টলিউডের একাংশের রাজনৈতিক অবস্থান এবং সাম্প্রতিক দলবদল নিয়ে এবার সরব হলেন জনপ্রিয় সঞ্চালিকা সুদীপা চট্টোপাধ্যায়। সমাজ মাধ্যমে করা একটি দীর্ঘ পোস্টে তিনি তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন সেই সব পরিচিত মুখদের, যাঁদের মতে পরিস্থিতি বুঝে অবস্থান বদলানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সুদীপার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ক্ষমতার কাছাকাছি থেকে সুবিধা ভোগ করার পর এখন অনেকেই নিজেদের অবস্থান পাল্টে নতুন ছবি তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। তাঁর মতে, অভিনয়ের জগতে থাকতে থাকতে অনেকেই বাস্তব ও অভিনয়ের সীমারেখা ভুলে গিয়েছেন। সেই কারণেই বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁদের আচরণ সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্নের মুখে পড়ছে। তাঁর এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিস্তর আলোচনা।
সাম্প্রতিক সময়ে শাসকদলের নানা কর্মসূচিতে টলিউডের পরিচিত মুখদের অংশগ্রহণ নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেই প্রসঙ্গও তুলে ধরেন সুদীপা। তিনি প্রশ্ন করেন, “ভাইফোঁটার কিংবা স্বরূপ বাবুর পেছনে হাঁটার কোনও একটা মুহূর্তেও, কিংবা বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রীকে নেমন্তন্ন করে ডেকে এনে পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার সময়ও কারও কি মনে হয়েছে, এনাদের কেউ মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে এসব করতে বাধ্য করেছেন?” তাঁর বক্তব্য, তখন কেউ বাধ্য হয়ে এসব করেননি, বরং নিজের ইচ্ছাতেই ক্ষমতার কাছাকাছি ছিলেন। কিন্তু সময় বদলাতেই অনেকের অবস্থান বদলে যাওয়া তাঁর কাছে অত্যন্ত অস্বস্তিকর বলে মনে হয়েছে। তিনি মনে করেন, এই পরিবর্তন সাধারণ মানুষের নজর এড়ায় না।
নিজের পোস্টে সুদীপা স্পষ্ট করে জানান, রাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক বরাবরই ভালো। তিনি লেখেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে স্নেহ করেন। একই সঙ্গে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং প্রয়াত সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গেও তাঁদের পারিবারিক সম্পর্ক ছিল। তবে সেই সম্পর্ককে কখনও রাজনৈতিক সুবিধার জন্য ব্যবহার করেননি বলেই দাবি তাঁর। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কই, তাঁরা কেউ একবারের জন্যও আমাকে দলের প্রচারে কিংবা কোনও মিছিলে ডাকেননি? কেন বলুন তো? কারণ, জানতেন, বাড়িতে পুজোর ভোগ খেতে আমি যেতে পারি, কিন্তু প্রচারে আমি যাব না।” তাঁর মতে, ব্যক্তিগত সম্পর্ক আর রাজনৈতিক প্রচার এক বিষয় নয়।
সুদীপা আরও জানান, কর্মজীবনে কঠিন সময় এলেও তিনি কখনও রাজনৈতিক কারণ দেখিয়ে সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করেননি। কাজ হারানোর অভিজ্ঞতা থাকলেও তিনি সেটিকে প্রচারের হাতিয়ার করেননি বলে দাবি করেন। বরং যাঁরা আলোচনায় থাকার জন্য প্রতিনিয়ত নতুন অবস্থান নিচ্ছেন, তাঁদের আচরণে তিনি বিরক্ত। তাঁর মতে, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার এই প্রবণতা অনেক সময় অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। তাই তিনি ব্যঙ্গের সুরে পরামর্শ দেন, কিছুদিন শান্ত থেকে ব্যক্তিগত সময় কাটানোই ভালো। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষের স্মৃতি খুব দীর্ঘস্থায়ী নয়, তাই সময়ের সঙ্গে অনেক বিতর্কই মুছে যায়।
আরও পড়ুনঃ “কাজ করতে হলে ক্ষমা চাইতে হতো, তাঁদের কথামতো না চললে কাজ মিলত না” বি’স্ফোরক প্রবীণ পরিচালক সুদেষ্ণা রায়! দুই বছর কাজ বন্ধ, ছবির স্ক্রিনিং আটকে দেওয়া ও শিল্পীদের মুখ বন্ধ রাখার মতো গুরুতর অভিযোগ করলেন তিনি!
পোস্টের শেষ অংশে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি সুদীপা। বিজেপি নেতা সজল ঘোষের পুজোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি লেখেন, “আগে থেকে খোঁজ নিন, সজল ঘোষের পুজোয় ঢাক বাজাতে কিংবা ধুনুচি নাচে কীভাবে ডাক পাওয়া যাবে। এবার কিন্তু ওখানেই বেশি মাইলেজ…।” পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, সেখানে সুযোগ না মিললে ম্যাডক্স স্কোয়ার কিংবা নিজের পাড়ার পুজোতেও অংশ নেওয়া যেতে পারে। তাঁর এই মন্তব্যকে অনেকেই টলিউডের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তীব্র ব্যঙ্গ বলে মনে করছেন। পোস্টটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তা নিয়ে আলোচনা চলছে এবং অনেকের মতে, এই বক্তব্য ইন্ডাস্ট্রির একাধিক প্রভাবশালী মুখের উদ্দেশেই করা হয়েছে।






