বিনোদন জগতে তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন, সম্পর্ক এবং পেশাগত ওঠানামা নিয়ে আলোচনা প্রায়ই শিরোনামে উঠে আসে। কখনও কোনও মন্তব্য ঘিরে তৈরি হয় বিতর্ক, আবার কখনও পুরনো কোনও প্রসঙ্গ নতুন করে সামনে আসে। সেই তালিকায় শ্রীলেখা মিত্রও ব্যতিক্রম নন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী নিজের অভিনয়জীবন, কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভূমিকা এবং সহ-অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখার্জিকে ঘিরে বেশ কিছু অকপট কথা বলেছেন। তাঁর কথায় উঠে এসেছে সম্পর্কের কারণে কাজ পাওয়ার ধারণা নিয়ে নিজের অবস্থানও।
বাংলা বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ শ্রীলেখা মিত্র দীর্ঘদিন ধরে অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত। সিনেমা থেকে টেলিভিশন বিভিন্ন মাধ্যমে নিজের অভিনয়ের ছাপ রেখেছেন তিনি। নিজের ব্যক্তিগত মতামত নিয়েও বরাবরই স্পষ্টবাদী হিসেবে পরিচিত শ্রীলেখা। সম্প্রতি সেই সাক্ষাৎকারেই অভিনেত্রীকে বলতে শোনা যায়, স্বস্তিকা মুখার্জি একসময় তাঁর অভিনয়ের মধ্যে কিছু খামতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছিলেন। শ্রীলেখার দাবি, স্বস্তিকা যা বলেছিলেন, তা হয়তো ঠিকই বলেছিলেন। তবে সেই প্রসঙ্গ টেনে নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও রসিকতার সুরে তিনি বলেন, স্বস্তিকার মতো এতগুলো প্রেম তিনি করতে পারেননি।
এরপরই স্বস্তিকা মুখার্জির সঙ্গে পরিচালক সৃজিত মুখার্জির সম্পর্কের পুরনো প্রসঙ্গ উঠে আসে। শ্রীলেখা জানান, একসময় শোনা যেত, স্বস্তিকা এবং সৃজিতের সম্পর্কের কারণে স্বস্তিকা নাকি তাঁর ১৭টি ছবিতে কাজ করবেন। সেই প্রসঙ্গেই স্বস্তিকা একবার বলেছিলেন, ৬ বছর প্রেম করেও তিনি শ্রীজিতের ১৭টি ছবিতে কাজ করেননি। বরং আড়াইটে ছবিতে কাজ করেছিলেন। স্বস্তিকার সেই বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে শ্রীলেখা জানান, তাঁর ক্ষেত্রেও সৃজিতের ছবিতে তুলনামূলকভাবে কম কাজ করার কারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে পারে। কিন্তু এর পেছনে সম্পর্কের সমীকরণ খোঁজার বদলে তাঁর মতে, সেই সময় হয়তো সৃজিতের তাঁকে প্রয়োজন ছিল না, অথবা নির্দিষ্ট চরিত্রটির জন্য তিনি উপযুক্ত ছিলেন না।
শ্রীলেখার কথায়, এমনও হতে পারে যে তিনি নিজের অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচালককে সেই চরিত্রের জন্য যথেষ্টভাবে ‘কনভেন্স’ করতে পারেননি। অর্থাৎ কোনও নির্দিষ্ট ছবিতে সুযোগ না পাওয়ার পেছনে ব্যক্তিগত সম্পর্ককেই একমাত্র কারণ হিসেবে দেখার পক্ষপাতী নন অভিনেত্রী। বরং একজন অভিনেত্রী হিসেবে কোনও চরিত্রের জন্য তাঁকে প্রয়োজন ছিল কি না, তিনি সেই চরিত্রের সঙ্গে কতটা মানানসই ছিলেন এবং পরিচালক তাঁকে সেই ভূমিকায় দেখতে চেয়েছিলেন কি না এই বিষয়গুলিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি। সেই সঙ্গে স্বস্তিকার সঙ্গে সৃজিতের সম্পর্ককে ঘিরে অতীতে যে আলোচনা ছিল, সেটিকেও তিনি মূলত সেই সময়ের একটি প্রচলিত ধারণা হিসেবেই তুলে ধরেছেন।
আরও পড়ুনঃ “রবীন্দ্রনাথের কোনও গল্প বা উপন্যাস ততটাও উঁচুমানের নয়…” বিশ্বসাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান নিয়ে অঞ্জন দত্তের মন্তব্যে তুমুল বিতর্ক! ‘কবিগুরুকে বুঝতে একশো জনম নিতে হবে আপনাকে!’ ‘মনে না হওয়াটা আপনার দুর্বলতা রবীন্দ্রনাথের নয়’, ‘আপনাকে কয় প্রজন্ম মনে রাখবে, এমন উঁচু দরের কী করেছেন?’ সমাজ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড়!
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, নিজের কেরিয়ার নিয়ে শ্রীলেখা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি কখনও ব্যক্তিগত সম্পর্ককে কাজ পাওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেননি। তাঁর দাবি, আগাগোড়াই নিজের যোগ্যতার ভিত্তিতেই কাজ পেয়েছেন তিনি। কোনও পরিচালকের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে সেই সম্পর্কের জেরে ভালো চরিত্র কিংবা ছবিতে সুযোগ পাওয়ার চেষ্টা তাঁর ছিল না। ফলে স্বস্তিকা মুখার্জিকে ঘিরে পুরনো প্রেম ও কাজের প্রসঙ্গ সামনে এলেও, শ্রীলেখার বক্তব্যের মূল জায়গা আসলে নিজের পেশাগত পরিচয় এবং যোগ্যতার উপর তাঁর আস্থা। তাঁর এই অকপট মন্তব্য ফের একবার বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে সম্পর্ক ও পেশাগত সুযোগের সমীকরণ নিয়ে আলোচনার দরজা খুলে দিয়েছে।






