বর্তমান প্রজন্মের সম্পর্ক, বিয়ে এবং কমিটমেন্ট নিয়ে ভাবনাচিন্তা আগের তুলনায় অনেকটাই বদলে গিয়েছে। এখনকার তরুণ-তরুণীরা জীবনের সিদ্ধান্ত নিতে অনেক বেশি বাস্তববাদী বলেই মনে করছেন সমাজের একাংশ। কেউ সহজে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে জড়াতে চাইছেন না, আবার কেউ বিয়ে বা সংসারের দায়িত্ব এড়িয়ে নিজের মতো জীবন কাটাতে চাইছেন। সোশ্যাল মিডিয়া, কর্মজীবনের চাপ, সম্পর্ক ভাঙার অভিজ্ঞতা এবং স্বাধীনভাবে বাঁচার ইচ্ছা সব মিলিয়ে নতুন প্রজন্মের জীবনদর্শন এখন অনেকটাই আলাদা। এই পরিবর্তন নিয়ে সমাজে যেমন সমালোচনা রয়েছে, তেমনই অনেকেই মনে করছেন সময়ের সঙ্গে মানুষের চিন্তাভাবনা বদলানো স্বাভাবিক।
এই বিষয় নিয়েই সম্প্রতি মুখ খুলেছেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও দিদি নাম্বার ওয়ান-এর সঞ্চালিকা রচনা ব্যানার্জি, দীর্ঘদিন ধরেই শুধু অভিনয় বা টেলিভিশনের পর্দাতেই নয়, সমাজের নানা বিষয় নিয়েও নিজের মতামত প্রকাশ করতে দেখা যায় তাঁকে। সম্পর্ক, পরিবার, নারীর স্বাধীনতা কিংবা নতুন প্রজন্মের মানসিকতা একাধিক বিষয় নিয়ে অকপটে কথা বলেন তিনি। সাধারণ মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ থাকার কারণে সমাজের পরিবর্তনগুলোকেও খুব কাছ থেকে দেখেছেন অভিনেত্রী। আর সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার বর্তমান প্রজন্মের সম্পর্ক নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরলেন তিনি।
রচনা ব্যানার্জির কথায়, এখনকার অনেক ছেলে-মেয়ে কমিটমেন্টে যেতে ভয় পায়। তাঁর মতে, অনেকেই মনে করেন একটি সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত টিকে নাও থাকতে পারে, তাই শুরু থেকেই তারা মানসিকভাবে দূরত্ব বজায় রাখে। অভিনেত্রী বলেন, “এখন সময় বদলেছে। সময়ের সঙ্গে নিজেকেও বদলাতে হবে। আজকের যুগ যেমন, মানুষকেও তেমনভাবে চলতে হবে।” তিনি আরও জানান, এখনকার প্রজন্মের অনেকেই একটি মাত্র সম্পর্ক বা সারাজীবন একসঙ্গে থাকার ধারণায় বিশ্বাসী নয়। কারণ তারা সম্পর্ক ভাঙার কষ্ট কিংবা মানসিক চাপ এড়িয়ে চলতে চায়।
শুধু সম্পর্ক নয়, বিয়ে ও মাতৃত্ব নিয়েও বর্তমান প্রজন্মের ভাবনা বদলেছে বলেই মনে করেন অভিনেত্রী। তাঁর বক্তব্য, কেউ হয়তো বিয়ে করতে চাইছেন না, আবার কেউ বিয়ে করলেও মা হতে চান না। আর সেটাকে তিনি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পছন্দ বলেই মনে করেন। রচনার মতে, প্রত্যেক মানুষের জীবন দেখার দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা। কেউ হয়তো দায়িত্ব বা কমিটমেন্টের মধ্যে নিজেকে বেঁধে রাখতে চান না। বরং তারা নিজের মতো করে আনন্দে জীবন কাটাতে বেশি স্বচ্ছন্দ। অভিনেত্রী বলেন, “দু’দিনের জীবন, সবাই এখন দুঃখ নয় আনন্দ নিয়ে বাঁচতে চায়।” তাঁর মতে, এই মানসিকতাকে পুরোপুরি ভুল বলা যায় না।
আরও পড়ুন: টলিপাড়ায় সুখবর! বিয়ের চার বছর পর, মা হতে চলেছেন রোশনি ভট্টাচার্য! বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে, স্বামীকে পাশে নিয়েই নতুন অধ্যায় ঘোষণা অভিনেত্রীর! আর বেশি দেরি নেই? কবে, আসছে ছোট্ট অতিথি?
রচনা ব্যানার্জির এই মন্তব্য সামনে আসার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। অনেকেই অভিনেত্রীর বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন। তাঁদের মতে, বর্তমান সময়ে সম্পর্ক ও বিয়ে নিয়ে নতুন প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো অস্বাভাবিক নয়। আবার অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করছেন, অতিরিক্ত স্বাধীনতার চিন্তা ভবিষ্যতে পারিবারিক মূল্যবোধে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সব বিতর্কের মাঝেও রচনা ব্যানার্জির বক্তব্য স্পষ্ট নতুন প্রজন্মকে শুধুমাত্র সমালোচনা না করে তাদের মানসিকতা বোঝার চেষ্টা করা উচিত। কারণ সময় বদলালে মানুষের জীবন দেখার ধরনও বদলায়, আর সেটাই হয়তো বর্তমান সমাজের বাস্তব ছবি।






