“রাজনীতিতে আসতে চাইছি, কিন্তু কেউ ডাকছে না… ডাকলেই চলে আসব” ‘দাঁতে দাঁত চেপে’ অঙ্গভঙ্গিতে যীশু সেনগুপ্তর মন্তব্য ঘিরে জোর জল্পনা! পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের বিতর্কিত বক্তব্যকেই কি পরোক্ষে খোঁচা দিলেন অভিনেতা?

দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। রাজনৈতিক পালাবদলের প্রভাব শুধু প্রশাসন বা রাজনীতির অন্দরমহলেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, তার ছাপ পড়েছে বাংলা বিনোদন জগতেও। একসময় টলিউডের বহু জনপ্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রীকে প্রকাশ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থনে কথা বলতে কিংবা নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিতে দেখা গিয়েছিল। তাঁদের অনেকেই বিভিন্ন সরকারি মঞ্চ ও কর্মসূচিতেও উপস্থিত থাকতেন। কিন্তু সরকার বদলের পর সেই পরিচিত মুখগুলির অনেকের বক্তব্য ও অবস্থানে পরিবর্তন লক্ষ্য করছেন সাধারণ মানুষ। ফলে রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে টলিউডের অন্দরেও নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকেই।

ঠিক এমনই এক বিতর্কের কেন্দ্রে কিছুদিন আগে উঠে এসেছিলেন অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। টলিউডের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও বিতর্ক নিয়ে আয়োজিত একটি বৈঠকে তিনি দাবি করেছিলেন, সদ্যজাত সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে, পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে এবং বিভিন্ন চাপের মুখে পড়ে তাঁকে “দাঁতে দাঁত চেপে” রাজনীতির বিভিন্ন যেতে হয়েছিল। তাঁর এই মন্তব্য সামনে আসার পর সমাজমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, যে অভিনেতাকে অতীতে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে সক্রিয়ভাবে প্রচার করতে দেখা গিয়েছিল, তিনি এখন কেন এমন বক্তব্য রাখছেন। সেই সময় পরমব্রতকে ঘিরে কটাক্ষ এবং সমালোচনার ঝড়ও কম ওঠেনি।

এরই মধ্যে এবার রাজনীতি প্রসঙ্গে মুখ খুললেন অভিনেতা যীশু সেনগুপ্ত। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি কেন এখনও রাজনীতিতে যোগ দেননি। জবাবে যীশু মজার ছলেই বলেন, তাঁকে কেউ ডাকেই না। ডাকলেই তিনি রাজনীতিতে চলে আসবেন। তবে তাঁর কথার মধ্যে আরও একটি বিষয় নেটিজেনদের বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। হাসতে হাসতেই তিনি দাঁতে দাঁত চেপে মজার ছলে কথাগুলো বলেছেন।

যীশুর এই মন্তব্য সামনে আসতেই সমাজমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানান ব্যাখ্যা। অনেকেই মনে করছেন, অভিনেতা নিছক রসিকতার ছলে কথা বললেও তাঁর ব্যবহৃত বলার ধরন কাকতালীয় নয়। কারণ কিছুদিন আগেই একই শব্দবন্ধ ব্যবহার করে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছিলেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। ফলে দুই ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র খুঁজতে শুরু করেছেন নেটিজেনদের একাংশ। কেউ কেউ সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, যীশু কি ইচ্ছাকৃতভাবেই পরমব্রতকে খোঁচা দিতে ওই মন্তব্য করেছিলেন?

আরও পড়ুনঃ এসভিএফের ধারাবাহিক মানেই জুটির ঝামেলা! যশ-মধুমিতা, দিব্যজ্যোতি-স্বস্তিকা, জিতু-দিতিপ্রিয়ার পর এবার শুভ্রজিৎ-দীপান্বিতার অশান্তি! নায়ক-নায়িকার টানাপোড়েন ঘিরে বিতর্কে সরগরম টেলিপাড়া! একই প্রযোজনা সংস্থায় বারবার একই ঘটনা কেন? প্রশ্ন ছোটপর্দার দর্শকদের!

যদিও যীশু সেনগুপ্ত নিজে এমন কোনও ইঙ্গিত দেননি এবং তাঁর বক্তব্যকে অনেকেই নিছক হাসি-ঠাট্টা হিসেবেই দেখছেন। তবুও সমাজমাধ্যমে জল্পনা থামছে না। একের পর এক পোস্ট ও মন্তব্যে নেটিজেনদের দাবি, যীশুর মন্তব্যের আড়ালে কি সত্যিই পরমব্রতকে উদ্দেশ্য করে কোনও বার্তা ছিল? নাকি পুরো ঘটনাই নিছক কাকতালীয়? সেই উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। তবে রাজনৈতিক পালাবদলের পর টলিউডের শিল্পীদের বক্তব্য এবং অবস্থান নিয়ে যে সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও কৌতূহল বেড়েছে, তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল এই বিতর্ক ঘিরে।

You cannot copy content of this page