বাংলা সংস্কৃতি জগতের অন্যতম পরিচিত নাম অঞ্জন দত্ত (Anjan Dutt)। একাধারে তিনি অভিনেতা, পরিচালক, গীতিকার, গায়ক এবং চিত্রনাট্যকার। কয়েক দশক ধরে বাংলা সিনেমা ও সংগীতের জগতে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছেন তিনি। ‘বেলা বোস’, ‘রঞ্জনা’, ‘পুরোনো গিটার’-এর মতো জনপ্রিয় গান যেমন তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে, তেমনই পরিচালক হিসেবেও একাধিক প্রশংসিত ছবি উপহার দিয়েছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিল্পচর্চা নিয়ে স্পষ্ট মত প্রকাশের জন্যও তিনি বরাবর আলোচনায় থাকেন। এবারও একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তাঁর একটি মন্তব্যকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য নিয়ে তাঁর বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সমাজমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
সাক্ষাৎকারে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য নিয়ে নিজের মত প্রকাশ করতে গিয়ে অঞ্জন দত্ত বলেন, “রবীন্দ্রনাথের গল্প বা উপন্যাস আমার মনে হয় না খুব উঁচুমানের, বরং ওনার গান যতটা!” একইসঙ্গে তিনি রবীন্দ্রসংগীতের প্রশংসাও করেন এবং ইঙ্গিত দেন যে, তাঁর মতে রবীন্দ্রনাথের গানের মূল্য ও গুরুত্ব সাহিত্যকর্মের তুলনায় আরও বেশি। সাক্ষাৎকারের এই অংশটি সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পরই শুরু হয় বিস্তর আলোচনা। কেউ তাঁর ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে বিষয়টিকে দেখেছেন, আবার অনেকে এই মন্তব্যের সঙ্গে একেবারেই একমত হতে পারেননি। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ভিডিওটির কমেন্ট বক্সে অসংখ্য প্রতিক্রিয়া জমা পড়তে শুরু করে।
সমালোচকদের একাংশের দাবি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যকে এভাবে মূল্যায়ন করা ঠিক নয়। একজন নেটিজেন লেখেন, “আপনার না মনে হওয়াটা আপনার দুর্বলতা রবীন্দ্রনাথের নয়। এইসব কথার মারপ্যাঁচ আজকাল বাচ্চারাও বোঝে, বড়কে ছোট করা লোকে যেন ভাবে..আরে সত্যিই কত জানে…। দাদা আমাকে একশো জনম নিতে হবে রবীন্দ্রনাথকে বুঝতে, নিরানব্বই আপনাকেও!” এই মন্তব্যে বহু মানুষ সমর্থনও জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, বিশ্বসাহিত্যে রবীন্দ্রনাথের অবদান নিয়ে নতুন করে ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই। তাই এমন মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
আরও এক নেটিজেন লেখেন, “আপনি সমাজে এমন উঁচু দরের কিছু করেননি যে আপনার কথা শুনে আমরা কিছুটা ভাববো। বরং এটাই বুঝলাম যে আপনার বোঝার মধ্যে অনেকটা ফাঁক থেকে গেছে। যদি গল্পের কথা ধরি তাহলে বলি রবীন্দ্রনাথের ছোট গল্প বিশ্ব সাহিত্যের দরবারে সমাদৃত। এমনকি শ্রেষ্ঠ ছোটগল্পকারদের অন্যতম বলা হয়। আর উপন্যাসের মধ্যে দু-একটি বাদ দিলে অনবদ্য সাহিত্য। গান নিয়ে আপনি না বললেও সবাই জানে সেখানে কতটা মনিমানিক্য আছে। তিনি নিজেই বলেছেন যে তাঁর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি তাঁর গান।” এই মন্তব্যও সমাজ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যকীর্তির নানান উদাহরণ তুলে ধরে নিজেদের মত প্রকাশ করেছেন।
তবে এই বিতর্কের মধ্যেই একাংশের মত, সাহিত্য, সংগীত বা শিল্প নিয়ে ভিন্ন মত থাকতেই পারে এবং একজন শিল্পী হিসেবে অঞ্জন দত্ত তাঁর ব্যক্তিগত মূল্যায়ন প্রকাশ করেছেন। আবার অন্য একটি অংশের মতে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো বিশ্ববরেণ্য সাহিত্যিককে নিয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে আরও সংযত হওয়া উচিত। ফলে বিষয়টি শুধুমাত্র একটি সাক্ষাৎকারের মন্তব্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাংলা সাহিত্য, সংগীত এবং শিল্পচর্চা নিয়ে নতুন বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে। সমাজ মাধ্যমে এখনও এই প্রসঙ্গে নানা মত ও পাল্টা মত প্রকাশ অব্যাহত রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ “নিজের ভুল বুঝে কেউ অন্ধকার ছেড়ে আলোর পথে এলে কি সেটা অপরাধ, তাকে কি সুযোগ দেওয়া উচিত না?” “তৃণমূলের নীতি মানেই তো দুর্নী’তি, দিনের পর দিন ওই অপ’রাধ দেখেও কি থাকা যায়?” রচনা, সায়নী, দেবের মতো তারকা সাংসদদের দলবদলের পক্ষেই সাওয়াল, বিজেপির তারকা বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষের!
অঞ্জন দত্ত এখনও পর্যন্ত এই বিতর্ক নিয়ে আলাদা করে নতুন কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি। তবে তাঁর সাক্ষাৎকারের ওই অংশটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিষয়টি নেটদুনিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। কেউ তাঁর বক্তব্যকে ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যকে এভাবে মূল্যায়ন করা উচিত নয়। ফলে একটি মন্তব্য ঘিরেই বাংলা সাংস্কৃতিক পরিসরে নতুন করে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়েছে, যা এখনও থামার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।






