ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা এখনও থামেনি। আন্দোলনের বিভিন্ন ছবি, পোস্টার এবং প্রতিবাদ কর্মসূচি নিয়ে একের পর এক বিতর্ক সামনে আসছে। এই আবহেই অভিনেত্রী ‘শ্রীলেখা মিত্র’কে (Sreelekha Mitra) ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। সম্প্রতি আন্দোলনে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানান সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন অভিনেত্রী। সেই সময় তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে নয়, একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে প্রতিবাদ মঞ্চে গিয়েছিলেন। তবে সেই বিতর্কের মধ্যেই এবার আরও বড় আইনি পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।
বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ অভিযোগ করেছেন, ছাত্র আন্দোলনের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিকৃত ছবি প্রদর্শন করা হয়েছে এবং সেই ঘটনায় অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তিনি থানায় গিয়ে শ্রীলেখার নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। কেয়া ঘোষের দাবি, আন্দোলনের নামে যেভাবে জাতীয় প্রতীক এবং দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তির মর্যাদা নিয়ে কটাক্ষ করা হয়েছে, তা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের ঘটনায় আইনের পথে ব্যবস্থা নেওয়াই উচিত।
কেয়া ঘোষ আরও বলেন, আন্দোলনের আড়ালে জাতীয় পতাকার অসম্মান থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর অবমাননা পর্যন্ত করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, কিছু তথাকথিত তারকা এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করছেন বা তার সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। তাঁর কথায়, “আন্দোলনকে সামনে রেখে জাতীয় পতাকার অপমান থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী অবমাননা পর্যন্ত করতে পিছপা হচ্ছেন না তথাকথিত তারকারা। এইসব আর মেনে নেওয়া সম্ভব নয়, বরং শাস্তি পাওয়া দরকার।” তাই তিনি বিষয়টি নিয়ে পুলিশের হস্তক্ষেপ এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, এর আগে আন্দোলনে যোগ দেওয়া নিয়ে সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে শ্রীলেখা মিত্র স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, তিনি কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সেখানে যাননি। তাঁর দাবি ছিল, ছাত্রদের পাশে দাঁড়ানো একজন নাগরিক হিসেবে তাঁর দায়িত্ব বলেই তিনি আন্দোলনে উপস্থিত হয়েছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে নিয়ে নানা মন্তব্য হলেও সেই সব সমালোচনাকে তিনি গুরুত্ব দিতে চাননি। বরং নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি জানিয়েছিলেন, কোনও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোকে তিনি নিজের নাগরিক দায়িত্ব বলেই মনে করেন।
আরও পড়ুনঃ “শিক্ষাকে বাইরে রেখে হিন্দুবিরোধী ধারা ৩৭০-র কথা, ‘টুকরে টুকরে’ স্লোগান, জাতীয় পতাকা উল্টো করে লাগানো বা পায়ের নিচে ফেলা…” নিট আন্দোলনের ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী নন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ নিয়ে মুখ খুললেন রুদ্রনীল! সরকার চাইলে জেদ দেখাতেই পারত, কিন্তু দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে! কেন্দ্রকে প্রশংসায় ভরালেন বিজেপি বিধায়ক!
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে যেমন নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তেমনই সোশ্যাল মিডিয়াতেও শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। একদিকে কেয়া ঘোষের অভিযোগ এবং থানায় মামলা দায়েরের পদক্ষেপ, অন্যদিকে শ্রীলেখা মিত্রের আগের অবস্থান, দুই পক্ষের বক্তব্যই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের।






