নিরাপত্তা চেয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি যশের! হঠাৎ কেন এমন পদক্ষেপ? কী এমন পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন অভিনেতা?

বাংলা বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ যশ দাশগুপ্তকে ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি তিনি রাজ্য সরকারের উদ্দেশে একটি ইমেল পাঠিয়েছেন, যেখানে নিজের পেশাগত জীবন, রাজনৈতিক অবস্থান এবং নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে হুগলির চণ্ডীতলা কেন্দ্র থেকে লড়াই করেছিলেন যশ। সেই সময় থেকেই তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়। এবার সেই প্রসঙ্গেই মুখ খুলে তিনি দাবি করেছেন, রাজনৈতিক ময়দানে পা রাখার পর তাঁর কর্মজীবনে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।

বর্তমানে নিজের পেশাগত ও সামাজিক কাজ নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাওয়ার স্বার্থেই তিনি নিরাপত্তার আবেদন জানিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। এই ইমেল ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও বিনোদন মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। গত ২৯ মে পাঠানো ওই ইমেলে যশ জানান, কেরিয়ারের অন্যতম ব্যস্ত সময়ে তিনি রাজনীতিতে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু তার পর থেকেই তাঁর কাজের ক্ষেত্রে নানা বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন অভিনেতা। যশের দাবি, ২০২১ সালের নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন মাচা অনুষ্ঠান কিংবা দুর্গাপুজোর উদ্বোধনের মতো অনুষ্ঠানে তাঁকে আর আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

শুধু তাই নয়, বিনোদন জগতেও কাজের সুযোগ কমে যায় বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মূলধারার বড় কোনও প্রযোজনা সংস্থা তাঁকে কাজের সুযোগ দেয়নি। ফলে পরিস্থিতির চাপে নিজেকেই একটি প্রযোজনা সংস্থা গড়ে তুলতে হয়। এই সময়ে তাঁকে আর্থিক সমস্যারও সম্মুখীন হতে হয়েছে বলে ইমেলে উল্লেখ করেছেন অভিনেতা। চিঠিতে নিজের ব্যক্তিগত জীবন এবং স্ত্রী নুসরত জাহানের প্রসঙ্গও তুলে এনেছেন যশ। তিনি জানান, নুসরত ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ছিলেন। তবে রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রশ্নে তিনি নিজের অবস্থান থেকে কখনও সরে আসেননি বলে দাবি করেন অভিনেতা।

তাঁর বক্তব্য, বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের চাপ তৈরি হলেও তিনি নিজের সিদ্ধান্ত বদলাননি। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, ২০২১ সালের পর তাঁকে আর শাসক দলের প্রচার বা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দেখা যায়নি। নিজের বিশ্বাস এবং রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে আপস না করার কথাই তিনি ইমেলে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন বলে জানা গিয়েছে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়টি চিঠির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যশ জানান, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে তাঁকে নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল। তবে ২০২২ সালে তিনি নিজেই সেই নিরাপত্তা প্রত্যাহারের অনুরোধ করেন।

কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে বিভিন্ন জনসমাগম, অনুষ্ঠান এবং পেশাগত কাজে নিয়মিত অংশ নিতে হচ্ছে তাঁকে। সেখানে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। ফলে ভবিষ্যতে কোনও অনভিপ্রেত পরিস্থিতি এড়াতে তিনি আবারও নিরাপত্তার আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর মতে, কাজের ক্ষেত্র এবং সামাজিক পরিসরে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করার জন্য এই নিরাপত্তা প্রয়োজন। ইমেলের শেষ অংশে যশ স্পষ্ট করেছেন, তাঁর এই আবেদন কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়, বরং নিজের পেশাগত এবং সামাজিক কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাওয়ার স্বার্থে।

আরও পড়ুনঃ “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভালো সময় যেমন পাশে ছিলাম, খারাপ সময়েও থাকবো… আমরা চটি চেটেছি, আগামী দিনেও চাটব” অকপট অভিনেত্রী ময়না ও অর্ণব ব্যানার্জি! এত দুর্নী’তির পরেও কেন মমতা অনুগামী এই দম্পতি?

সেই কারণেই তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে এই আবেদনপত্রের পর রাজ্য সরকারের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এসেছে কি না, তা জানা যায়নি। ফলে যশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই আবেদন নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক ও বিনোদন মহলের। অভিনেতার এই চিঠি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

You cannot copy content of this page