বাংলা টেলিভিশনের জনপ্রিয় রিয়্যালিটি শো ‘রোজগেরে গিন্নি’র নাম উঠলেই দর্শকদের মনে ভেসে ওঠে একাধিক পরিচিত মুখ। সেই তালিকায় অন্যতম হলেন সঞ্চালিকা লাজবন্তী রায়। দীর্ঘদিন ধরে নিজের দক্ষতা ও ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে দর্শকদের মন জয় করেছেন তিনি। অন্যদিকে তাঁর মেয়ে অভিনেত্রী অঙ্গনা রায়ও ধীরে ধীরে টলিউডে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করে চলেছেন। শুরু থেকেই অঙ্গনা স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, মায়ের জনপ্রিয়তা বা পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে কোনও বাড়তি সুবিধা নিতে চান না তিনি। নিজের যোগ্যতা এবং পরিশ্রমের জোরেই অভিনয় জগতে প্রতিষ্ঠা পেতে চান। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মা-মেয়ে তাঁদের সম্পর্ক, পারিবারিক স্মৃতি, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং জীবনের নানা অজানা গল্প নিয়ে খোলামেলা আড্ডায় মেতে উঠেছিলেন। আর সেখান থেকেই উঠে এসেছে তাঁদের সম্পর্কের এক অন্যরকম ছবি।
সাক্ষাৎকারে অঙ্গনা জানিয়েছেন, তাঁর এবং মায়ের সম্পর্কটা বরাবরই খুব মজার এবং খুনসুটিতে ভরা। দিনের বেলায় যতই ঝগড়া বা মনোমালিন্য হোক না কেন, রাতের মধ্যেই সব ঠিক হয়ে যায়। মা-মেয়ের সম্পর্ক এমনই যে একে অপরকে ছাড়া দিন কাটানো কঠিন। তবে লাজবন্তী রায়ের বক্তব্য, বাড়িতে থাকলে অঙ্গনা বেশ ব্যক্তিগত পরিসর বজায় রাখতে ভালোবাসেন। অনেক সময় নিজের ঘরে দরজা বন্ধ করে একা থাকতে পছন্দ করেন তিনি। একইসঙ্গে লাজবন্তী জানিয়েছেন, ছোটবেলায় অঙ্গনা তাঁর বকুনি শুনলেও এখন সময় বদলেছে। তাঁর কথায়, “এখন অঙ্গনা ডানা মেলেছে। নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিতে ভালোবাসে।” মেয়ের এই স্বাধীনতা এবং আত্মবিশ্বাসকে তিনি সম্মান করেন বলেও জানান।

ছোটবেলার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে লাজবন্তী বলেন, কাজের ব্যস্ততা যতই থাকুক না কেন, দিনের শেষে মেয়ের পড়াশোনা, স্কুলের খবর কিংবা সারাদিনের গল্প শোনা ছিল তাঁর রোজকার অভ্যাস। ফলে ছোটবেলা থেকেই মায়ের কাছ থেকে সময় এবং যত্ন দুটোই পেয়েছেন অঙ্গনা। অন্যদিকে অঙ্গনাও জানিয়েছেন, তাঁর দিদার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত গভীর। মা-বাবা কাজের জন্য বাইরে থাকলে দিদার সঙ্গেই বেশিরভাগ সময় কাটত তাঁর। এমনকি ফোনের বিলও বেড়ে যেত শুধুমাত্র দিদার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ গল্প করার কারণে। মজার বিষয়, তিনি দিদাকে ‘বউমা’ বলে ডাকতেন। এই প্রসঙ্গে লাজবন্তী আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমানে অঙ্গনার জীবনে যে সাফল্য এবং উত্থান দেখা যাচ্ছে, তা তাঁর দিদার দেখার কথা ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তিনি সেই মুহূর্তগুলো দেখে যেতে পারেননি। এই আক্ষেপ আজও মা-মেয়ে দুজনের মনেই রয়ে গেছে।
অঙ্গনার ছোটবেলার আরও কিছু অজানা গল্পও উঠে এসেছে এই আড্ডায়। লাজবন্তী জানান, ছোট থেকেই লেখালিখির প্রতি প্রবল ঝোঁক ছিল অঙ্গনার। বাড়িতে কোনও কারণে মন খারাপ হলে কিংবা কোনও ভুল করে ফেললে, সে নিজের অনুভূতিগুলো লিখে ফেলত। এরপর সেই লেখা বা চিঠি মায়ের হাতে তুলে দিত। সেই চিঠিগুলোর মধ্যে বারবার লেখা থাকত— “সরি মা, সরি মা।” আজও সেই স্মৃতিগুলো ভীষণ মিস করেন লাজবন্তী। পাশাপাশি তিনি জানান, স্কুল পালিয়ে সিনেমা দেখতে যাওয়া থেকে শুরু করে কোনও প্রেমপত্রের গল্প— ছোটবেলায় অঙ্গনা যা-ই করুক না কেন, তিনি সহজেই তা ধরে ফেলতেন। অন্যদিকে অঙ্গনার দাবি, ছোটবেলায় তাঁর মা খুবই কড়া শাসনের মধ্যে রাখতেন তাঁকে। তবে কলেজে ওঠার পর থেকেই তাঁদের সম্পর্ক অনেক বেশি বন্ধুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। লাজবন্তীর মতে, সন্তানদের ছোটবেলায় শাসনের মধ্যে রাখা জরুরি হলেও বড় হওয়ার পর তাদের বন্ধু হয়ে ওঠাই একজন অভিভাবকের আসল দায়িত্ব।
আরও পড়ুনঃ উচ্ছেবাবুর ম্যাজিকে এবার স্টার জলসা টিআরপিতে তুলবে ঝড়! প্রথম দেখাতেই বিধবা ‘কুমকুম’-এ মজলেন আদৃত, প্রোমোতেই সুপারহিট জুটির রসায়ন! সুস্মিতা নয়, বিপরীতে নায়িকা কে চেনেন?
আলোচনার এক পর্যায়ে উঠে আসে অঙ্গনা রায়ের ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রসঙ্গও। স্বাভাবিকভাবেই সেখানে আসে অভিনেতা রোহান ভট্টাচার্যের নাম। মেয়ের প্রেমিক সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে লাজবন্তী রায় অকপটে জানান, অভিনেতা হিসেবেই নয়, মানুষ হিসেবেও রোহানকে তাঁর অত্যন্ত ভালো লাগে। শুধু তাই নয়, অঙ্গনার সঙ্গে যেমন ব্যক্তিগত নানা বিষয় নিয়ে কথা হয়, তেমনই রোহানের সঙ্গেও আলাদা করে বহু বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। অর্থাৎ ভবিষ্যৎ জামাইয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও যথেষ্ট আন্তরিক এবং বন্ধুত্বপূর্ণ। এই সাক্ষাৎকারে মা-মেয়ের সম্পর্কের উষ্ণতা, পারিবারিক বন্ধন, স্মৃতি, ভালোবাসা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার যে ছবি উঠে এসেছে, তা নিঃসন্দেহে দর্শকদের মন ছুঁয়ে যাবে।






