সন্তানকে হারানোর য’ন্ত্রণা যে কতটা গভীর হতে পারে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। বিশেষ করে যখন সেই সন্তান অল্প বয়সে, হঠাৎ করেই পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়, তখন সময় এগিয়ে গেলেও শোকের ভার যেন কমে না। সোশ্যাল মিডিয়ার পরিচিত মুখ ‘সায়নী চক্রবর্তী’র (Sayoni Chakraborty) মৃ’ত্যুর পর কয়েকদিন কেটে গেলেও তাঁর পরিবারের জীবন এখনও স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারেনি। সম্প্রতি একটি ভিডিও বার্তায় সেই বাস্তবতাই তুলে ধরলেন সায়নীর মা ‘মলি চক্রবর্তী’ (Molee Chakraborty)। মেয়েকে হারানোর বেদনা এখনও প্রতিটি মুহূর্তে তাড়া করে বেড়াচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
গত মাসে সায়নীর আকস্মিক মৃ’ত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে এসেছিল তাঁর অনুরাগীদের মধ্যেও। পোষ্য প্রাণীদের নিয়ে তৈরি করা ভিডিওর মাধ্যমে বহু মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন তিনি। আইন নিয়ে পড়াশোনা শেষ করার পর নিজের স্বপ্ন এবং প্রাণীদের নিয়ে ব্যস্ত জীবন কাটাচ্ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ সেই জীবনের ইতি ঘটে আ’ত্মহ’ত্যার মাধ্যমে। প্রেমিক পলাতক, ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ। সেই ধাক্কা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি পরিবার, আর মায়ের সাম্প্রতিক ভিডিওতে সেই অসহায়তার ছবিই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ভিডিওতে মলি চক্রবর্তী বলেন, “আমার মেয়েটা চলে গেল, সহ্য করতে না পেরে আমার বুজোটাও চলে গেলো। ওর বয়স হয়েছিল, দিদির চলে যাওয়ার ধাক্কাটা ও সহ্য করতে পারিনি। পরীও আর আগের মতো হাসে না, খায় না ঠিক করে। কতদিন হয়ে গেল আজ সুন্দরীর মুখোমুখি দাঁড়াইনি। দাঁড়াতে পারিনি বলা ভালো, কী উত্তর দেব? কোথায় ওর দিদি? কেউ ভালো নেই, আমাদের সব শক্তি শেষ করে দিয়ে চলে গেছে সায়নী। তোকে ছাড়া আমি কিছুই করতে পারবো না, আমরা উঠে দাঁড়াতে পারছি না।
কবে চাই না আর কোন বাচ্চা এভাবে চলে যাক, এই অবলা প্রাণী গুলোর দিকে তাকিয়েই জীবনটা কাটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি। তবে আমার সময় লাগবে, আপনারা পাশে থেকেছেন এবং এখনো আছেন, তার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। এই কঠিন সময় অনেকেই দেখা করতে আসছে, তবে আমার মানসিকতা ঠিক নেই তাই এখন আসবেন না। অনেকেই খাবার পাঠাচ্ছেন সুন্দরীর জন্য, আপনাদের দাদাভাই গিয়ে ওকে খাইয়ে আসছে। আদুরীদা রোজ এসে খেয়ে যায়, তবে আমি ওদের কারো সঙ্গে দেখা করতে পারি না।
সায়নীকে যদি একবার জিজ্ঞেস করতে পারতাম এমনটা করার কি খুব দরকার ছিল? কিন্তু এখন সেই উপায় নেই। ছেলেটি অনেকদিন আগেই ধরা পড়েছে, জানিনা আইন ও কি শাস্তি দেবে। হবে একজন সন্তানহারা মায়ের অভিশাপ রইল, বেঁচে থেকে তিলে তিলে মরবি তুই!” এছাড়াও তিনি জানিয়েছেন, এতদিন যে শুনে এসেছেন প্রাণীরা প্রিয় মানুষের শূন্যতা অনুভব করতে পারে সেটাই এখন নিজের চোখে দেখছেন। তিনি জানান, সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কোনদিনও ক্যামেরার সামনে আর আসবেন না।
আরও পড়ুনঃ রাজনীতির মঞ্চে কড়া ভাষণ হোক বা তুখোড় অভিনয়, সবেতেই তিনি দারুণ পারদর্শী, কিন্তু অভিনেত্রীর রয়েছে এক গোপন প্রতিভাও! সেটা কী জানেন?
তবে আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য এতটাও নেই যে ভিডিও না করে এই প্রাণীগুলোকে খাওয়াতে পারবেন। সব কষ্টের মাঝেও হার মানতে চান না সায়নীর মা। মেয়ের স্মৃতি এবং তার রেখে যাওয়া প্রাণীগুলোর দায়িত্বই এখন তাঁকে নতুন করে বাঁচার শক্তি দিচ্ছে। চোখে জল থাকলেও তিনি চেষ্টা করছেন নিজেকে সামলে নিতে। কারণ তাঁর বিশ্বাস, সায়নী যে ভালোবাসার জগৎ গড়ে গিয়েছিল, সেটাকে বাঁচিয়ে রাখাই এখন পরিবারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।






