স্বরূপ-সোহমের পর এবার আইনের গেরোয় মিমি চক্রবর্তী! টলিউডের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত! অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে কী নিয়ে আদালতে জমা পড়ল চার্জশিট?

বনগাঁর বহুচর্চিত ঘটনাকে ঘিরে ফের নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। অভিযোগকারী তনয় শাস্ত্রীর দাবি, বনগাঁ আদালতে অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে চার্জশিট গঠিত হয়েছে। তাঁর কথায়, গত ২ জুন আদালতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে তিনি নিজেই সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলেছেন। তনয়ের দাবি, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আদালতে হাজিরা দিতে হতে পারে অভিনেত্রীকে। এই খবর সামনে আসতেই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বনগাঁর সেই বিতর্কিত ঘটনা। কয়েক মাস আগে শুরু হওয়া এই মামলায় এবার নতুন আইনি অধ্যায় যোগ হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

তনয় শাস্ত্রীর অভিযোগ, মামলার শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত মিমি চক্রবর্তী ব্যক্তিগতভাবে আদালতে হাজির হননি। তাঁর পরিবর্তে বারবার আইনজীবী উপস্থিত হয়ে সময় চেয়েছেন বলে দাবি অভিযোগকারীর। এই প্রসঙ্গে তনয় বলেন, “মিমি এক দিনও আদালতে হাজিরা দেননি। ২ জুনও আসেননি। বদলে তাঁর আইনজীবী এসেছিলেন। তারিখের পর তারিখ চেয়ে গিয়েছেন। তিনি আসলে বিষয়টিকে এ ভাবেই ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তাই আমার আইনজীবী ও বিজেপির বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি আদালতে মিমির বিরুদ্ধে চার্জশিট গঠনের আবেদন করেন।” পরে আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে বলেও তাঁর দাবি। সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তনয়।

এখানেই থেমে থাকেননি অভিযোগকারী। নিজের অবস্থানে অনড় থেকে তিনি আরও বলেন, “অন্যায় করেছেন, তার শাস্তি পেতেই হবে। আদালতে হাজিরা দিতেই হবে মিমিকে। আমিও এর শেষ দেখে ছাড়ব। উনি অকারণে আমায় জেলে পাঠিয়েছেন।” তনয়ের এই মন্তব্যের পর মামলাটি নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে মিমি চক্রবর্তীর প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ মারফত যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনও উত্তর মেলেনি বলে জানা গিয়েছে। ফলে অভিনেত্রীর অবস্থান এখনও স্পষ্ট নয়।

ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি। সেদিন বনগাঁর গোপালগঞ্জ এলাকায় একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন মিমি চক্রবর্তী। অভিনেত্রীর অভিযোগ ছিল, অনুষ্ঠান চলাকালীন তাঁকে মঞ্চ থেকে নেমে যেতে বলা হয় এবং সেই আচরণ ছিল অসম্মানজনক। পরে তিনি ই-মেলের মাধ্যমে স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে তনয় শাস্ত্রীর বাড়িতেও যায় পুলিশ। সেই সময় সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে এবং পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। কিছুদিন জেলে থাকার পর অবশ্য জামিন পান তিনি।

আরও পড়ুনঃ ‘দিদি আশ্বাস দিয়েছিলেন রাজনীতি মুক্ত ইন্ডাস্ট্রি হবে’ স্বরূপ গ্রেফতারির আবহে, তৃণমূলের সাফাই গাইতে এসে ফের ধুয়ে গেলেন রূপাঞ্জনা মিত্র! ‘চুপ থাকুন, পচা ডিম এখন ট্রেন্ড’ হুঁশিয়ারি নেটিজেনদের!

তবে শুরু থেকেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন তনয় শাস্ত্রী। তাঁর দাবি, পুরো ঘটনাকে অন্যভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সেই সময় সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেছিলেন, “আমার কোনও দোষ নেই। মিমি অনেক দেরিতে এসেছিলেন। আমাদের নির্দিষ্ট সময়ে অনুষ্ঠান শেষ করতে হত। আমরা সেটাই করেছি। মিমির সঙ্গে আমরা কোনও খারাপ আচরণ করিনি।” ফলে ঘটনার দুই পক্ষের বক্তব্যে রয়েছে স্পষ্ট মতপার্থক্য। একদিকে অভিনেত্রীর অভিযোগ, অন্যদিকে অভিযোগকারীর পাল্টা দাবি। এই পরিস্থিতিতে আগামী দিনে আদালতের পর্যবেক্ষণ ও আইনি প্রক্রিয়ার দিকেই নজর থাকবে সকলের।

You cannot copy content of this page