পরিচালক অনীক দত্তর রহস্যমৃত্যু ঘিরে সামনে এল ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট। বুধবার গড়িয়াহাট থানা এলাকার একটি আবাসনের ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর জখম হন তিনি। দ্রুত তাঁকে দক্ষিণ কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনার পর থেকেই টলিপাড়ায় নেমে আসে শোকের ছায়া। একই সঙ্গে শুরু হয় নানা প্রশ্নও। ঠিক কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ ইতিমধ্যেই অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। এর মাঝেই সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার হয়েছে। সেখানে লেখা ছিল, মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নন। তবে সেই নোটের হাতের লেখা সত্যিই অনীক দত্তর কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
বুধবারই অনীক দত্তর দেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। সেই প্রাথমিক রিপোর্টে উঠে এসেছে একাধিক গুরুতর আঘাতের কথা। জানা গিয়েছে, তাঁর মাথা এবং ঘাড়ে গভীর চোট ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং শরীরের ভেতরে প্রবল অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণেরও উল্লেখ রয়েছে রিপোর্টে। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মাথার বাঁ দিকে গুরুতর আঘাত লাগে। শুধু তাই নয়, বাঁ দিকের স্কাল বা মাথার খুলির হাড় ভেঙে গিয়েছিল বলেও রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের চিহ্নও পাওয়া গিয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, উপর থেকে নিচে পড়লে এ ধরনের চোট লাগা সম্ভব। তবে পুরো বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন বলেই জানিয়েছে পুলিশ।
প্রাথমিক রিপোর্টে আরও জানা গিয়েছে, শরীরের একাধিক অংশে গুরুতর ক্ষতি হয়েছিল পরিচালকের। বাঁ দিকের পাঁজরের হাড় ভেঙে যায়। বাঁ দিকের পায়ে মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। এছাড়াও বাঁ দিকের কোমর প্রায় চূর্ণবিচূর্ণ অবস্থায় ছিল বলে সূত্রের খবর। মুখ, পিঠ এবং কোমরের বিভিন্ন জায়গায় ঘর্ষণের গভীর দাগ বা অ্যাব্রেশনসও পাওয়া গিয়েছে। ফুসফুসে জমাট রক্ত অর্থাৎ হেমোথোরাক্সেরও উল্লেখ রয়েছে রিপোর্টে। চিকিৎসকদের মতে, এতগুলো গুরুতর আঘাত থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, অনেক উঁচু জায়গা থেকে পড়ে যাওয়ার ফলেই এই শারীরিক ক্ষতি হয়েছে। যদিও ঘটনার পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অনীক দত্তর মৃত্যুর পর উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোট ঘিরেও নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। সূত্রের দাবি, সেই নোটে স্পষ্ট লেখা ছিল, তাঁর মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নন। তবে পুলিশ এখনও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। কারণ, নোটে থাকা হাতের লেখা অনীক দত্তর আসল হস্তাক্ষরের সঙ্গে মেলে কি না, তা ফরেন্সিক পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা পরিচালকের ব্যক্তিগত জীবন, সাম্প্রতিক মানসিক অবস্থা এবং পেশাগত পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখছেন। পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠদের সঙ্গেও কথা বলা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, সমস্ত তথ্য যাচাই করার পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো হবে।
আরও পড়ুনঃ দুঃসংবাদের পর দুঃসংবাদ! এবার ভয়ানক দুর্ঘ’টনার কবলে জনপ্রিয় টলিউড অভিনেত্রী! র’ক্তাক্ত অবস্থায় লড়ছেন মৃ’ত্যুর সঙ্গে?
পরিচালক হিসেবে অনীক দত্ত বাংলা সিনেমায় আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে শোকাহত টলিউডের বহু শিল্পী ও কলাকুশলী। তবে শোকের পাশাপাশি রহস্যও ঘনীভূত হচ্ছে। কারণ, একদিকে সুইসাইড নোট উদ্ধারের খবর, অন্যদিকে ময়নাতদন্তে উঠে আসা ভয়াবহ আঘাতের বিবরণ পুরো ঘটনাকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। পুলিশ আপাতত সবদিক খতিয়ে দেখছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। অনীক দত্তর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, তা জানতে এখন অপেক্ষা তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টের। ততদিন পর্যন্ত এই রহস্য ঘিরে জল্পনা চলতেই থাকবে।






