পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়কে রক্ষাকবচ দিল হাই কোর্ট! ভোট পরবর্তী উ’স্কানি মামলায় এখনই গ্রেফতারি বা কড়া পদক্ষেপ নয়, আপাতত স্বস্তি অভিনেতার!

অভিনেতাকে আপাতত বড় স্বস্তি দিল কলকাতা হাই কোর্ট। আগামী চার সপ্তাহ তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তবে তদন্ত বন্ধ হচ্ছে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে আদালত। শুক্রবার বিচারপতি অজয়কুমার মুখোপাধ্যায়ের এজলাসে এই মামলার শুনানি হয়। আদালতের তরফে জানানো হয়েছে, তদন্ত চলবে এবং সেই তদন্তে অভিনেতাকেও পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। একই সঙ্গে পরবর্তী শুনানির দিনে রাজ্য সরকারকে তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। সেই রিপোর্ট দেখেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে আদালত সূত্রে খবর। পুরনো একটি সমাজমাধ্যম পোস্ট ঘিরে এই মামলাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক মহলে।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর। অভিযোগ, সেই সময় সমাজমাধ্যমে একটি বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন পরমব্রত। সেই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই পাঁচ বছর পরে ফের নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গত ২১ মে গড়িয়াহাট থানায় অভিনেতার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়। এরপরই আইনি পদক্ষেপ থেকে রেহাই চেয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। আদালতে অভিনেতার আইনজীবী ময়ূখ মুখোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, “এত দিন পরে ওই অভিযোগ কেন?” তাঁর দাবি, অভিযোগের কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই এবং সেই পোস্টের কারণে কারও কোনও ক্ষতি হয়নি। পাশাপাশি তিনি আদালতের কাছে আবেদন জানান, ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩এ এবং ১০৯ ধারায় দায়ের হওয়া এফআইআর খারিজ করা হোক। এই যুক্তির পরই আদালত অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

মামলায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম উঠে এসেছে অভিনেত্রী র। অভিযোগকারীর দাবি, পরমব্রতের সেই পোস্টকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেছিলেন স্বস্তিকাও। অভিযোগকারী আইনজীবী জয়দীপ সেনের বক্তব্য, ওই মন্তব্যের মাধ্যমে ভোট পরবর্তী হিংসায় উস্কানি দেওয়া হয়েছিল। তাঁর আরও অভিযোগ, সেই সময় রাজ্যের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পিছনে এই ধরনের পোস্টের প্রভাব ছিল। জয়দীপ সেন দাবি করেন, সমাজে পরিচিত মুখ হওয়ায় পরমব্রত ও স্বস্তিকার মন্তব্যে অনেকেই প্রভাবিত হয়েছিলেন। তাঁর কথায়, সেই সময় বিজেপি কর্মীদের উপর অত্যাচারের ঘটনাতেও এই মন্তব্য পরোক্ষভাবে প্রভাব ফেলেছিল। এই অভিযোগ ঘিরেই পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং দুই অভিনেতাকেই নোটিস পাঠানো হয়।

তদন্তের অংশ হিসেবেই ইতিমধ্যে গড়িয়াহাট থানায় হাজিরা দিয়েছেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। পুলিশ সূত্রে খবর, তাঁকে সেখানে প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অন্যদিকে পরমব্রতের ক্ষেত্রেও তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। যদিও এই মুহূর্তে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও গ্রেফতারি বা কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না। আদালতের এই নির্দেশকে ঘিরে রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক মহলে নানা প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘদিন আগের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে নতুন করে আইনি বিতর্ক তৈরি হওয়ায় বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে। তবে আদালত স্পষ্ট করেছে, তদন্তের অগ্রগতি এবং রিপোর্টের উপর নির্ভর করেই পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক হবে।

আরও পড়ুনঃ “আমার খুব শখের বহুমূল্য আংটি ছিল…চো’রের মায়ের বড় গলা, ভয় দেখাতে পুলিশে অভিযোগ” গৃহপরিচারিকাকে আটকে রেখে হে’নস্থার ও অ’ত্যা’চার, আত্মপক্ষ সমর্থনে মুখ খুললেন সম্রাট মুখার্জি! কী জানালেন অভিনেতা?

এই মামলাকে কেন্দ্র করে ফের সামনে এসেছে ভোট পরবর্তী সময়ের রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রসঙ্গ। পাঁচ বছর আগের একটি সমাজমাধ্যম পোস্ট কীভাবে আবার আইনি জটিলতার কেন্দ্রে উঠে এল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। তবে আপাতত আদালতের নির্দেশে কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছেন পরমব্রত। অন্যদিকে তদন্তকারীরা গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন বলেই জানা যাচ্ছে। আগামী শুনানিতে রাজ্যের রিপোর্ট আদালতে জমা পড়ার পর মামলার পরবর্তী দিক স্পষ্ট হবে। সেই কারণেই এই মামলার দিকে এখন নজর রয়েছে টলিউড থেকে রাজনৈতিক মহল, দুই জায়গাতেই। পুরনো বিতর্ক নতুন মোড় নেওয়ায় আগামী দিনে এই মামলায় আরও নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকে।

You cannot copy content of this page