সরকার বদলের পর থেকেই টলিউড ইন্ডাস্ট্রির একাংশে যেন ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করেছে রাজনৈতিক সুর। এতদিন যারা প্রকাশ্যে তৃণমূল শিবিরের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিলেন, তাঁদের অনেককেই এখন নতুন বিজেপি সরকারের প্রশংসা করতে দেখা যাচ্ছে, শুধু তাই নয় তৃণমূলে আসার সময় তারা জোর করেই এসেছে বলেও দাবি তুলেছেন অনেকে। কেউ আবার সরাসরি পুরনো শাসকের সমালোচনাও শুরু করেছেন। আর এই আবহেই মুখ খুললেন বাংলা টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেতা সুদীপ মুখার্জি (Sudip Mukherjee)। সম্প্রতি সাক্ষাৎকারে তিনি একদিকে যেমন রাজনৈতিক মেরুকরণ নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন, তেমনই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে সম্মান জানানোর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন, “আমি রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরোধী হতে পারি, কিন্তু তিনি একজন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, আমাদের রাজ্যকে রিপ্রেজেন্ট করেছেন, তাঁকে অসম্মান করার দুঃসাহস আমার নেই।”
প্রায় ২৬ বছরের অভিনয় জীবনে একাধিক জনপ্রিয় ধারাবাহিকে কাজ করা অভিনেতা স্পষ্ট ভাষায় জানান, তিনি কখনও সক্রিয় দলীয় রাজনীতির মানুষ ছিলেন না। ছাত্রজীবনে এসএফআই করলেও পরবর্তীকালে তিনি নিজেকে রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ রাখতেই পছন্দ করেছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে টেলি একাডেমি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি এবং মঞ্চে অভিনেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়কে সাহায্য করার দৃশ্য নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় ব্যাপক বিতর্ক। অনেকেই দাবি করেন, তিনি নাকি “রং বদলেছেন” বা বিজেপি সরকারের ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছেন। সেই সমস্ত অভিযোগেরই জবাব দিয়েছেন অভিনেতা। তাঁর কথায়, “টেলি একাডেমিতে আমায় ডেকেছে, আমায় অ্যাওয়ার্ড দিয়েছে, আমি গেছি। আমি সেখানে কোনও রাজনীতি করতে যাইনি এবং কাউকে ধরেও অ্যাওয়ার্ড নিইনি।”
সুদীপ মুখার্জি আরও বিস্ফোরকভাবে বলেন, “টিএমসির কোনও রাজনৈতিক আদর্শ কোনওকালেই ছিল না, আমি আজ অবধি শুনিনি।” যদিও সেই বক্তব্যের পরেই তিনি স্পষ্ট করে দেন, রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও ব্যক্তিগত সম্মানবোধ থেকে তিনি কাউকে অপমান করতে চান না। অভিনেতার কথায়, “তিনি আমার থেকে অনেকটাই বয়সে বড়। তাঁকে সম্মান জানানোটা আমার আদর্শের মধ্যে পড়ে। সেটাকে যারা অন্য রং হিসেবে দেখছে, তাদের মানসিকতা নিয়ে আমার প্রশ্ন আছে।” এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। বর্তমান সময়ে মানুষে মানুষে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজন নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁর বক্তব্য, “আজকে তুমি একটা লাল রং পরে বসে আছো বলে যদি তোমাকে বামপন্থী বলে দেওয়া হয়, সেটা তো হতে পারে না। সবকিছু পোলারাইজ করে দেওয়া অত্যন্ত বোকামো।”
অভিনেতা দাবি করেন, তিনি কখনও বিলাসবহুল জীবনযাপন করেননি এবং ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য কোনও রাজনৈতিক শিবিরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর চেষ্টাও করেননি। তাঁর কথায়, “আমার কোনও ব্যয়বহুল গাড়ি নেই, বিলাসবহুল বাড়িও নেই। চাল-ডাল আর এক পিস মাছ হলেই আমার চলে যাবে।” একইসঙ্গে টেলি একাডেমির অ্যাওয়ার্ড নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “ওখানে অনেকেই এমন অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে, যাদের হয়তো সেই যোগ্যতা নেই। আমি বলছি না আমার আছে, কিন্তু আমাকে কাউকে ধরে কিছু করতে হয়নি।” এই মন্তব্য ঘিরেই এখন নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে টলিপাড়ায়। কারণ, অভিনেতার এই বক্তব্যে কার্যত টেলি একাডেমির পুরস্কার নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়েই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।
সাক্ষাৎকারে উঠে আসে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জীর মৃত্যুর ঘটনাও। ম্যাজিক মোমেন্টস প্রযোজনা সংস্থার দুটি ধারাবাহিক বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং কলাকুশলীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সুদীপ মুখার্জি বলেন, “রাহুলের মৃত্যুতে অনেক বিভ্রান্তিমূলক বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু ম্যাজিক মোমেন্টসের কর্ণধার শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও বিভ্রান্তিকর বিবৃতি দেননি।” তিনি আরও জানান, আর্টিস্ট ফোরামের আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রযোজনা সংস্থা যেন ঘটনার নৈতিক দায় স্বীকার করে। তাঁর কথায়, “রাহুল কাজ করতে করতেই চলে গেছে। একজন শিল্পী হিসেবে এটুকু সম্মান তাঁর প্রাপ্য ছিল।” পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করে দেন, তদন্ত করা আর্টিস্ট ফোরামের কাজ নয়, সেটা পুলিশের বিষয়। তবে প্রযোজনা সংস্থার দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা তাঁদের অধিকার।
এছাড়াও ওড়িশায় শুটিং চলাকালীন অনুমতি সংক্রান্ত বিতর্ক নিয়েও মুখ খোলেন অভিনেতা। তিনি বলেন, “পারমিশন ছাড়া ৭০ জনের ইউনিট চারদিন ধরে ওপেন বিচে কাজ করছে আর প্রশাসন জানে না, এটা আমার কাছে হাস্যকর।” তাঁর মতে, যদি সত্যিই অনুমতি না থেকে থাকে, তাহলে প্রশাসনেরও সমান দায় রয়েছে। কারণ এত বড় ইউনিট বাইরে থেকে এসে হোটেলে থেকে কাজ করছে অথচ স্থানীয় প্রশাসন বা ইউনিয়ন কিছুই জানবে না, সেটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। একইসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ার “স্বেচ্ছাচারিতা” নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “একটা মানুষ এলো, আমাকে চেনে না, জানে না, আমার নামে একটা উক্তি করে দিয়ে চলে গেল। স্বাধীনতা মানে যা খুশি বলে দেওয়া নয়, দায়িত্ববোধও থাকতে হবে।”
আরও পড়ুনঃ মাত্র ২৫ বছর, কেরিয়ার শুরু হতেই তরুণ অভিনেতার ম’র্মান্তিক পরিণতি! মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সব শেষ! ঘাট রোডে ভয়াবহ দুর্ঘ’টনা, ঝরে গেল ৮টি তরতাজা প্রাণ! শোকস্তব্ধ বিনোদন জগৎ!
সব মিলিয়ে সুদীপ মুখার্জির এই দীর্ঘ সাক্ষাৎকার এখন রাজনৈতিক এবং বিনোদন জগৎ দুই মহলেই তুমুল চর্চার বিষয়। সরকার বদলের পর শিল্পীদের অবস্থান পরিবর্তন, রাজনৈতিক মেরুকরণ, টেলি একাডেমির পুরস্কার বিতর্ক, রাহুলের মৃত্যু এবং কলাকুশলীদের ভবিষ্যৎ একাধিক স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে একসঙ্গে বিস্ফোরক মন্তব্য করে কার্যত নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন অভিনেতা।






“আগে ২৮ ছিলাম, এখন ৩৪ হয়ে গেছি… আমাকে হট-প্যান্টে দেখেই প্রেমে পড়েছিল কাঞ্চন!” বিয়ের পর শারীরিক পরিবর্তনের কথা বলতেই ফের ট্রো’লড শ্রীময়ী!