‘নিশ্চিন্ত আমি এবার…’ গো-মাং*সের জোগান নেই, পার্ক স্ট্রিটের ঐতিহ্যবাহী অলিপাবের মেনু থেকেই বাদ বিখ্যাত বিফ স্টেক! কয়েকমাস আগে নেটপাড়ায় তীব্র বিত’র্কের পর এবার বদলেছে পরিস্থিতি, মুখ খুললেন সায়ক চক্রবর্তী! কী বললেন তিনি?

পার্ক স্ট্রিটের ঐতিহ্যবাহী অলিপাব এবং অভিনেতা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটার সায়ক চক্রবর্তীর মধ্যে কয়েক মাস আগে তৈরি হয়েছিল ‘বিফ স্টেক বিতর্ক’। চিকেন স্টেক অর্ডার করে তাঁর টেবিলে বিফ স্টেক চলে আসার অভিযোগ করেছিলেন সায়ক। ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশ্যে সরব হওয়ার পর ক্ষমা চেয়েছিল অলিপাব কর্তৃপক্ষও। তবে ক্ষমা চাওয়ার পরেও সেই ঘটনা নিয়ে কম আলোচনা হয়নি। সামাজিক মাধ্যমে সায়কের বিরুদ্ধে নানা মন্তব্য এবং কটাক্ষও করেছিলেন নেটিজেনদের একাংশ। সেই বিতর্কের রেশ ছড়িয়ে পড়েছিল অনেক দূর পর্যন্ত। এবার সেই পুরনো ঘটনার সঙ্গে নতুন করে জুড়ে গেল অলিপাবের বিফ স্টেক প্রসঙ্গ।

রাজ্যে এর মধ্যে রাজনৈতিক পালাবদল হয়েছে, বদলেছে শহরের পরিস্থিতিও। তারই মধ্যে কলকাতা জুড়ে গো-মাংসের জোগানে তৈরি হয়েছে সংকট। এই কারণেই আপাতত অলিপাবের মেনু থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বহুচর্চিত বিফ স্টেক। শুধু অলিপাব নয়, কলকাতার আরও বেশ কিছু রেস্তোরাঁর মেনু থেকেও গো-মাংসের পদ বাদ পড়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর পুরনো বিতর্কের কথা ফের সামনে এসেছে। এবার এই বিষয়ে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার কাছে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সায়ক চক্রবর্তী। খাদ্যাভ্যাস এবং একজন গ্রাহকের নিজের পছন্দের অধিকার নিয়েই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন অভিনেতা।

সায়কের কথায়, ‘আমরা যে সমাজে বাস করি সেখানে নানা ভাষা ও নানা ধর্মের মানুষ থাকেন। কে কী খাবেন তা ঠিক করে দেওয়ার অধিকার আমার নেই। কিন্তু একজন গ্রাহক হিসেবে আমি কী খাব তা বেছে নেওয়ার পূর্ণ অধিকার আমার নিজের রয়েছে।’ তাঁর বক্তব্য, একজন গ্রাহক যে খাবার অর্ডার করবেন এবং যে খাবারের জন্য টাকা দেবেন, রেস্তোরাঁর দায়িত্ব সেই খাবারই তাঁর সামনে পরিবেশন করা। সায়কের প্রশ্ন, ‘টাকা দিয়ে খাবার অর্ডার করার পর কি কেউ বারবার প্লেট পরীক্ষা করে দেখবে?’ তাঁর মতে, রেস্তোরাঁর পরিষেবায় কোনও ভুল হলে সেই বিষয়ে আওয়াজ তোলা একজন সচেতন গ্রাহকের অধিকার। তিনি স্পষ্ট করেছেন, অতীতে তিনি সেটাই করেছিলেন।

তবে সেই ঘটনার পর সায়কের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি যে অভিযোগ উঠেছিল, তা হল প্রচার বা ফুটেজ পাওয়ার জন্যই নাকি তিনি গোটা বিষয়টি সামনে এনেছিলেন। এই অভিযোগেরও জবাব দিয়েছেন অভিনেতা। সায়কের দাবি, তাঁর বিতর্কিত ভিডিওকে ব্যবহার করে বহু মানুষ টাকা এবং ভিউ কামিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু তিনি নিজেই সেই ভিডিওটি সমাজমাধ্যম থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন। তাই তাঁর পাল্টা প্রশ্ন, ‘তাহলে আমি কীভাবে ফুটেজ বা টাকা কামালাম?’ সায়কের কথায়, ‘উল্টে আমার কপালে জুটেছিল অশ্রাব্য ট্রোলিং এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের অকারণ আক্রমণ।’ অর্থাৎ, নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে পুরনো সেই অভিযোগের বিরুদ্ধেই ফের সরব হয়েছেন তিনি।

এদিকে অলিপাবের মেনু থেকে বিফ স্টেক আপাতত বাদ যাওয়ার খবর শুনে সায়কের প্রতিক্রিয়াও বেশ স্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘বহু মানুষ বিফ স্টেক খেতে ভালোবাসেন, এতে আমার কোনো আপত্তি নেই। কারণ খাদ্যাভ্যাস যার যার ব্যক্তিগত বিষয়।’ তবে নিজের ব্যক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে এই সিদ্ধান্তে তিনি স্বস্তি পেয়েছেন বলেই জানিয়েছেন। সায়কের কথায়, এবার থেকে তিনি নিশ্চিন্ত মনে আবারও অলিপাবে খেতে যেতে পারেন। অতীতের সেই তিক্ত স্মৃতি ভুলে পার্ক স্ট্রিটের পুরনো এই পাবটিতে ফের যাওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন তিনি। অর্থাৎ, বিফ স্টেক নিয়ে আগের বিতর্কের পর এবার পরিস্থিতি বদলানোয় অলিপাবে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর আর আগের মতো অস্বস্তি নেই।

আরও পড়ুনঃ “ম’দ ছাড়া কি মজা করা যায় না?” প্রকাশ্যে কড়া মন্তব্য ববি চক্রবর্তীর! বাবা-মায়ের অজান্তেই কি বাড়ির মধ্যেই তৈরি হচ্ছে মা’দক আসক্তির বীজ? আধুনিকতার নামে কোন ‘কালচার’ ফেলছে আগামী প্রজন্মকে বিপদের মুখে? প্রতিপত্তি আর স্ট্যাটাস বজায় রাখতে গিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছেন না তো, অভিভাবকদের প্রশ্ন অভিনেতার?

অলিপাব কর্তৃপক্ষের সূত্রে জানা গিয়েছে, গো-মাংসের সঠিক জোগান না থাকায় আপাতত মেনু থেকে স্টেক সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কাঁচামালের সরবরাহে সমস্যা থাকলেও খাবারের মানের সঙ্গে কোনওভাবেই আপস করতে চায় না কর্তৃপক্ষ। তাই মাংসের জোগান স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। ফলে পার্ক স্ট্রিটে নিয়মিত আড্ডা দিতে যাওয়া মানুষদের আপাতত বিখ্যাত এই স্টেকের স্বাদ থেকে বঞ্চিত থাকতে হবে। উইকেন্ডে অলিপাবের টেবিলে বসে স্টেক খাওয়ার অভ্যাস বহু কলকাতাবাসীর কাছে দীর্ঘদিনের পরিচিত ছবি। এবার সেই পদ মেনুতে না থাকায় সমাজমাধ্যমেও দেখা দিয়েছে নস্টালজিয়া এবং আফসোস। গো-মাংসের জোগান স্বাভাবিক হলে কবে ফের মেনুতে ফিরবে অলিপাবের চর্চিত বিফ স্টেক, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

You cannot copy content of this page