টলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী ‘অনামিকা সাহা’ (Anamika Saha)। খলনায়িকার দাপুটে চরিত্র থেকে আবেগঘন মায়ের ভূমিকায় বহু বছর ধরে দর্শকদের মন জয় করেছেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনেও তাঁকে কম লড়াই করতে হয়নি। গায়ের রং নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে কটাক্ষ শুনতে হয়েছে, আবার অভিনয় জীবনের শুরুর দিকে ইন্ডাস্ট্রির কিছু বড় অভিনেতার কাছ থেকেও অপমান সহ্য করতে হয়েছে বলে একাধিক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন তিনি। এমনকি একসময় তাঁকে বলা হয়েছিল, “সাহা পদবীর শিল্পীরা টলিপাড়ায় বেনোজল!” সেই মন্তব্যে ভেঙে পড়লেও হার মানেননি অনামিকা। অভিনয় দিয়েই নিজের পরিচয় গড়ে তুলেছেন তিনি।
দীর্ঘদিন পর্দার আড়ালে থাকার পর, গত বছর ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’-এর পর, এবার খুব শীঘ্রই নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-এর আগামী ছবি ‘ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড’-এ আবার দেখা যেতে চলেছে তাঁকে। আর সেই ছবির প্রচারে এসে জীবনের আরও এক অজানা অধ্যায় তুলে ধরলেন বর্ষীয়ান এই অভিনেত্রী। জানালেন, ছোটবেলায় নাকি অভিনেত্রী গীতা দে-র (Geeta Dey) পা টিপতে হয়েছে তাঁকে! এদিন ছবির প্রচারে এসে নিজের দীর্ঘ অভিনয় জীবনের কথা বলতে গিয়ে অনামিকা জানান, একসময় অনেকেই তাঁকে গীতা দে-র মেয়ে বলে ভুল করতেন। তাঁর কথায়, “এত নেগেটিভ চরিত্রে অভিনয় করেছি। ঠিক গীতা দের মতো মুখ ঝামটা দিয়ে পর্দায় অভিনয় করেছি।”
সেই কারণেই অনেকে তাঁকে “গীতা দে পার্ট ২” বলেও ডাকতেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, গীতা দের মেয়ে তিনি নন। তবু সম্পর্কটা ছিল একেবারে মা-মেয়ের মতোই! কারণ প্রথম ছবিতেই গীতা দে তাঁর মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। সেই থেকেই তাঁদের সম্পর্ক আরও গভীর হয়ে ওঠে। অনামিকা জানান, খুব অল্প বয়সেই গীতা দে-র সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল। অভিনেত্রীর কথায়, “আসলে গীতা দের সঙ্গে আমার আলাপ ষোলো সতেরো বছর বয়সে। আমি গীতা মা বলেই ডাকতাম।” সেই সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে আরও আবেগঘন হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, “প্রথম ছবিতে আমার মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন,
সেই থেকেই উনি আমার মা হয়েই রয়েছেন আমার মনে।” ছোটবেলার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অনামিকা আরও জানান, “ছোটবেলায় মেকআপ রুমে গীতা মায়ের পা টিপে দিতাম আর বলতাম, দাও না মা একটু অভিনয় শিখিয়ে!” এই অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি বলেও মনে করেন অভিনেত্রী। অভিনয়ের প্রতি তাঁর ভালবাসা ও শেখার আগ্রহ তখন থেকেই ছিল প্রবল। সেই কারণেই এত বাধা, অপমান আর কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি নিজের জায়গা ধরে রাখতে পেরেছেন। প্রসঙ্গত, অভিনয় জীবনের পাশাপাশি রেডিওতেও দীর্ঘদিন কাজ করেছেন অনামিকা সাহা।
তিনি জানান, পাঁচ হাজারেরও বেশি শ্রুতি নাটকে কাজ করেছেন তিনি। বিয়ের পর একসময় অভিনয় থেকে দূরে সরে যাওয়ার কথাও ভেবেছিলেন। কারণ পর্দায় তাঁর নেগেটিভ চরিত্রের প্রভাব ব্যক্তিগত জীবনেও পড়েছিল। অভিনেত্রীর কথায়, “আমি নেগেটিভ চরিত্র পেতাম, তাই আমার বিয়ের পর আমার শ্বশুর মশাই বললেন, তোমার গলা এত মিষ্টি। তুমি অভিনয় ছেড়ে শুধু রেডিওতে কাজ করো।” সেই সময় কিছুদিন সিনেমা থেকেও দূরে ছিলেন তিনি। কিন্তু গীতা দে তাঁকে সেই সিদ্ধান্ত বদলাতে বলেন। অনামিকা জানান, “গীতা মা বলেছিলেন আমায় এটা ঠিক নয়, অভিনয় ছাড়বে কেন?”
আরও পড়ুনঃ “আমার ব্যক্তিগত জীবন খুবই…সবকিছু আপডেট দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করি না” কেন সমাজ মাধ্যম থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখেছেন আবির চট্টোপাধ্যায়? বর্তমান সমাজে প্রচারের ভিড়ে, ব্যতিক্রমী অভিনেতা কী বার্তা দিলেন?
সেই উৎসাহই তাঁকে আবার অভিনয়ে ফিরিয়ে আনে। পরে নিজের দক্ষতায় বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে স্থায়ী জায়গা তৈরি করেন তিনি। উল্লেখ্য, নতুন ছবি ‘ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড’-এ নিজের চরিত্র নিয়েও মুখ খুলেছেন অনামিকা সাহা। তিনি বলেন, এবার দর্শক তাঁকে একেবারে অন্যভাবে দেখতে চলেছেন বলেও ইঙ্গিত দেন অভিনেত্রী। তবে সেই চরিত্রে বিশেষ চমক রয়েছে বলেই দাবি করেন অনামিকা। বহু প্রতিকূলতা, অপমান ও কষ্টের মধ্য দিয়েও নিজের লড়াই থামাননি তিনি। নতুন প্রজন্মের কাছেও তাঁর এই যাত্রা আজ অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।






