অভিষেক আ’ক্রমণ কাণ্ডে নতুন মোড়, সামনে এল লাভলী মৈত্রের নাম! তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হেন’স্তার নেপথ্যে লাভলী ঘনিষ্ঠরাই? ধৃতদের নাম সামনে আসতেই জোর বিতর্ক, কী বললেন অভিনেত্রী-প্রাক্তন বিধায়ক?

সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেনস্তার ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। শনিবারের ওই ঘটনার পর একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ এবং তদন্তও জোরকদমে এগোচ্ছে। ইতিমধ্যেই স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। অভিযোগ, যাঁরা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের সঙ্গে সোনারপুর দক্ষিণের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক লাভলি মৈত্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এই অভিযোগ সামনে আসতেই নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। তবে লাভলি মৈত্র সরাসরি সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ধৃতদের সঙ্গে তৃণমূলের কোনও সম্পর্ক নেই। ঘটনার পর থেকেই বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে, ঠিক কীভাবে একজন সাংসদের উপর এমন পরিস্থিতি তৈরি হল।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলা ও হেনস্তার অভিযোগে ইতিমধ্যেই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আরও তিনজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে আকাশ গায়েন, কাজল, দেবাশিস ও জয় সেনগুপ্ত নামে কয়েকজন রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে বেআইনি জমায়েত, পথ অবরোধ এবং আরও একাধিক অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তকারীরা ঘটনার পেছনের পুরো চিত্র জানতে চেষ্টা করছেন। সূত্রের খবর, ধৃতদের মধ্যে কয়েকজনকে প্রাক্তন বিধায়ক লাভলি মৈত্রের ঘনিষ্ঠ বলেই এলাকায় পরিচিত। সেই কারণেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বেড়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও তদন্তকারীরা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেননি।

অভিযোগের জবাবে লাভলি মৈত্র স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “আমি বাইরে রয়েছি। যাঁরা গ্রেপ্তার হয়েছেন তাঁরা কেউ তৃণমূল করে না। দলকে ছবি পাঠিয়েছি।” তাঁর বক্তব্য, ধৃতদের সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই এবং তা প্রমাণ করার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যও তিনি দলের কাছে পাঠিয়েছেন। এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেই দাবি করেছেন তিনি। পাশাপাশি তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, রাজনৈতিকভাবে তাঁকে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রাক্তন বিধায়কের মতে, ঘটনার প্রকৃত সত্য সামনে আসলে অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলবে। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো উচিত নয় বলেও তিনি মত প্রকাশ করেছেন।

আরও পড়ুন: টলিপাড়ায় ফের উদ্বেগ! এবার আ’ত্মহ’ত্যার চেষ্টা করলেন বাংলা টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেত্রী! আশ’ঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান বন্ধুরা! এখন কেমন আছেন তিনি? চরম পদক্ষেপ ঘিরে সামনে এল কোন নেপথ্যের কাহিনি?

ঘটনার জেরে পুলিশের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। লাভলি মৈত্র এই প্রসঙ্গে সরাসরি প্রশ্ন তুলে বলেন, “এলাকায় সাংসদ যাচ্ছেন পুলিশ নেই কেন। হামলা চালানো হল পুলিশ পৌঁছল না কেন?” তাঁর দাবি, একজন গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রতিনিধি এলাকায় গেলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা থাকা উচিত ছিল। সেই নিরাপত্তায় কোথাও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। আরও বলেন, “বাইরে না থাকলে আমি ওখানে যেতাম।” তাঁর মতে, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুতর এবং কীভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হল, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া দরকার। এদিকে পুলিশ ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সূত্র ধরে তদন্ত চালাচ্ছে এবং আরও গ্রেপ্তার হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার দাবি করেছেন, ঘটনার পেছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত। এক সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, “অভিষেককে সিআইডি ডেকেছে। সেই হাজিরা এড়াতে এই পরিকল্পিত হামলা নয়তো? রহস্য রয়েছে। পুলিশ তদন্ত করে দেখুক।” তাঁর এই মন্তব্যের পর নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বর্তমানে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যও সংগ্রহ করছে পুলিশ। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ঘটনার আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

You cannot copy content of this page