যে খরাজ মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠস্বরে মুগ্ধ সবাই, সেই গলাই পছন্দ হয়নি অনীক দত্তর! এতটাই পারফেকশনিস্ট ছিলেন যে রাতারাতি বদলে গেল গলা! ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’-এ খরাজ মুখার্জির গলা ডাব করেছিলেন কে জানেন? জানলে চমকে যাবেন!

সালটা ২০১২, মুক্তি পায় অনীক দত্ত (Anik Dutta) পরিচালিত ছবি ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ (Bhooter Bhabishyat), এক কথায় বাংলা সিনেমায় এক নতুন ধারার সূচনা করেছিল। এই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, পরান বন্দ্যোপাধ্যায়, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, শ্রীলেখা মিত্র, সুমিত সমাদ্দার, খরাজ মুখোপাধ্যায় (Kharaj Mukherjee) সহ আরও অনেকে। সম্প্রতি এই ছবির শুটিং ও নির্মাণ পর্ব নিয়ে পুরনো এক সাক্ষাৎকার ভাইরাল হয়েছে। যেখানে সুমিত সমাদ্দার ছবির নানান অজানা গল্প তুলে ধরেন। তিনি জানান, পরিচালক অনীক দত্ত নিজের কাজ নিয়ে কতটা নিখুঁত ছিলেন। প্রতিটি শট থেকে শুরু করে প্রতিটি সংলাপ পর্যন্ত তিনি পারফেকশন চাইতেন। এই ছবিকে ঘিরে তৈরি হওয়া নতুন আলোচনা আবারও পুরনো স্মৃতিকে ফিরিয়ে এনেছে।

সুমিত সমাদ্দার জানান, অনীক দত্ত শুধু নির্দেশনাতেই নয়, সম্পূর্ণ নির্মাণ প্রক্রিয়ার প্রতিটি অংশে নিজে যুক্ত থাকতেন। অভিনেতাদের কাছ থেকে তিনি সর্বোচ্চ মানের কাজ বের করে আনতে চাইতেন। তাঁর কথায়, “পরিচালক হিসাবে অনীক দত্ত ছিলেন ভীষণ খুঁতখুঁতে। তিনি নিজে যেমন ভীষণ পরিশ্রম করতেন তেমনি অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কাছ থেকে প্রত্যেকটি শট যাতে পারফেক্ট হয় তার জন্য জোর দিতেন তিনি।” এই মন্তব্য থেকেই বোঝা যায়, ছবির প্রতি তাঁর কতটা গভীর নজর ছিল। সুমিত আরও জানান, শুটিং চলাকালীন প্রতিটি বিষয়ে তাঁর কঠোর নজর ছিল। ফলে সেটে কাজ করাও অনেক সময় চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠত।

এই প্রসঙ্গে খরাজ মুখোপাধ্যায়ের ডাবিং নিয়েও একটি চমকপ্রদ তথ্য সামনে আনেন সুমিত সমাদ্দার। তিনি জানান, খরাজ মুখোপাধ্যায় তাঁর অনুকরণ ক্ষমতার জন্য পরিচিত হলেও এই ছবিতে ডাবিং নিয়ে পরিচালক নিজেই আলাদা সিদ্ধান্ত নেন। সুমিতের কথায়, “ভূতের ভবিষ্যৎ ছবিতে খরাজ মুখোপাধ্যায়ের ডাবিং যখন শেষ হয়, তখন অনীক দত্ত খরাজকে বলেন, তিনি একবার ট্রাই করতে চান।” এই কথা শুনে খরাজ কিছুটা অবাক হলেও তিনি আপত্তি জানাননি। পরে পরিচালক নিজেই ডাবিং করেন চরিত্রটির। এই ঘটনাই পরে ছবির আলোচনায় বড় চমক হয়ে ওঠে।

সুমিত আরও জানান, ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পর দর্শকরা বুঝতেই পারেননি যে কণ্ঠস্বরটি খরাজ মুখোপাধ্যায়ের নয়। পরিচালক অনীক দত্ত নিজেই সেই ডাবিং করেছিলেন। এই প্রসঙ্গে সুমিত বলেন, “তিনি এতটাই নিজের কাজ নিয়ে চিন্তিত থাকতেন। পরে যখন সিনেমা মুক্তি পায় তখন কেউ এক মুহূর্তের জন্য বুঝতে পারেনি যে খরাজ মুখোপাধ্যায়ের গলা নয় সেটা। অবিকল একই রকম শুনতে লাগছিল দুজনের গলা।” এই মন্তব্যে স্পষ্ট হয়, অনীক দত্ত শুধু পরিচালনায় নয়, প্রযুক্তিগত দিকেও গভীরভাবে যুক্ত থাকতেন। তাঁর কাজের নিখুঁত মানসিকতা এই ছবিকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ “শিরদাঁড়া ছিল ওঁদেরই…” স্বরূপের মা’ফিয়া রাজের সামনে মাথা নোয়ায়নি এই সাত তারকা! বিশ্বাসের জেল হেফাজতের পর, টলিপাড়ার কোন ‘হারাধনের দশটি ছেলে’কে কুর্নিশ জানালেন সুদীপ্তা চক্রবর্তী?

এই সাক্ষাৎকার ভাইরাল হওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। অনেকেই বলছেন, অনীক দত্ত আগেও বিভিন্ন ছবিতে নিজের কণ্ঠ ব্যবহার করেছেন। যেমন ‘অপরাজিত’ ছবিতে চুনিবালা দেবীর চরিত্রে এবং ‘মেঘনাদবধ রহস্য’ ছবিতে নিমু ভৌমিকের চরিত্রেও তাঁর কণ্ঠ শোনা গিয়েছিল। এই তথ্য সামনে আসায় দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল আরও বেড়েছে। যদিও কেউ কেউ মনে করছেন, এই ঘটনাটি অনীক দত্ত নিজেই আগে একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন। তবুও ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’-এর এই পুরনো গল্প আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে।

You cannot copy content of this page