টেলিপাড়ার দর্শকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সামনে এসেছে আদৃত রায়ের নতুন ধারাবাহিক ‘কুমকুম’-এর (Kumkum) প্রথম ঝলক। মিঠাই ধারাবাহিকে উচ্ছেবাবু চরিত্রে জনপ্রিয়তা পাওয়া আদৃত রায় (Adrit Roy) এবার প্রথমবারের মতো স্টার জলসার পর্দায় দেখা দিতে চলেছেন। প্রোমো প্রকাশের পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। একদিকে আদৃতের একেবারে নতুন লুক, অন্যদিকে গল্পের ভিন্ন স্বাদ, দুই মিলিয়ে ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে এই নতুন মেগা। অনেকেই জানতে চাইছেন, জি বাংলার পর স্টার জলসার মঞ্চেও কি একইভাবে সাফল্য পাবেন আদৃত? প্রথম প্রোমো ঘিরে সেই কৌতূহলই এখন সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি নতুন নায়িকাকেও নিয়ে শুরু হয়েছে আলাদা আলোচনা। সব মিলিয়ে শুরু হওয়ার আগেই চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছে কুমকুম।
ধারাবাহিকে আদৃতের চরিত্রের নাম ঈশান। প্রোমোতে দেখা যায়, বিদেশ থেকে কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে নিজের গ্রামের বাড়িতে ফিরছে সে। কিন্তু পথে হঠাৎ তার বিলাসবহুল গাড়ি বিকল হয়ে যায়। ফলে বাধ্য হয়েই সমস্ত আভিজাত্য ছেড়ে গ্রামের একটি সাধারণ ভ্যানে চেপে যাত্রা শুরু করতে হয় তাকে। আর সেই ভ্যানেই প্রথম দেখা হয় কুমকুমের সঙ্গে। গ্রামের সাধারণ মেয়ে হলেও নিজের লড়াইয়ে দৃঢ় কুমকুমের জীবনযুদ্ধই প্রথম মুহূর্তে ঈশানকে আকৃষ্ট করে। চোখে সানগ্লাস এবং গলায় হেডফোন ঝোলানো আধুনিক মানসিকতার ঈশান একেবারে অন্য জগতের মানুষ। কিন্তু কুমকুমের সংগ্রামের গল্প শুনে সে অবাক হয়ে যায়। প্রথম সাক্ষাতের দৃশ্যটিই প্রোমোর অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
গল্প অনুযায়ী, অল্প বয়সেই স্বামীকে হারিয়েছে কুমকুম। বৈধব্যের কষ্ট নিয়েই তাকে এগিয়ে যেতে হচ্ছে জীবনে। সাদা-নীল পাড়ের শাড়ি এবং কপালে ছোট্ট টিপে তার উপস্থিতি দর্শকদের নজর কেড়েছে। সংসার চালানোর জন্য সে নিজের হাতে জুতো তৈরি ও সেলাইয়ের কাজ করে। আত্মসম্মান বজায় রেখে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের জীবন গড়ে তুলছে কুমকুম। সে চর্মশ্রী সু হাউসে তৈরি জুতো পৌঁছে দিতে যাচ্ছিল। আর সেখানেই গল্পে আসে বড় মোড়। যে প্রতিষ্ঠানে কুমকুম একজন সাধারণ কারিগর, সেই জুতো ব্যবসার মালিক পরিবারেরই সদস্য ঈশান। অর্থাৎ বিদেশফেরত যুবক এবং সংগ্রামী বিধবা তরুণীর জীবন এক অদ্ভুতভাবে জড়িয়ে যায়।
আরও পড়ুন: “আমাকে দু’বার হাসপাতালে যেতে হয়েছিল” ‘জন্মভূমি’ নিয়ে চমকে দেওয়া স্মৃতিচারণ ‘পিসিমা’ মিতা চ্যাটার্জির! সাত বছরের সেই সফল যাত্রার নেপথ্যে লুকিয়ে কোন অজানা ক’ষ্টের গল্প? ধারাবাহিক ঘিরে কেন বারবার কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল বর্ষীয়ান অভিনেত্রীকে?
প্রোমোতে আরও দেখা যায়, ভিডিও কলে ঈশানের আম্মা বা ঠাম্মি তাকে জানান যে পরিবারের অন্য সদস্যরা প্রায় ১০০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী জুতো ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এই কথা শোনার পরই কুমকুম ঈশানকে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেয়। তার স্পষ্ট বক্তব্য, “ব্যবসা নয়, নকশা বদলান!” শুধু তাই নয়, সে আরও বোঝানোর চেষ্টা করে যে বাঙালিরাও সফলভাবে ব্যবসা করতে পারে যদি পরিবারের সবাই একসঙ্গে পাশে দাঁড়ায়। কুমকুমের এই আত্মবিশ্বাসী ও শক্তিশালী বক্তব্য ইতিমধ্যেই দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। প্রোমো প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমেও এই সংলাপ নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, এই বক্তব্যই ধারাবাহিকের মূল ভাবনাকে তুলে ধরেছে।

শুরুতে শোনা গিয়েছিল, কুমকুম চরিত্রে অভিনয় করবেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুস্মিতা দে। তবে শেষ মুহূর্তে অজ্ঞাত কারণে তিনি এই প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর তাঁর জায়গায় নতুন মুখ অনুষ্কাকে নেওয়া হয়। প্রথম প্রোমোতেই অনুষ্কার অভিনয় দর্শকদের নজর কেড়েছে এবং ইতিবাচক প্রতিক্রিয়াও মিলছে। আদৃত এবং অনুষ্কার জুটিও ইতিমধ্যেই আলোচনায় এসেছে। যদিও স্টার জলসা এখনও ধারাবাহিকটির সম্প্রচারের দিন ও সময় ঘোষণা করেনি। তবে প্রোমো সামনে আসার পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে উৎসাহ বেড়েছে। এখন দেখার, কুমকুম শুরু হওয়ার পর টিআরপি লড়াইয়ে কোন ধারাবাহিকের উপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে এবং আদৃতের নতুন সফর কতটা সফল হয়।






