“নিজের ভুল বুঝে কেউ অন্ধকার ছেড়ে আলোর পথে এলে কি সেটা অপরাধ, তাকে কি সুযোগ দেওয়া উচিত না?” “তৃণমূলের নীতি মানেই তো দুর্নী’তি, দিনের পর দিন ওই অপ’রাধ দেখেও কি থাকা যায়?” রচনা, সায়নী, দেবের মতো তারকা সাংসদদের দলবদলের পক্ষেই সাওয়াল, বিজেপির তারকা বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষের!

বিগত তিন মাসে বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর কার্যত তারকা শুন্য তৃণমূল এমনকি দলেও ধরেছে ফাটল। এরই মাঝে প্রাক্তন তৃণমূল তারকা বিধায়ক ও সাংসদরা এনসিপিআই এবং বিজেপিতে যোগদান করেছেন। এই নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই তুঙ্গে তরজা, এবার এই প্রসঙ্গে মুখ খুললেন বিজেপির তারকা বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ (Rudranil Ghosh)। নিজের স্পষ্ট মত প্রকাশ করতে বরাবরই পিছপা হন না অভিনেতা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দলবদল এবং তারকা সাংসদদের ভূমিকা নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেন। তাঁর কথায়, গত কয়েক বছরে রাজ্যে যে অশান্তি, হিংসা এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের নানান ঘটনা সামনে এসেছে, সেই সময় বহু পরিচিত মুখের কাছ থেকে মানুষ আরও স্পষ্ট অবস্থান আশা করেছিলেন।

তাঁর মতে, জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বরা যদি সেই সময় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কিছু কথা বলতেন, তাহলে অনেকের মনে ইতিবাচক প্রভাব পড়ত। এই নীরবতাই সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে বলেও তিনি মনে করেন। একই সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন অভিনেতা। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যেখানে নীতি ও আদর্শের চেয়ে অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগই বেশি সামনে এসেছে। রুদ্রনীলের কথায়, “তৃণমূলের একটাই নীতি ছিল, সেটা দুর্নীতি।” তাঁর মতে, এমন পরিস্থিতির সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত থাকার পর যদি কেউ হঠাৎ নিজের অবস্থান বদলান, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন তৈরি হবে।

তাই শুধু দল পরিবর্তন করলেই হবে না, কেন সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, সেটাও মানুষের সামনে পরিষ্কার করে বলা উচিত। দলবদল প্রসঙ্গে রুদ্রনীল ঘোষের বক্তব্য ছিল কিছুটা ভিন্ন। তিনি মনে করেন, কেউ যদি নিজের অতীতের ভুল বুঝতে পারেন এবং নতুন কোনও পথ বেছে নিতে চান, তাহলে তাঁকে সেই সুযোগ দেওয়া উচিত। তাঁর ভাষায়, “নিজের ভুল বুঝে অন্ধকার ছেড়ে কেউ আলোর পথে আসতে চাওয়াকে বাধা দিলে মানুষ আপনাকেই অন্ধকারের সমর্থক বলবে।” তবে সেই সঙ্গে তিনি এও বলেন, শুধু নতুন দলে যোগ দিলেই সব প্রশ্নের উত্তর মিলে যায় না। যে মানুষ দীর্ঘদিন একটি রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে ছিলেন, তাঁর অতীত ভূমিকা সম্পর্কেও মানুষের কাছে জবাব দেওয়ার দায়িত্ব থেকে যায়।

বিশেষ করে যাঁরা জনপ্রিয় অভিনেতা বা সাংসদ হিসেবে মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁদের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা আরও বেশি বলেই মনে করেন রুদ্রনীল। তাঁর বক্তব্য, জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে নীরব থাকলে মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভ তৈরি হয়। তাই ভবিষ্যতে যদি কেউ রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করেন, তাহলে শুধু নতুন পরিচয় গ্রহণ নয়, অতীতের অবস্থান এবং বর্তমান সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যাও মানুষের সামনে তুলে ধরা উচিত। কারণ, জনগণের আস্থা অর্জন করতে গেলে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুনঃ বিয়ের আনন্দের রেশ কাটতেই শুরু দূরত্ব! রণজয় বিষ্ণু ও শ্যামৌপ্তির দাম্পত্যে ফাটল? বিচ্ছেদের গুঞ্জনে সরগরম টলিপাড়া, দু’জনের বয়সের ফারাক, নাকি অন্য কিছু? পাঁচ মাসেই সম্পর্ক ভাঙনের নেপথ্যে কোন কারণ?

সাক্ষাৎকারে রুদ্রনীল ঘোষের এই মন্তব্যগুলি প্রকাশ্যে আসার পর তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়েছেন, আবার কেউ ভিন্ন মতও প্রকাশ করেছেন। তবে রাজনৈতিক দলবদল, তারকা সাংসদদের ভূমিকা এবং জনগণের প্রতি তাঁদের দায়বদ্ধতা নিয়ে যে বিতর্ক দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে, রুদ্রনীলের মন্তব্য সেই আলোচনাকে আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে। তাঁর মতে, রাজনীতিতে অবস্থান বদলানো অপরাধ নয়, কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের কারণ এবং অতীতের ভূমিকা সম্পর্কে মানুষের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়াটাই সবচেয়ে জরুরি।

You cannot copy content of this page