“শিরদাঁড়া ছিল ওঁদেরই…” স্বরূপের মা’ফিয়া রাজের সামনে মাথা নোয়ায়নি এই সাত তারকা! বিশ্বাসের জেল হেফাজতের পর, টলিপাড়ার কোন ‘হারাধনের দশটি ছেলে’কে কুর্নিশ জানালেন সুদীপ্তা চক্রবর্তী?

স্বরূপ বিশ্বাস গ্রেফতার হওয়ার পর টলিপাড়ায় ফের সামনে এসেছে বহু পুরনো বিতর্ক ও আন্দোলনের স্মৃতি। দীর্ঘদিন ধরেই ইন্ডাস্ট্রির একাংশের অভিযোগ ছিল, বিশ্বাস ব্রাদার্সকে ঘিরে স্টুডিওপাড়ায় নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই অভিযোগ আরও জোরালোভাবে সামনে আসতে শুরু করে। এই আবহেই অভিনেত্রী ‘সুদীপ্তা চক্রবর্তী’ (Sudipta Chakraborty) নিজের সমাজ মাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন। সেখানে তিনি অতীতের আন্দোলনের কথা তুলে ধরেন এবং সেই পোস্টের শিরোনাম দেন ‘হারাধনের দশটি ছেলে’। স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারির পরিপ্রেক্ষিতে এই পোস্ট বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে।

কারণ, সেখানে তিনি সেই সময়ের লড়াইয়ে অংশ নেওয়া কয়েকজন পরিচালকের ভূমিকার কথা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে টলিপাড়ায়। সুদীপ্তার পোস্ট অনুযায়ী, প্রায় দেড় বছর আগে টালিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিতে অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে অনেক পরিচালক ফেডারেশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে শামিল হয়েছিলেন। শুরুতে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেশি থাকলেও সময়ের সঙ্গে সেই ছবি বদলাতে থাকে। কেউ কাজ হারানোর আশঙ্কায় পিছিয়ে যান, কারও উপর ছিল সংসারের দায়িত্ব, আবার কারও চলতি সিরিয়াল বা সিনেমার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। ফলে ধীরে ধীরে অনেকেই আন্দোলনের পথ থেকে সরে আসেন।

তবে অভিনেত্রীর দাবি, কয়েকজন পরিচালক শেষ পর্যন্ত নিজেদের অবস্থানে অটল ছিলেন। নানা চাপ, অনিশ্চয়তা এবং পেশাগত ক্ষতির মুখোমুখি হয়েও তাঁরা সিদ্ধান্ত বদলাননি। সেই দৃঢ়তার কথাই তিনি বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন নিজের লেখায়। এই প্রসঙ্গে সুদীপ্তা লিখেছেন, “হারাধনের এই দশটি ছেলে হার মানেননি। রাগে দুঃখে অপমানে অমানুষিক কষ্ট পেয়ে কেউ স্তম্ভিত হয়ে গেছেন, তো কেউ আড়ালে চোখের জল ফেলেছেন, কেউ নিজেদের মধ্যেই বা কখনও সমাজ মাধ্যমে রাত আটটার পর হতাশা ব্যক্ত করতে থেকেছেন তো কেউ একদম চুপ করে গেছেন, কেউ এদিক ওদিক দৌড়েছেন অন্য কোন কাজের খোঁজে, কেউ বা নিজের দমে গান বেঁধে ভিতরের ‘শিল্পী’টা কে বাঁচিয়ে রেখেছেন।

কিন্তু মাথা নোয়াননি কেউই।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই মানুষগুলো শুধু পেশাগত বাধার মুখোমুখি হননি, আর্থিক চাপও সহ্য করেছেন। আদালতে মামলা চালানোর জন্যও অনেককে নিজের পকেট থেকে অর্থ খরচ করতে হয়েছে। তবুও তাঁরা নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসেননি বলেই দাবি করেছেন অভিনেত্রী। পোস্টে সুদীপ্তা আরও উল্লেখ করেন, আন্দোলনে থাকা পরিচালকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক প্রচার চালানো হয়েছিল। তাঁর কথায়, “টেকনিশিয়ানদের বোঝানো হয়েছে এঁরা দূরাত্মা, এঁরা টেকনিশিয়ান বিরোধী, এঁরা অন্যায় করছেন, তাই এঁরা ‘ব্যানড’। অপমানে কাঁধ ঝুঁকেছে, কিন্তু শিরদাঁড়া বাঁকানো যায়নি এঁদের।”

আরও পড়ুনঃ সরকার বদলাতেই নিজে ধান্দা করেছিলেন দল বদলানোর, হঠাৎই মুড বদলেছেন রূপাঞ্জনা! “আজ খুব কথা বেরোচ্ছে…” ২০১৯ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত সব প্রমাণ আছে! নাম না করেই কাদের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধের ডাক’ অভিনেত্রীর?

অভিনেত্রীর দাবি, অপমান, বয়কট এবং নানা বাধা সত্ত্বেও তাঁরা নিজেদের মত থেকে সরেননি। এই কারণেই তাঁদের লড়াইকে তিনি আলাদা গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, কঠিন সময়ে নিজের অবস্থান ধরে রাখা সহজ নয়, আর সেই কারণেই এই মানুষদের প্রতি তাঁর বিশেষ শ্রদ্ধা রয়েছে। নিজের পোস্টে সুদীপ্তা যে দশজনের নাম উল্লেখ করেছেন, তাঁরা হলেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য, আশিস সেন চৌধুরী, অভিষেক সাহা, বিদুলা ভট্টাচার্য, দেবাশিস চক্রবর্তী, ইন্দ্রনীল রায়চৌধুরী, কিংশুক দে, সুব্রত সেন, সুদেষ্ণা রায় এবং সুমিত দাম। পোস্টের শেষ অংশে তিনি ইঙ্গিতপূর্ণভাবে জানান, স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারির পর এখন অনেকেই নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করতে শুরু করেছেন। কিন্তু যাঁরা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একই অবস্থানে থেকেছেন, তাঁদের সঙ্গে অন্যদের মূল পার্থক্য ‘শিরদাঁড়া’র।

You cannot copy content of this page