‘দিদি আশ্বাস দিয়েছিলেন রাজনীতি মুক্ত ইন্ডাস্ট্রি হবে’ স্বরূপ গ্রেফতারির আবহে, তৃণমূলের সাফাই গাইতে এসে ফের ধুয়ে গেলেন রূপাঞ্জনা মিত্র! ‘চুপ থাকুন, পচা ডিম এখন ট্রেন্ড’ হুঁশিয়ারি নেটিজেনদের!

গতকাল রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়া মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই তথা টলিউড ফেডারেশনের প্রাক্তন প্রধান স্বরূপ বিশ্বাসের (Swarup Biswas) গ্রেফতারি ঘিরে টলিপাড়ার অন্দরমহলের নানান পুরনো বিতর্ক নতুন করে সামনে আসছে। এই আবহেই সমাজ মাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট করেছিলেন অভিনেতা অরিত্র দত্ত বণিক (Aritra Dutta Banik)। সেখানে তিনি আর্টিস্ট ফোরামের একটি বৈঠকের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে দাবি করেন, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু সংক্রান্ত আলোচনার সময় কিছু অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সাক্ষী ছিলেন তিনি। সেই পোস্টে তিনি আরও ইঙ্গিত করেন যে, প্রকাশ্যে এক ধরনের রাজনৈতিক অবস্থান দেখালেও অনেকেই নেপথ্যে অন্য সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন।

অরিত্রর এই বক্তব্য ঘিরেই শুরু হয় নতুন বিতর্ক, আর সেই আলোচনায় যোগ দেন অভিনেত্রী রূপাঞ্জনা মিত্র (Rupanjana Mitra)। অরিত্রর বক্তব্যের জবাবে রূপাঞ্জনা লেখেন, “ডব্লিউবিএমপিএএফে কোনও দিনও কাজ করেছো? সেদিন যা হয়েছিল তারপরে ৪ জন অসুস্থ হয়ে পড়ে, বুম্বাদা-সহ। রাহুলের জন্য মিটিং ছিল, নিজেদের পার্সোনাল অ্যাজেন্ডা মেটাবার জায়গা ছিল না। ২০১৯ থেকেই অনেক কাজ চলছে ভাই। পারলে আমাদের যারা টেকনিশিয়ান, যাদের সঙ্গে কাজ করে এসেছি তাদের রাতারাতি কার্ড বাতিল সমর্থন করো না। এরকম ভবিষ্যতে কিছু একটা হবে বলেই আর্টিস্ট ফোরাম আলাদা হয়েছিল।

ঘটনাটি সেদিন যা ঘটেছিল সেটা তোমার পার্সপেকটিভ থেকে তোমার অবজারভেশন থেকে তুমি যা বুঝতে পেরেছো সেটা মিলিয়ে এটা লিখেছো, কিন্তু সেটাই যে সত্যি তা নাও হতে পারে। রাজনীতি মুক্ত বাংলা ফিল্ম ও টেলিভিশনের জন্য পারলে দাবি তোলো। বর্তমান রাজ্য সরকারের কাছেও এটাই অনুরোধ ছিল শুরু থেকেই। আর প্রাক্তন রাজ্য সরকারও তাই আশ্বাস দিয়েছিলেন।” তাঁর এই মন্তব্যের পর অরিত্র জানান, বয়সে ছোট হলেও তিনি অনেক কিছু দেখেছেন এবং নিজের পর্যবেক্ষণ থেকেই মত প্রকাশ করেছেন। এরপরই বিতর্ক আরও বেড়ে যায়।

অরিত্রর সেই উত্তরের পাল্টা জবাবে রূপাঞ্জনা লেখেন, “বয়স কম যখন বেশি বুঝতে এসো না, এক চড় খেলেই বুঝিয়ে দেবো আমি কে আর এতদিন কি করেছি।” অভিনেত্রীর এই মন্তব্য সামনে আসতেই সমাজ মাধ্যমে শুরু হয় প্রবল প্রতিক্রিয়া। অনেকের মতে, মতের অমিল থাকতেই পারে, কিন্তু প্রকাশ্যে এই ধরনের ভাষা ব্যবহার একজন পরিচিত শিল্পীর কাছ থেকে প্রত্যাশিত নয়। বিশেষ করে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে, যখন টলিউডের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হচ্ছে, তখন এমন মন্তব্য আরও বেশি নজর কেড়েছে।

রূপাঞ্জনার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে নেটমাধ্যমে। একসময় তৃণমূলের সমর্থক হিসেবে পরিচিত থাকার পর তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। পরে আবার তৃণমূলে ফিরে আসেন। নির্বাচনের আগে বিজেপিকে কটাক্ষ করে তাঁর করা কিছু মন্তব্য নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ফলে নতুন এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই অনেকে পুরনো ঘটনাগুলিও টেনে আনছেন। তাঁদের একাংশের দাবি, জনসমক্ষে থাকা ব্যক্তিদের সমালোচনা সহ্য করার মানসিকতা থাকা উচিত এবং মতভেদকে ব্যক্তিগত আক্রমণের জায়গায় নিয়ে যাওয়া ঠিক নয়। অভিনেত্রীর মন্তব্যের নীচে একের পর এক প্রতিক্রিয়া জমা পড়তে থাকে।

আরও পড়ুনঃ ‘মুখে বাম মনে তৃণমূল’, রাহুল-কান্ডের মিটিংয়ে শ্রীলেখা মিত্র মুখ খুলতেই রে রে করে উঠেছিল অনেকেই! স্বরূপ বিশ্বাস গ্রেফতার হতেই, সেই অভিনেতাদের পোল খুললেন অরিত্র দত্ত বণিক!

একজন লিখেছেন, “ওই জামানা চলে গেছে যে কেউ কিছু বললেই চড় মেরে দেবে। এখন পাবলিক ঘুরে পচা ডিম মারবে। আর চেটে ঘর চলবে না।” অন্য একজনের মন্তব্য, “ওমা এ আবার থ্রেট দেয়! সোশ্যাল মিডিয়ায় ধমকি দেওয়ার জন্য আপনার রাঘব বোয়ালদের নামে সমন গেছে দেখেছেন তো? থ্রেটের দিন গেছে দিদিমণি, লাগাম টানুন। পচা ডিম এখন ট্রেন্ড। আপনার কমেন্টটাতে ১৭৯টা রিঅ্যাক্ট, তার মধ্যে ১৬৪টা হাহা। বুঝতে পারছেন কী অবস্থায় আছেন? কদিন একটু চুপ থাকুন, তাতে আপনারই অবশিষ্ট সম্মানটুকু থাকবে।” আরেকজন সরাসরি লিখেছেন, “এই চোর, এখন আপনাদের সরকার নেই। সামলে চলুন, মানুষ কিন্তু ডিম মারবে!” ফলে একটি মন্তব্য ঘিরেই ফের চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন অভিনেত্রী।

You cannot copy content of this page