দেশের অন্যতম জনপ্রিয় গায়ক অরিজিৎ সিং শুধু গান নিয়েই নয়, সামাজিক নানা বিষয়েও নিজের মতামত প্রকাশ করতে পিছপা হন না। অতীতেও বিভিন্ন ঘটনার সময় তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। সম্প্রতি দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র আন্দোলনের সমর্থনে সরব হওয়ার পর ফের চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন তিনি। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে করা তাঁর একাধিক মন্তব্যকে ঘিরে যেমন সমর্থন মিলেছে, তেমনই সমালোচনাও শুরু হয়েছে। তবে সেই সমালোচনার জবাব দিতেও নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই এগিয়েছেন অরিজিৎ।
আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলতে গিয়ে অরিজিৎ দেশের বিভিন্ন জায়গায় নির্বিচারে গাছ কাটার বিষয়টিও সামনে আনেন। সেই সময় এক চিকিৎসক তাঁকে প্রশ্ন করেন, “প্রতিটি গাছ কাটার বদলে নতুন চারা রোপণ করা হচ্ছে কি না, তা কি খোঁজ নিয়েছেন?” এই মন্তব্যের উত্তরে গায়ক স্পষ্ট জানান, এমন যুক্তি তাঁর কাছে বিস্ময়কর লেগেছে। তাঁর মতে, একজন চিকিৎসকের কাছ থেকে এমন মন্তব্য তিনি আশা করেননি। তিনি আরও বলেন, একজন মালি বা উদ্যানপালকও এই বিষয়টি আরও ভালোভাবে ব্যাখ্যা করতে পারতেন। এরপর অরিজিৎ নিজের বক্তব্যে বলেন, “একটি শতবর্ষী বা প্রবীণ বৃক্ষ শুধু কিছু কাঠ বা পাতা নয়, তা এক আস্ত বাস্তুতন্ত্রের অভিভাবক।
নতুন রোপণ করা চারা গাছ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হলেও, তা কখনই বহু দশকের পুরোনো মহীরুহের বিকল্প হতে পারে না। রাস্তা, অট্টালিকা বা শিল্প কারখানা আবার নতুন করে গড়া যায়; কিন্তু বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া প্রাচীন অরণ্যকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। গাছেরা নিজের কথা নিজে বলতে পারে না, তাই নাগরিক হিসেবে এই প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের হয়ে কথা বলা আমাদেরই দায়িত্ব।” তাঁর এই বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। এদিকে একজন ক্ষুব্ধ অনুরাগী সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, তিনি বহুদিন অরিজিতের ভক্ত ছিলেন।
কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান দেখে তিনি হতাশ এবং এখন গায়ককে ঘৃণা করেন। সেই মন্তব্যেরও সরাসরি উত্তর দেন অরিজিৎ। তিনি লেখেন, “কেউ আমার অনুরাগী বলেই তাঁকে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলতে হবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা আমার নেই। কে আমায় সম্মান করল বা করল না, তা নিয়ে আমি বিন্দুমাত্র চিন্তিত নই। তবে আপনার অনুভূতিতে আঘাত লেগে থাকলে একজন মানুষ হিসেবে ক্ষমাপ্রার্থী। আমি ভীষণই ক্ষুব্ধ। আমাকে স্বাধীন মত প্রকাশের জন্য ক্ষমা করবেন! আপনি চাইলে আপনার প্লেলিস্ট থেকে আমার সব গান ডিলিট করে দিতে পারেন এবং আমার অস্তিত্ব ভুলে যেতে পারেন। ভাল থাকুন।”
এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল দিল্লি পুলিশ এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বকে উদ্দেশ্য করে অরিজিতের একটি পোস্ট থেকে। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, “হ্যালো নেতা-মন্ত্রী, হ্যালো দিল্লি পুলিশ! আপনারা লজ্জিত নন? কী চলছে এসব? নিজেদের কি ঈশ্বর মনে করছেন? সব মনে রাখা হবে। হর হর মহাদেব! মনে রাখবেন, পরিবর্তনই একমাত্র সত্যি।” এই মন্তব্যের পর থেকেই সমাজমাধ্যমে তাঁকে ঘিরে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়। কেউ তাঁর স্পষ্ট অবস্থানকে সমর্থন করেন, আবার কেউ তীব্র সমালোচনা করেন। তবে বিতর্ক বাড়লেও নিজের অবস্থান থেকে যে তিনি সরে আসতে রাজি নন।
আরও পড়ুনঃ ‘আমাদের যেটা প্রাপ্য, সেটাই তো পাচ্ছি, আমার মনে হচ্ছে মানুষ বিশ্বাস রাখছেন…’ সোনাম ওয়াংচুকের আন্দোলন থেকে নাবালিকা ধ*র্ষণ, দেশে কর্মসংস্থানের সংকট থেকে টলিউডের দুর্নী’তি! বর্তমান সমাজের মূল্যবোধ নিয়ে কেন এত ক্ষু’ব্ধ ঋত্বব্রত মুখোপাধ্যায়? কীভাবে নিজেদের ভবিষ্যৎ বেছে নিচ্ছেন মানুষ, সমাজব্যবস্থা নিয়ে কড়া প্রশ্ন তুললেন তরুণ অভিনেতা?
সেটাই আরও একবার স্পষ্ট করেছেন অরিজিৎ সিং। সামাজিক ও পরিবেশগত বিষয় হোক কিংবা ছাত্রদের আন্দোলন, নিজের মত প্রকাশের অধিকারকে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন বারবার। শুধু তিনিই নন, এই ঘটনায় রত্না পাঠক শাহ, নাসিরুদ্দিন শাহ এবং শাবানা আজমির মতো একাধিক বর্ষীয়ান শিল্পীও নিজেদের মত প্রকাশ করেছেন। সব মিলিয়ে, সমালোচনা বা ট্রোলিংকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজের বিশ্বাসে অটল থাকার বার্তাই আবারও তুলে ধরলেন জনপ্রিয় এই গায়ক।






