বাংলা চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগের কথা উঠলেই মনে পড়ে একঝাঁক কিংবদন্তি অভিনেতা-অভিনেত্রীর নাম। তাঁদের অভিনয়, ব্যক্তিত্ব এবং পর্দার জাদু আজও দর্শকের মনে অমলিন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রজন্মের অধিকাংশ তারকাই আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন। তবে এখনও হাতে গোনা কয়েকজন প্রবীণ শিল্পী রয়েছেন, যাঁরা বাংলা সিনেমার গৌরবময় ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী। তাঁদের অন্যতম বর্ষীয়ান অভিনেতা নির্মল কুমার। প্রায় এক শতকের জীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে আজও তিনি বাঙালির স্মৃতিতে বিশেষ স্থান দখল করে রয়েছেন।
বর্তমানে ৯৭ বছর বয়স নির্মল কুমারের। দীর্ঘ অভিনয়জীবনের পর বহু বছর আগেই তিনি নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন চলচ্চিত্র জগৎ থেকে। ২০০৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘আশ্রয়’ ছবিতে শেষবারের মতো তাঁকে বড় পর্দায় দেখা গিয়েছিল। তারপর কেটে গিয়েছে দীর্ঘ ১৭ বছর। আর ক্যামেরার সামনে ফিরতে দেখা যায়নি তাঁকে। এখন বয়সের ভারে ঘরের চার দেওয়ালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ তাঁর জীবন। কলকাতার লেক গার্ডেন্সে নিজের বাড়িতে বড় মেয়ে, জামাই এবং নাতনির সঙ্গে সময় কাটান এই প্রবীণ অভিনেতা।
নির্মল কুমারের ব্যক্তিগত জীবনও কম আলোচিত নয়। ১৯৬৮ সালে তিনি ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মাধবী মুখার্জীকে। বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম পরিচিত এই জুটির দুই কন্যা মিমি এবং ঝুমি। তবে বাবা-মায়ের মতো কেউই অভিনয় জগতে আসেননি। বড় মেয়ে মিমি ভট্টাচার্য পেশায় অধ্যাপিকা এবং ছোট মেয়ে ঝুমি বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। দুই মেয়েই নিজেদের কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত। তাঁদের সংসারও গড়ে উঠেছে, রয়েছে পরবর্তী প্রজন্মও। বর্তমানে বড় মেয়ে মিমি এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গেই থাকেন নির্মল কুমার। বিশেষ করে নাতনি জয়ীর সঙ্গে তাঁর গভীর সখ্যের কথা পরিবার সূত্রে জানা যায়।
যদিও বহু বছর আগে ব্যক্তিগত মনোমালিন্যের কারণে আলাদা হয়ে গিয়েছিলেন নির্মল কুমার ও মাধবী মুখার্জী। তাঁদের আইনি বিচ্ছেদ না হলেও দীর্ঘদিন ধরেই পৃথকভাবে বসবাস করছেন দু’জন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ বদলেছে। আজ জীবনের এই শেষ পর্বে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায় তাঁদের। পারিবারিক অনুষ্ঠান থেকে জন্মদিনের উদযাপন নানা সময়ে প্রাক্তন স্বামীর পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে দেখা গিয়েছে মাধবী মুখার্জীকে। গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর ৯৭তম জন্মদিনও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আনন্দের পরিবেশেই পালন করেছিলেন নির্মল কুমার।
আরও পড়ুনঃ টলিপাড়ায় চাঞ্চল্য! হঠাৎ গ্রেফতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী! শ্বশুরবাড়ির কোটি কোটি টাকা জালি’য়াতির অভিযোগ! কী করেছেন এত টাকা দিয়ে, সামনে এল কারণ?
তবে বয়সের ভার এখন স্পষ্টভাবেই প্রভাব ফেলেছে তাঁর শরীরে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছেন তিনি। হৃদরোগের কারণে তাঁর বুকে পেসমেকার বসানো রয়েছে। গত কয়েক বছরে একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে তাঁকে। শ্বাসকষ্ট, পায়ে সেলুলাইটিস সংক্রমণ এবং রক্ত চলাচলজনিত সমস্যার জন্য চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে থাকতে হয়েছে দীর্ঘ সময়। বর্তমানে শ্রবণশক্তিও অনেকটাই কমে গিয়েছে। বেশি কথা বললেও ক্লান্তি আসে। তবু পরিবারের সদস্যদের ভালোবাসা এবং যত্নেই দিন কাটছে তাঁর। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চিকিৎসা এবং পরিবারের সঙ্গ এই নিয়েই বাংলা চলচ্চিত্রের এক জীবন্ত ইতিহাস আজ শান্তভাবে জীবনের পথ চলা চালিয়ে যাচ্ছেন।






