প্রয়াত অভিনেতা ও প্রাক্তন সাংসদ ‘তাপস পাল’কে (Tapas Paul) ঘিরে ফের রাজনৈতিক বিতর্ক সামনে এল। তাঁর মৃ’ত্যুর প্রায় সাড়ে ছয় বছর পরে স্ত্রী ‘নন্দিনী মুখোপাধ্যায় পাল’ (Nandini Paul) সমাজ মাধ্যমে একটি খোলা চিঠি লিখে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন। সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) একটি টেলিভিশন চ্যানেলে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ৭১ বছর বয়সী তৃণমূল সুপ্রিমো, অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি ‘বিবেকবান’ হওয়ার আহ্বান জানান। সেই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়াতেই নন্দিনীর এই দীর্ঘ পোস্ট ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। চিঠিতে তিনি শুধু রাজনৈতিক নেতৃত্বকেই প্রশ্ন করেননি, পাশাপাশি তাঁর স্বামী তাপস পালের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন অধ্যায়ও তুলে ধরেছেন।
তাঁর দাবি, রাজনৈতিক প্রয়োজন মিটে যাওয়ার পর তাপস পালের প্রতি আচরণ বদলে গিয়েছিল। সেই কারণেই তিনি প্রকাশ্যে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন তাপস পাল। অভিনয় জগতের জনপ্রিয় মুখ হওয়ার পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। দু’বার বিধায়ক এবং সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। তবে রাজনৈতিক জীবনে একাধিক বিতর্কও তাঁকে ঘিরে ছিল। বিশেষ করে রোজভ্যালি মামলায় তাঁর নাম জড়িয়ে পড়ার পর সিবিআই তাঁকে গ্রেফতার করে। প্রায় ১৩ মাস কারাবন্দি থাকার পর তিনি মুক্তি পান। এই পুরো সময়ে মানসিকভাবে তাপস পালকে ভীষণ চাপের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে বলেই দাবি করেছেন তাঁর স্ত্রী।
কুণাল ঘোষকে উদ্দেশ্য করে লেখা চিঠিতে নন্দিনী প্রশ্ন তোলেন, “কুণাল ঘোষ মহাশয়, আপনাকে এক টিভি চ্যানেলে বলতে শুনলাম যে ৭১ বছর বয়সী এক নেত্রীর প্রতি বিবেকবান হওয়া উচিত। আপনি এই কথাটি আপনার দলের কিছু বিধায়কের উদ্দেশ্যে বলছিলেন বোধহয়।” এরপরই তিনি লেখেন, “সত্যি বলতে কী, আপনাদের মুখে বারবার বিবেকের কথা শুনে আমার একটু অস্বস্তি, একটু অশান্তি লাগল। তাই কয়েকটা প্রশ্ন মনে এল।” তিনি আরও জানতে চান, “যখন এই নেত্রীর ৫৫-৫৬ বা তার আশেপাশে বয়স ছিল, তখন তার বিবেক কোথায় ছিল?” পাশাপাশি ২০০১, ২০০৬ এবং ২০০৯ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, সেই সময় কি শুধুমাত্র একজন নেত্রীর জনপ্রিয়তার জোরেই দলের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছিলেন, নাকি অন্য নেতাদের অবদানও ছিল।
চিঠির সবচেয়ে আলোচিত অংশে তাপস পালের প্রসঙ্গ টেনে নন্দিনী লেখেন, “আর তখন, যখন তাপস পাল নামক একজন মানুষকে রাজনৈতিক প্রয়োজনে ব্যবহার করে শেষ পর্যন্ত কার্যত ছিবড়ে করে ফেলা হয়েছিল, এবং দীর্ঘদিন ধরে মানসিক যন্ত্রণা দিয়ে তাকে মৃ’ত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল, তখন তার সেই বিবেক কোথায় ছিল?” এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন যে, তাঁর স্বামীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, দীর্ঘদিন ধরে মানসিক চাপের মধ্যেও থাকতে হয়েছে তাঁকে। নন্দিনীর দাবি, তাপস পালের জীবনের শেষ পর্বে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তার যথাযথ মূল্যায়ন কখনও করা হয়নি। ফলে সেই ক্ষোভ আজও তাঁর পরিবারের মধ্যে রয়ে গেছে।
আরও পড়ুনঃ “এতই বউ ন্যাওটা যখন তখন বাড়িতে থাকলেই হয়”, নায়িকার সঙ্গে সবকিছুতেই বউয়ের বারণ? এ কেমন নায়ক? ‘শুধু তোমারই জন্য’-এর শুভ্রজিৎ ও দীপান্বিতার জুটির সম্পর্কে ভাঙন! স্বামীর সঙ্গে নায়িকা ছবি পোস্ট করতেই, নায়ক-পত্নী প্রিয়াঙ্কার বি’স্ফোরক ইঙ্গিত! বিতর্কে তোলপাড় নেটপাড়া!
তবে এখানেই থেমে থাকেননি নন্দিনী মুখোপাধ্যায়। চিঠির শেষাংশে তিনি কুণাল ঘোষের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর কথায়, “বারবার একই ধরনের যুক্তি শুনতে শুনতে বিরক্ত লাগে। তাই এবার একটু থামুন, দোহাই আপনাকে। আপনি তো একসময় জেলে গিয়েছিলেন, আপনার নেত্রীর দয়াতেই…” যদিও এই প্রসঙ্গে বিস্তারিত মন্তব্য করেননি তিনি। তবে জানতে চেয়েছেন, “সেই সময় আপনি এই নেত্রীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অনেক কথা বলেছিলেন, নানান অভিযোগও করেছিলেন। তারপর কী এমন ঘটল যে আজ আপনার সঙ্গে সেই নেত্রীর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত রসায়ন সম্পূর্ণ বদলে গেল? এটা কি মতাদর্শের পরিবর্তন? নাকি পরিস্থিতির প্রয়োজন? নাকি অন্য কোনও কারণ? সেই পরিবর্তনের গল্পটাই বরং শুনতে চাই। কারণ রাজনীতিতে অবস্থান বদলানো অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু সেই পরিবর্তনের ব্যাখ্যা সাধারণ মানুষের জানার অধিকার আছে।”






