“খুব কষ্ট করে বড় হয়েছি, কিন্তু সঠিক শাসনটা পেয়েছিলাম বলেই অমানুষ হইনি” “ক্ষমতা থাকলেও সঠিক শাসন করতে পারেন ক’জন?” বড় মন্তব্য অঞ্জনা বসুর! সন্তানকে ‘যা খুশি তাই করো’ বলা আধুনিক অভিভাবকরা কি মানুষ গড়ছে, নাকি ভেঙে দিচ্ছে শিরদাঁড়া? অভিনেত্রীর প্রশ্নের মুখে বর্তমান প্রজন্মের সন্তান মানুষ করার পদ্ধতি! সত্যিই কি শাসন আর কঠোর নিয়মের মধ্যেই তৈরি হয় সঠিক মূল্যবোধ?

অভিনেত্রী অঞ্জনা বসুর কথায় উঠে এল বর্তমান প্রজন্মের সন্তান মানুষ করার ধরন নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ ভাবনা। সময় বদলেছে, বদলেছে বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানদের সম্পর্ক এবং তাঁদের বড় করে তোলার পদ্ধতিও। এখন অনেক অভিভাবকই সন্তানকে নিজের মতো করে চলার স্বাধীনতা দেন। ‘তুমি যা খুশি করো’ এই মানসিকতাও অনেক পরিবারে দেখা যায়। তবে স্বাধীনতার পাশাপাশি শাসন, নিয়ম এবং জীবনের বাস্তবতা সম্পর্কে সন্তানকে ধারণা দেওয়াটাও জরুরি বলে মনে করেন অনেকে। আর ঠিক এই জায়গাতেই নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে আলাদা একটি দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী অঞ্জনা বসু।

শুধু অভিনয় নয়, সমাজের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও নিজের মতামত প্রকাশ করতে দেখা যায় অঞ্জনা বসুকে। ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার, সন্তান মানুষ করা কিংবা সমাজের পরিবর্তন বিভিন্ন প্রসঙ্গেই নিজের অভিজ্ঞতা থেকে কথা বলেন তিনি। এবারও সন্তান প্রতিপালন এবং বর্তমান প্রজন্মের মানসিকতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নিজের ছোটবেলার সঙ্গে বর্তমান সময়ের তুলনা করেছেন অভিনেত্রী। তাঁর বক্তব্যে যেমন রয়েছে নিজের সন্তানকে স্বাধীনভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ দেওয়ার কথা, তেমনই রয়েছে শাসন ও সীমারেখার গুরুত্ব। নিজের জীবনযাপন এবং ছোটবেলার অভিজ্ঞতাও এই ভাবনার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অঞ্জনা বসু জানান, তাঁরা খুব কষ্ট করে বড় হয়েছেন, কিন্তু সেই কষ্ট তাঁদের ‘অমানুষ’ করে দেয়নি। সেই কারণেই সন্তানদেরও একই ধরনের কষ্টের মধ্যে দিয়ে বড় করার পক্ষপাতী নন তিনি। সময়ের সঙ্গে সন্তান মানুষ করার পদ্ধতি বদলেছে বলেও মনে করেন অভিনেত্রী। এখন অনেক বাবা-মা সন্তানকে বলেন, ‘তুমি যা খুশি তাই করো’। কিন্তু অঞ্জনা নিজের ছেলেকে সেইভাবে বড় করেননি। তাঁর কথায়, ভবিষ্যতে তিনি ছেলেকে এমন কথা বললেও তাঁর ছেলে নিজেই নিজের জন্য একটি সীমারেখা তৈরি করে নেবে। কারণ ছোট থেকেই সে নিয়ম ও মূল্যবোধের মধ্যেই বড় হয়েছে।

শাসনের প্রসঙ্গেও নিজের ছোটবেলার কথা তুলে ধরেছেন অঞ্জনা। অভিনেত্রীর কথায়, শাসন করার ক্ষমতা শুধু বাবা-মায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ছোটবেলায় পাশের বাড়ির কাকু-কাকিমারাও প্রয়োজনে এসে তাঁকে শাসন করে যেতেন। অর্থাৎ একটি শিশুকে বড় করে তোলার ক্ষেত্রে চারপাশের মানুষও একটা ভূমিকা পালন করতেন। পাশাপাশি নিজের জীবনকেও তিনি যথেষ্ট কঠিন করে রেখেছেন বলে জানান অঞ্জনা। কঠোর পরিশ্রম তাঁর জীবনের অন্যতম অংশ। তবে সেই কঠোরতার অর্থ যে সারাক্ষণ গম্ভীর থাকা, তা একেবারেই নয়।

আরও পড়ুনঃ ‘তুই একদম কাঁদবি না…মুখ ভ্যাংচা, হি হি করে হাস!’ বাবার মৃ’তদেহের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে দুই বোনের কান্নার দৃশ্যের শুটিংয়ের মাঝেই সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়কে কেন এমন নির্দেশ দিয়েছিলেন সুচিত্রা সেন? ‘অন্নপূর্ণার মন্দির’-এর সেটে সেদিন কী ঘটেছিল? কিংবদন্তি অভিনেত্রীর স্মৃতিচারণায় উঠে এল মহানায়িকার অজানা মানবিক দিক!

অঞ্জনা বসু জানিয়েছেন, তিনি যৌথ পরিবারে বড় হয়েছেন। পরিবারে একাধিক বড় দাদা ছিলেন এবং তাঁদের কড়াকড়ির মধ্যেই তাঁকে বেড়ে উঠতে হয়েছে। সেই পরিবেশ তাঁকে নিয়ম মেনে চলতে শিখিয়েছে, তৈরি করেছে নিজের মতো করে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে তাঁর জীবনে হাসি-ঠাট্টা বা ইয়ার্কি-ফাজলামোর জায়গা ছিল না। বরং কঠোরতার পাশাপাশি আনন্দ করেও বড় হয়েছেন তিনি। তাই তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, সন্তানকে শাসন করা মানেই তাকে স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা নয়। বরং ভালোবাসা, স্বাধীনতা, নিয়ম এবং দায়িত্ব এই চারটির মধ্যে ভারসাম্য রেখেই সন্তানকে বড় করে তোলার পক্ষে অভিনেত্রী।

You cannot copy content of this page