেরত দেওয়া সম্ভব নয়, কারণ তিনি এখনও ছবিতে কাজ করতে প্রস্তুত। “আপনি ছবি করলে আমি কাল থেকেই কাজ শুরু করব,” এমন কথাও তিনি প্রযোজককে বলেছেন বলে দাবি করেন। বিষয়টি পরিষ্কার করতে তিনি মহুয়া চক্রবর্তীকেও ফোন করেন। সোহমের দাবি, মহুয়াও তাঁকে জানান যে তাঁর জন্য ছবির সমস্যা হয়নি। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ অভিনেতার। সোহম বলেন, “তারপরেই প্রযোজক হুমকি দেন গুলি করে উড়িয়ে দেবেন৷” শুধু তাই নয়, একাধিক অশালীন কথাও বলা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে অন্য নম্বর থেকে ফোন করে তাঁকে বলা হয়, “লড়াইটা শুরু করে ঠিক করলেন?” এই কথাতেই আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন অভিনেতা।
আরও পড়ুনঃ “কোথায় যে কী কী ঘটে, আমরা সবাই জানি!” নতুন করে আরজি কর মামলার ফাইল খুলতেই, একজোট টলিউড অভিনেত্রীরা! মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কী নিয়ে বৈঠকের আর্জি রূপাঞ্জনা মিত্র, চৈতি ঘোষাল ও ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তদের?
সোহম আরও দাবি করেছেন, সেই প্রযোজক ফোনে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং অভিনেত্রী রূপা গাঙ্গুলির নামও উল্লেখ করেছিলেন। এরপরই তিনি নিজে রূপা গাঙ্গুলির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিনেতার কথায়, রূপা গাঙ্গুলি তাঁর কাছ থেকে সমস্ত নথিপত্র চেয়েছেন এবং আশ্বাস দিয়েছেন যে এই টাকা ফেরত দিতে হবে না। একই সঙ্গে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন সোহম। তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে আমি ভীত কারণ আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে৷” শুধু তাই নয়, তাঁর নাম করে আত্মহত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন অভিনেতা। পরিবার নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন বলেও জানান তিনি। পুরো ঘটনায় রাজনৈতিক মহল থেকে টলিউড, দুই জায়গাতেই নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে সোহম চক্রবর্তীকে ঘিরে।






