“বিজেপি ও আরএসএস আমাদের সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখবে…ভারতবর্ষের জন্য এটাই দরকার, ওদের আদর্শকেই আমি সমর্থন করি” ভূয়সী প্রশংসা মমতা শঙ্করের! এবার গেরুয়া শিবিরে যোগ দিতে চলেছেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী?

সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবি ঘিরে নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছেন অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী মমতা শঙ্কর। ভাইরাল হওয়া সেই ছবিতে তাঁকে আরএসএসের একটি অনুষ্ঠানের মঞ্চে দেখা যায়। এরপর ছবিটির সত্যতা যাচাই করতে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেই জানান যে, তিনি সত্যিই ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের দক্ষিণবঙ্গ প্রান্ত সংঘ শিক্ষা বর্গের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। বিষয়টি স্বীকার করে মমতা শঙ্কর বলেন, “হ্যাঁ, গিয়েছিলাম। আমার আরএসএসের কাজ, আদর্শ খুব ভাল লাগে। আমার মনে হয় যে ভারতবর্ষের জন্য এটা খুব দরকার। সেই জন্যই আমি গিয়েছিলাম।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আলোচনা।

আরএসএসের প্রতি নিজের ইতিবাচক মনোভাব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অভিনেত্রী আরও বলেন, “ওদের ডিসিপ্লিন, নীতি আমার খুব ভাল লাগে বলেই গিয়েছিলাম। এর আগেও গিয়েছি, আবারও গেলাম।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, এই প্রথম নয়, অতীতেও তিনি সংঘের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকেছেন। মমতা শঙ্করের মতে, সংগঠনের কাজের ধরণ এবং তাদের শৃঙ্খলাবোধ তাঁকে আকৃষ্ট করে। তাই কোনও বিশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে নয়, বরং দীর্ঘদিনের বিশ্বাস ও পছন্দ থেকেই তিনি ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে বিনোদন জগতেও তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

এর মধ্যেই রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন মমতা শঙ্কর। নতুন সরকার সম্পর্কে তাঁর মতামত জানতে চাওয়া হলে অভিনেত্রী বলেন, “আমি খুবই আশাবাদী। যেভাবে কাজ হচ্ছে, সেটা খুবই ভাল লাগছে। আমি চাইব ওঁরা এভাবেই কাজটা করে যান। দেশের ভাল ভেবে নিঃস্বার্থ ভাবে কাজটা করে যান, এটাই চাইব।” তিনি জানান, নতুন প্রশাসনের বিভিন্ন উদ্যোগ তাঁর কাছে ইতিবাচক বলে মনে হয়েছে। তবে একই সঙ্গে কিছু বিষয়ে আরও সময় ও পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মত প্রকাশ করেছেন তিনি।

সরকারি উদ্যোগের প্রসঙ্গে মমতা শঙ্কর বলেন, “কয়েকটা কাজ হয়তো আরও একটু সময় দিয়ে করলে ভাল হয়। যেমন, এই দোকানগুলো যে উচ্ছেদ করা হচ্ছে তাঁদের একটু সময় দিয়ে যদি উচ্ছেদ করা হয় তাহলে ভাল হয়। কিন্তু যে উদ্যোগ নিয়েছেন সেটা খুবই ভাল।” অর্থাৎ সরকারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করলেও সাধারণ মানুষের সুবিধার বিষয়টিও মাথায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, অতীতেও ভারতীয় সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ে একাধিকবার সরব হয়েছেন মমতা শঙ্কর। শাড়ি পরার কিছু আধুনিক ধারা, পোশাকের উপস্থাপনা কিংবা পারিবারিক মূল্যবোধ নিয়ে তাঁর মন্তব্য নানা সময়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।

আরও পড়ুনঃ ‘অসম্ভব য’ন্ত্রণা দিয়ে মেরে ফেলল…রাজনৈতিক প্রয়োজনে তাপস পালকে ছিবড়ে করে দেওয়া হয়েছিল, তখন নেত্রীর বিবেক কোথায় ছিল?’ মমতার প্রতি ‘বিবেকবান’ হওয়ার অর্জি করতে কুণাল ঘোষকে আয়না দেখালেন প্রয়াত অভিনেতার স্ত্রী নন্দিনী!

ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার প্রশ্নে বিজেপি ও আরএসএসের ভূমিকাকে সমর্থন করেই মমতা শঙ্কর বলেন, “একদম। ভীষণ ভাবে এটা বলব। ওরা আমাদের সংস্কৃতিকে ধরে রেখেছে। আমি চাইব ভারতের সেই সংস্কৃতি ঐতিহ্য ফিরে আসুক। আশা রাখি যে ভারত জগৎ সভায় শ্রেষ্ঠ আসন লবে। এটা আমার স্বপ্ন।” তিনি আরও বলেন, “প্রত্যেকের মধ্যে বাড়িতে বাড়িতে এই শিক্ষা হোক। বিদেশ কিন্তু আমাদের দেশের দিকে তাকিয়ে আছে। আমাদের সংস্কৃতি, আধ্যাত্মিকতা, সব কিছুকে ওরা নেওয়ার চেষ্টা করছে। আর আমরা ওখান থেকে যত খারাপ জিনিসগুলোকে নেওয়ার চেষ্টা করছি। খারাপগুলো যেন আমরা বর্জন করি এটাই চাইব।” তাঁর এই বক্তব্য সামনে আসার পর রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, শুধুই সমর্থন নাকি ভবিষ্যতে সক্রিয় রাজনীতিতেও দেখা যেতে পারে তাঁকে। যদিও এ বিষয়ে সরাসরি কোনও ইঙ্গিত দেননি অভিনেত্রী।

You cannot copy content of this page