বাংলা সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prosenjit Chatterjee) এবং তাঁর বাবা কিংবদন্তি অভিনেতা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের (Biswajit Chatterjee) সম্পর্ক নিয়ে বহুবার আলোচনা হয়েছে। পর্দার বাইরে এই বাবা-ছেলের সম্পর্ক সবসময় সহজ ছিল না। একসময় প্রকাশ্যেই প্রসেনজিৎ জানিয়েছিলেন, ছোটবেলায় পরিবারের সবচেয়ে কঠিন সময়ে বাবার অনুপস্থিতি তিনি কোনওদিন ভুলতে পারেননি। তাঁর কথায়, যখন একজন সন্তানের বাবাকে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয়, তখনই জীবনের বাস্তবতা তাঁকে অন্য অভিজ্ঞতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিল। সেই কারণেই দীর্ঘদিন তাঁদের সম্পর্কে দূরত্ব এবং অভিমান রয়ে গিয়েছিল।
বাংলা বিনোদন জগতেও এই সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে বহুবার আলোচনা হয়েছে। প্রসেনজিতের শৈশব কেটেছে মায়ের সংগ্রাম খুব কাছ থেকে দেখে। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, বাবা মুম্বইয়ে নিজের কেরিয়ার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ার পর মা রত্না চট্টোপাধ্যায় একাই সংসারের দায়িত্ব সামলেছেন। ছেলে এবং মেয়েকে বড় করার পাশাপাশি জীবনের নানান প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে তাঁকে। প্রসেনজিৎ নিজেও বহুবার বলেছেন, তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা ছিলেন তাঁর মা। সেই কারণেই বাবার প্রতি অভিমান আরও গভীর হয়েছিল। এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট বলেছিলেন, “বাবাকে কোনওদিন ক্ষমা করতে পারব না।”
সেই মন্তব্য সে সময় ব্যাপক আলোড়নও তৈরি করেছিল। অন্যদিকে বিশ্বজিতের কথায়, রত্নাকে বিয়ে করাটাই কাল হয়েছিল তাঁর জীবনে। তাঁকে নাকি সন্দেহ করতেন প্রথম স্ত্রী, অকথ্য ভাষায় কথা থেকে শুরু করে গায়েও নাকি হাত তুলেছেন! একটা সময় রত্নার অনেক পুরুষ বন্ধু হয়, যারা নাকি আলমারি খুলে টাকা নিয়ে যেত! এই নিয়ে প্রতিবাদ করায় অশান্তি শুরু, এবং শেষে পল্লবী ও প্রসেনজিৎকে মায়ের কাছে ছেড়েই মুম্বাইতে গিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন বিশ্বজিৎ। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছুই বদলাতে শুরু করে। জীবনের নানান অভিজ্ঞতা মানুষকে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়।
দীর্ঘদিনের দূরত্ব থাকলেও পরবর্তী সময়ে বাবা-ছেলের সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করে বলে বিভিন্ন সময়ে ইঙ্গিত মিলেছে। প্রকাশ্যে একে অপরের প্রতি সম্মানও দেখিয়েছেন তাঁরা। যদিও অতীতের অভিমান পুরোপুরি মুছে গিয়েছিল কি না, তা কখনও স্পষ্ট করে জানাননি কেউ। কিন্তু সম্পর্কের বরফ যে ধীরে ধীরে গলছিল, তা তাঁদের বিভিন্ন মন্তব্য এবং উপস্থিতি থেকেই বোঝা গিয়েছিল। এদিকে প্রসেনজিৎ এখন ব্যস্ত তাঁর নতুন ছবি ‘অভিমান’-এর মুক্তি নিয়ে। ছবিটি মুক্তির আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিশেষ উপহারের ছবি ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেতা। সেই উপহার এসেছে তাঁর বাবা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের কাছ থেকে, হাতে আঁকা একটি ছবি। উপহারটি শুধু একটি বস্তু নয়, বরং তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বহু বছরের সম্পর্ক, স্মৃতি এবং আবেগ।

আরও পড়ুনঃ বিজেপির হাত ধরে বাংলায় ফিরছে সুদিন! অভিযোগের পাহাড় সরিয়ে ফের জাতীয় স্তরের পরিচালকদের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠছে বাংলা! মণি রত্নম থেকে সুজয় ঘোষ, পুরনো জট কাটিয়ে একের পর এক ছবির শুটিং শুরু হচ্ছে!
পোস্টটি সামনে আসার পর অনেকেই মনে করছেন, এই উপহার যেন বাবা-ছেলের দীর্ঘ পথচলার এক নীরব বার্তা। কারণ যে সম্পর্ক একসময় অভিমান এবং দূরত্বে ঢাকা ছিল, সেখানে আজ অন্য এক আবেগের ছোঁয়া ধরা পড়ছে। অনেকের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ নিজের অতীতকেও নতুনভাবে বিচার করতে শেখে। তাই কেউ কেউ মনে করছেন, জীবনের এই পর্বে এসে হয়তো বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ও পুরনো ভুলগুলোর দিকে ফিরে তাকিয়েছেন। হয়তো সেই কারণেই আজ ছেলের নতুন ছবির আগে নিজের শুভেচ্ছা এবং আশীর্বাদ পৌঁছে দিতে চেয়েছেন বিশেষ উপহারের মাধ্যমে। যদিও এ বিষয়ে বাবা বা ছেলে কেউই প্রকাশ্যে এমন কোনও মন্তব্য করেননি, তবুও সাম্প্রতিক এই ঘটনাকে ঘিরে অনুরাগীদের মধ্যে আবেগের সুর স্পষ্ট।






