বাংলা বিনোদন জগতের জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় (Rahul Arunoday Banerjee) ২০২৬ সালের ২৯ মার্চ দিঘা সংলগ্ন তালসারি সমুদ্রে একটি ছবির শুটিং চলাকালীন জলে ডুবে মারা যান। তাঁর অকাল মৃত্যুতে গোটা টলিউডে শোকের ছায়া নেমে আসে। পরে অভিনেতার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার এবং পরিবারের পক্ষ থেকে তালসারি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। তাঁদের দাবি, এই মৃত্যুর পিছনে ষড়যন্ত্র থাকতে পারে এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রযোজনা সংস্থার গাফিলতির অভিযোগও সামনে আসে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই বিচার এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। যদিও এতদিন পরেও সেই তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গিয়েছে।
রাহুলের মৃত্যুর পর টলিউডের বহু শিল্পী রাস্তায় নেমে বিচার দাবি করেছিলেন। পরে রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই ঘটনার তদন্তভার সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হয়। সেই সময় থেকেই অভিনেতা জিতুও এই ইস্যুতে বারবার সরব হন। শুধু রাহুলের মৃত্যুই নয়, শুটিং ফ্লোরে শিল্পীদের নিরাপত্তা এবং তাঁদের সঙ্গে হওয়া দুর্ব্যবহার নিয়েও তিনি একাধিকবার প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের উদাসীনতার কারণেই শিল্পীদের ঝুঁকির মধ্যে কাজ করতে হয়। তাই শুরু থেকেই তিনি এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন।
জিতুর সঙ্গে তৎকালীন আর্টিস্ট ফোরামের দ্বন্দ্ব নিয়েও সেই সময় যথেষ্ট আলোচনা হয়েছিল। অভিনেতার দাবি ছিল, ‘এরাও মানুষ’ ছবির শুটিং চলাকালীন তিনি চরম অব্যবস্থা এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মুখোমুখি হয়েছিলেন। অসুস্থ হয়ে পড়ার পরও তাঁকে জোর করে কাজ করানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি আর্টিস্ট ফোরামকে একাধিকবার জানানো হলেও কোনও সুরাহা মেলেনি বলেও দাবি করেছিলেন জিতু। পরে রাহুলের মৃত্যুর পর তাঁর বক্তব্য ছিল, যদি সেই সময় তাঁর অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হত, তাহলে হয়তো এমন মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতে পারত। এমনকি প্রতিবাদ জানাতে তিনি রাহুল এবং নিজের গলায় মালা দিয়ে বিক্ষোভেও বসেছিলেন, যা নিয়ে সেই সময় কম বিতর্ক হয়নি।
রাহুলের মৃত্যুর চার মাস পূর্ণ হতেই ফের সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হলেন জিতু। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, “আজও আরেকটি ২৯ পেরিয়ে যাচ্ছে। তদন্ত কোথায়? কোথায় সেই তদন্ত চাওয়ার মুখগুলো?? কোথায় সেই তাগিদ? কোথায় সেই টিপ্পনি যে বেঁচে থাকা মানুষ কখন আন্দোলন করবে আর কখন চুপ করে থাকবে? কীভাবে চলে গেল একটি প্রাণ, সেই প্রশ্নের উত্তর আজও অমীমাংসিত। আমরা শুধু মানুষে মানুষে বিভক্ত হলাম।” তাঁর এই পোস্ট খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই এই পোস্টের মাধ্যমে আবারও রাহুলের মৃত্যুর তদন্তের প্রসঙ্গ সামনে নিয়ে আসেন।
আরও পড়ুনঃ “আমার খারাপ লাগা, অঝোরে ঝরে পড়া চোখের জল শুধু আমার বালিশই জানে” কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম স্ত্রী মনোবীণার ছেলে সুস্নাতকে নিজের সন্তান হিসেবে কোলে তুলে আর কোনওদিন মা হননি লাবনী সরকার! তাঁর এই ত্যাগ অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার! কিন্তু মাতৃত্বের অবিশ্বাস্য গল্পের নেপথ্যে লুকিয়ে কোন অজানা মানসিক যন্ত্র’ণার অধ্যায়, ভাগ করলেন অভিনেত্রী?
এরপর আরও একটি আবেগঘন বার্তায় জিতু লেখেন, “‘মা গো, বাবা গো, পিসি গো’ এইসব আবেগের ডাকের আড়ালে কোথাও যেন অর্থের লোভ আর আত্মপ্রচারের আকাঙ্ক্ষাই বড় হয়ে উঠল। সেই দৌড়ে আমরা হারিয়ে ফেললাম মানবিকতা, হারিয়ে ফেললাম নিজের জীবনকেও। হয়তো একদিন আমরাও শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাব। তখনও হয়তো কেউ খোঁজ নেবে না, আর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কেউ খোঁজ রাখবেও না। অথচ সত্য, ন্যায় আর মানুষের জীবনের মূল্য, এসবের উত্তর পাওয়াটাই হওয়া উচিত ছিল আমাদের সবচেয়ে বড় প্রয়াস।” রাহুলের মৃত্যুর চার মাস পর জিতুর এই পোস্ট ফের একবার তদন্ত, বিচার এবং শিল্পীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।






