স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারির খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সমাজ মাধ্যমে নানান প্রতিক্রিয়া সামনে আসছে। সেই আবহেই একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন অভিনেতা অরিত্র দত্ত বণিক। নিজের পোস্টে তিনি কয়েক মাস আগের একটি বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে আনেন, যা অনুষ্ঠিত হয়েছিল অভিনেতা রাহুল অরুণোদয়ের মৃত্যু-ঘটনা নিয়ে আলোচনা করার জন্য। অরিত্রর দাবি, সেই বৈঠকে সংবাদ মাধ্যমকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তিনি কিছু সময় বৈঠকের মধ্যে উপস্থিত থাকলেও পরে বেরিয়ে আসেন। তাঁর বক্তব্য, সেখানে স্বরূপ বিশ্বাসের উপস্থিতিতে রাহুলের নাম উচ্চারণ হতেই কয়েকজন উত্তেজিত হয়ে ওঠেন।
একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের হাত থেকেও মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। অরিত্র আরও জানান, বৈঠকের সময় তিনি এমন কিছু আচরণ প্রত্যক্ষ করেছিলেন যা তাঁর ভালো লাগেনি। তবে শিল্পী সংগঠনের সদস্য হওয়ার কারণে তিনি কখনও প্রকাশ্যে কারও নাম বলেননি এবং এখনও সেই অবস্থানেই রয়েছেন। তাঁর কথায়, সংগঠনের নিয়ম মেনে চলাটাই তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি লেখেন, যাঁরা একসময় বাইরে একরকম অবস্থান নিতেন, অথচ ব্যক্তিগতভাবে অন্য রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখতেন, তাঁদের অনেককেই এখন নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ খুঁজতে দেখা যাচ্ছে।
এমনকি কয়েকজন শিল্পীকে তিনি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার প্রসঙ্গও টেনে আনেন। পোস্টের শেষে অরিত্র মন্তব্য করেন, “এদের দেখে মজা পাচ্ছি।” অরিত্রর এই পোস্ট ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি হয়েছে অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। তিনি লিখেছেন, “শুধু স্বরূপকে দোষ দিয়ে লাভ কী? যে ব্যবস্থা এমন স্বরূপদের তৈরি করে, দায় তো সেই ব্যবস্থারও। সংস্কারের নামে যা যা হয়েছে, সেগুলো দেখেও অনেকে চুপ থেকেছে। একজনকে গ্রেফতার করলে তার জায়গায় আরও দশজন তৈরি হয়ে যাবে। বরং খুঁজে দেখা উচিত, কারা তাঁকে ঘিরে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করেছে। তারাই প্রকৃত অপরাধী।” শ্রীলেখা আরও লেখেন, “কেউ একদিনে স্বরূপ হয়ে ওঠে না, একটা গোটা ব্যবস্থা তাকে সেই জায়গায় পৌঁছে দেয়।”
পাশাপাশি তিনি স্মরণ করেন সেই বৈঠকের দিনের কথা, যখন স্বরূপ বিশ্বাসকে নিয়ে একটি মন্তব্য করায় অনেকেই তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন। অভিনেত্রীর বক্তব্যে আরও উঠে আসে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত অনুভূতি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যাঁরা সেদিন তাঁর বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন, স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারির খবরে তাঁদের প্রতিক্রিয়া কী? তাঁরা কি দুঃখিত, না কি খুশি? তবে শ্রীলেখা স্পষ্ট করে দেন যে শুধুমাত্র একজনের গ্রেফতারিকে তিনি কোনও চূড়ান্ত সমাধান হিসেবে দেখছেন না। তাঁর মতে, পরিবর্তন আনতে হলে মানুষকেই আগে বদলাতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনও নতুন স্বরূপ তৈরি না হয়। তারপরেই প্রকৃত পরিবর্তনের আনন্দ উদযাপন করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ জামিন অযোগ্য ধারায় এফআইআর সোহম চক্রবর্তীর নামে! স্বরূপের গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই প্রকাশ্যে, টলিপাড়ায় একের পর এক হিসাবনিকাশ! গ্রেফতার হতে চলেছেন তৃণমূল প্রাক্তন বিধায়ক-অভিনেতা?
অন্যদিকে অভিনেত্রী রূপঞ্জনা মিত্রও এই পোস্টের নিচে নিজের মতামত জানান। তিনি লেখেন, “ডব্লিউবিএমপিএএফ-এ কোনও দিন কাজ করেছ? সেদিন যা ঘটেছিল, তার পরে বুম্বাদা-সহ চারজন অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। রাহুলের জন্য বৈঠক ডাকা হয়েছিল, ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য পূরণের জায়গা ছিল না সেটা।” রূপঞ্জনা আরও দাবি করেন, ২০১৯ সাল থেকেই বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছিল এবং শিল্পী ও টেকনিশিয়ানদের স্বার্থ রক্ষার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, অরিত্র নিজের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ থেকে যা লিখেছেন, তা তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি হতে পারে, কিন্তু সেটাই একমাত্র সত্যি এমনটা নয়। পাশাপাশি তিনি রাজনীতি-মুক্ত বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিল্পের দাবি তোলার আহ্বান জানান এবং বলেন, বর্তমান ও প্রাক্তন উভয় সরকারকেই শুরু থেকেই সেই অনুরোধ জানানো হয়েছিল।






