বাংলাদেশের একটি চ্যানেলের পোস্ট শেয়ার করাকে কেন্দ্র করে এবার সমাজমাধ্যমে বিতর্কে জড়ালেন অভিনেত্রী ময়না বন্দ্যোপাধ্যায়। পোস্টটিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগ নিয়ে ইঙ্গিত করা হয়েছিল। ময়না সেই পোস্ট নিজের সমাজমাধ্যমে শেয়ার করতেই আপত্তি জানান অভিনেত্রী দেবশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। এরপর বিষয়টি নিয়ে দেবশ্রী এবং পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী ও সমাজকর্মী পিয়া চক্রবর্তীর মধ্যে শুরু হয় পালটা বক্তব্য। ময়নার শেয়ার করা বাংলাদেশের চ্যানেলের স্ক্রিনশটে লেখা ছিল, ‘এবার শিক্ষামন্ত্রী গেছে পরেরবার মোদি যাবে।’ এই পোস্টের সূত্র নিয়েই মূলত আপত্তি তোলেন দেবশ্রী। এরপর রাজনৈতিক মতাদর্শ, দেশের স্বার্থ এবং বিদেশি সংবাদমাধ্যমের কনটেন্ট ব্যবহার নিয়ে জমে ওঠে বিতর্ক।
ময়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে তৃণমূল ঘনিষ্ঠ হিসেবেই দেখা হয় এবং তাঁর বিভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানও সমাজমাধ্যমে আলোচনায় আসে। এবার তাঁর শেয়ার করা পোস্টের প্রেক্ষিতে দেবশ্রী সরাসরি প্রশ্ন তোলেন। অভিনেত্রীর বক্তব্য, ‘জাতীয় স্বার্থের চেয়ে দলীয় অন্ধত্ব বড় হয়ে গেল?’ তিনি আরও বলেন, সমাজমাধ্যমে প্রতিদিন নানা বিষয়ে তর্ক-বিতর্ক দেখা যায়, কিন্তু সম্প্রতি একটি বিষয় তাঁকে সত্যিই অবাক করেছে। দেবশ্রীর মতে, কোনও রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করতে গিয়ে নিজেদের বক্তব্য প্রতিষ্ঠার জন্য অন্য দেশের একটি চ্যানেলের কনটেন্ট প্রচার করা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘দলীয় অন্ধত্ব মানুষকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে!’ তাঁর বক্তব্য ঘিরেই নতুন করে শুরু হয় ময়নার পোস্টকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক।
দেবশ্রী নিজের বক্তব্যে আরও বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করার তাগিদে এবং নিজেদের ন্যারেটিভ ধরে রাখতে কেউ কেউ আজকাল এমন একটি চ্যানেলের কন্টেন্ট প্রচার করছেন যার উৎস আমাদের প্রতিবেশী দেশ।’ তাঁর প্রশ্ন, যখন এই বিষয়টি সামনে আনা হচ্ছে, তখন শুধু কনটেন্টের বিষয় নিয়ে আলোচনা করার যুক্তি কতটা গ্রহণযোগ্য। দেবশ্রীর কথায়, ‘চ্যানেল যাই হোক কন্টেন্ট নিয়ে কথা বলছি। সিরিয়াসলি?’ তিনি আরও জানতে চান, দেশের রাজনীতি নিয়ে কথা বলা বা নিজের পছন্দের দলকে সমর্থন করার জন্য কি এখন অন্য দেশের চ্যানেলের ওপর নির্ভর করতে হবে। এরপর তিনি তথ্যের উৎস নিয়েও সতর্ক হওয়ার কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য, ‘রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা হতে পারে।
মতভেদ থাকাটা গণতন্ত্রের লক্ষণ।’ তবে একইসঙ্গে তাঁর দাবি, রাজনৈতিক স্বার্থ বা অন্ধ সমর্থনের সঙ্গে দেশপ্রেমকে এক করে দেখা উচিত নয়। এই বিতর্কের মধ্যে ময়নার পোস্টের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও সামনে আসে। নিট পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলন এবং প্রতিবাদ হয়েছিল। আন্দোলনকারীদের একাংশ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবিও তুলেছিলেন। মূল লেখায় দাবি করা হয়েছে, প্রায় এক মাসের আন্দোলনের পর ‘জেন জি’র চাপের কাছে নতি স্বীকার করে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। সেই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনেই ময়নার শেয়ার করা পোস্টে মোদিকে নিয়ে মন্তব্য করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, দেবশ্রীর বক্তব্যের পর পিয়া চক্রবর্তীও পালটা মত প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, কোনও সরকার বা মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দেশদ্রোহী বলা যায় না। পিয়া নিজের বক্তব্যের সমর্থনে আন্তর্জাতিক রাজনীতির উদাহরণও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, আমেরিকায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরোধিতাও প্রকাশ্যে হয় এবং সেই খবর ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়াই স্বাভাবিক। অর্থাৎ কোনও সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন বা পদত্যাগের দাবি উঠলেই সেটিকে দেশবিরোধী অবস্থান হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই বলেই তাঁর বক্তব্য। এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশের কোটা বিরোধী আন্দোলনের ঘটনাও আলোচনায় আসে।
মূল লেখায় উল্লেখ করা হয়েছে, সেই আন্দোলনের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং ভারত তাঁকে সাহায্য করেছিল। নিট ইস্যুতে মোদির পদত্যাগের স্লোগান ওপার বাংলার সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় ময়না সেই কনটেন্ট শেয়ার করেছেন বলেই বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে সেই সূত্র নিয়েই দেবশ্রী আপত্তি জানান এবং পিয়া তার পালটা জবাব দেন। দেবশ্রীর প্রশ্নের জবাবে পিয়া বলেন, কোনও আন্দোলনের খবর শুধু বাংলাদেশেই প্রচারিত হয়েছে এমন নয়। তাঁর বক্তব্য, ‘শুধু বাংলাদেশ কেন, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং আরও অনেক দেশেই এই আন্দোলনের প্রচার হয়েছে।’
আরও পড়ুনঃ এটা কি ইয়ার্কি হচ্ছে? কোন দিক থেকে এটা উত্তম কুমার? বাঙালি আইকনের ‘কদাকার হতকুৎসিত’ হাফবাস্ট স্ট্যাচু, অবিলম্বে পরির্বতন করুন! কেওড়াতলা মহাশ্মশানে মহানায়কের স্মৃতিতে নতুন সরকারের স্থাপন করা মূর্তি নিয়ে ক্ষো’ভ পরমার বন্দোপাধ্যায়ের! অভিনেত্রীর মন্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে, নেটপাড়ায় উঠল একের পর এক প্রশ্ন?
অর্থাৎ আন্দোলনের খবর কোন দেশের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, তার চেয়ে খবরের বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করাই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন পিয়া। অন্যদিকে, দেবশ্রীর বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল তথ্যের উৎস এবং বিদেশি সংবাদমাধ্যমের কনটেন্ট ব্যবহার। ময়নার শেয়ার করা পোস্টকে ঘিরে দুই পক্ষের এই ভিন্ন মতই এখন সমাজমাধ্যমে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। একদিকে ময়নার পোস্টকে সমর্থন করে পিয়ার বক্তব্য, অন্যদিকে দেবশ্রীর প্রশ্ন, পুরো বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। ফলে বাংলাদেশের একটি চ্যানেলের পোস্ট শেয়ার করা থেকে শুরু হওয়া এই ঘটনা এখন টলিউডের দুই পরিচিত মুখের পালটা বক্তব্য ঘিরেও চর্চায় রয়েছে।






