টলিপাড়ায় ফের উদ্বেগের খবর। পরিচালক অনীক দত্তের মৃত্যুর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সামনে এল অভিনেত্রী মৌলি দত্তকে ঘিরে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। ‘পরিণীতা’ ধারাবাহিকের পরিচিত এই অভিনেত্রী ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসার পর অনেকটাই সুস্থ রয়েছেন। একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মৌলি নিজেই জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের মানসিক অবসাদ এবং কাজের অনিশ্চয়তা থেকেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই টেলিভিশন মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিশেষ করে তাঁর আগের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
যদিও অভিনেত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ঘটনার পিছনে কোনও প্রেমঘটিত কারণ নেই। নিজের অবস্থার কথা বলতে গিয়ে মৌলি জানান, “কাজ নিয়ে বহুদিন ধরে অবসাদে ভুগছিলাম। এখন আমি যে প্রজেক্টটা করি সেখানে আমার তেমন কোনও ডেট ইত্যাদি থাকে না।” তিনি বলেন, কলকাতায় একা থাকেন এবং ফ্ল্যাটের ইএমআই থেকে শুরু করে দৈনন্দিন সমস্ত খরচ তাঁকেই সামলাতে হয়। তাঁর কথায়, “ফ্ল্যাটের ইএমআই চলে, এছাড়া কলকাতা শহরে থাকার বেসিক একটা খরচ তো থাকেই, সেটা আমাকেই চালাতে হয়।” পরিবারের সদস্যরা কাটোয়ায় থাকেন বলেও জানান অভিনেত্রী।
বাজারদরের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে কাজের পারিশ্রমিকের অসামঞ্জস্য তাঁকে আরও চাপে ফেলছিল। সেই কারণেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছিলেন বলে স্বীকার করেন তিনি। অভিনেত্রী আরও জানান, নতুন কাজের জন্য বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করলেও আশানুরূপ সাড়া পাচ্ছিলেন না। তাঁর কথায়, “যেখানেই কাজের জন্য বলছি সবাই ওই ‘হ্যাঁ দেখছি’, ‘জানাচ্ছি’, ‘জানাব’ বলছেন।” আবার কেউ কেউ তাঁকে বলেছেন, “তোর মতো চরিত্র নেই। ফ্যামিলি ক্যারেক্টারের জন্য তুই ঠিক না।” অথচ এতদিন তিনি মূলত পারিবারিক চরিত্রেই অভিনয় করেছেন বলে দাবি করেন। মৌলি জানান, তিনি নিজের মতো করে থাকতে ভালোবাসেন, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান এবং নিজেকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করেন।
আরও পড়ুন: গভীর রাতে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে, চুপিসারে একি করতে দেখা গেল প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে? পদ্মশ্রী পাওয়ার পরই বদলে গেল সব! ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তুমুল শোরগোল নেটপাড়ায়!
কিন্তু সেই সময় কাছের কিছু মানুষের সঙ্গে মনোমালিন্যও তৈরি হয়েছিল। তাঁর ভাষায়, “এবার সেদিন সব কিছু একসঙ্গে হয়ে গিয়েছিল।” সেই পরিস্থিতিই তাঁকে আরও ভেঙে দেয়। ঘটনার দিন সম্পর্কে বলতে গিয়ে মৌলি বলেন, “এটা বয়ফ্রেন্ডজনিত কোনও কারণ নয়।” তিনি জানান, কাজের চাপ, অনিশ্চয়তা এবং ব্যক্তিগত অভিমানের মিশ্রণেই তাঁর মনে হয়েছিল, “আমার জন্য কেউ নেই, আমার কথা বলার লোক নেই? আমার জন্য কেউ ভাবে না।” সেই হতাশা থেকেই তিনি ডাক্তারের দেওয়া ঘুমের ওষুধের পুরো পাতাটি খেয়ে ফেলেন। অভিনেত্রীর কথায়, “আমার এমনই ডিপ্রেশনের চিকিৎসা চলছে, ডাক্তারের দেওয়া ঘুমের ওষুধ ছিলই।
যে কটা ছিল পাতাতে সব খেয়ে নিই।” পরে বন্ধুরা এসে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে সেই ঘটনার কথা মনে করে তিনি বলেন, “এখন মনে হয় কেন করলাম। কী দরকার ছিল।” তিনি জানান, এখন তিনি আগের চেয়ে অনেকটাই স্থিতিশীল। মৌলি আরও জানিয়েছেন, প্রথমে এই ঘটনার কথা পরিবারের কাউকে জানাননি, কারণ তাঁর পরিবার কাটোয়ায় থাকে। পরে বিষয়টি জানানো হলে পরিবারের সদস্যরা ভেঙে পড়েন। অভিনেত্রীর কথায়, “প্রথমে বিশ্বাস করেনি বাড়ির কেউ। তারপর খবরটা রটে যাওয়ায় চিন্তা করছে। কান্নাকাটি করছে।” পরিবার তাঁকে বাড়ি ফিরে যেতে বলেছে বলেও জানান তিনি। বর্তমানে শারীরিক দুর্বলতার কারণে কলকাতাতেই রয়েছেন। ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে
View this post on Instagram
মৌলি স্পষ্ট করে বলেন, “আমার এখন একটাই প্রয়োজন, ধারাবাহিক ভাবে একটা কাজ। মূল ডিপ্রেশনের কারণ কাজ।” তিনি আরও বলেন, “স্টারডম পাওয়া সহজ, কিন্তু সেটা ধরে রাখা কঠিন।” উল্লেখ্য, এই ঘটনার আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছিলেন, “ভাবতেই অবাক লাগে আমি তার প্রথমও হতে পারিনি, শেষও হতে পারিনি। আমার আগেও তার কেউ ছিল, আমার পরেও তার কেউ থাকবে। মাঝখান থেকে আমার জীবন শেষ।” সেই পোস্ট ঘিরে নানা জল্পনা তৈরি হলেও অভিনেত্রী জানিয়েছেন, তাঁর এই পদক্ষেপের সঙ্গে কোনও প্রেমের সম্পর্ক ছিল না।






