মুক্তির পর থেকেই বক্স অফিসে দাপট দেখাচ্ছে ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’। রণবীর সিংহ অভিনীত এই ছবির গল্প যেমন দর্শকদের নজর কেড়েছে, তেমনই ছবির গানগুলিও সমান জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বিশেষ করে ‘ফির সে নয়না ভরে’ গানটি এখন শ্রোতাদের প্লেলিস্টের অন্যতম পছন্দের সংযোজন। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে মিউজিক প্ল্যাটফর্ম, সর্বত্রই গানটি নিয়ে চলছে আলোচনা। তবে এই গানের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একটি আবেগঘন ঘটনা, যা সম্প্রতি সামনে এনেছেন ছবির সঙ্গীত পরিচালক শাশ্বত সচদেব। তাঁর কথায়, গানটির রেকর্ডিংয়ের সময় এমন এক মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল, যা উপস্থিত কেউই সহজে ভুলতে পারবেন না। সেই মুহূর্তের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন অরিজিৎ সিং নিজেই।
এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে শাশ্বত সচদেব জানান, ‘ফির সে নয়না ভরে’ গানটি তাঁর নিজের লেখা ও সুর করা। ফলে গানটির সঙ্গে তাঁর আবেগের সম্পর্কও ছিল বিশেষ। রাগ খামাজের ভিত্তিতে তৈরি এই গানে ব্যবহার করা হয়েছে রমনা বালাচন্দ্রনের বীণার সঙ্গত। ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের আবহের সঙ্গে আধুনিক সুরের মেলবন্ধন ঘটিয়ে গানটি তৈরি করা হয়েছিল। শাশ্বতের মতে, শুরু থেকেই এই গানকে ঘিরে আলাদা এক অনুভূতি কাজ করছিল। স্টুডিওতে যখন রেকর্ডিং চলছিল, তখন উপস্থিত সকলেই সেই আবেগ অনুভব করেছিলেন। গানটির প্রতিটি অংশে অনুভূতির গভীরতা ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল।

রেকর্ডিংয়ের সময় অরিজিৎ সিংও সেই আবেগের মধ্যে সম্পূর্ণ ডুবে গিয়েছিলেন বলে জানান শাশ্বত। তাঁর কথায়, গানটি গাওয়ার পর অরিজিৎ নিজের অনুভূতি আর লুকিয়ে রাখতে পারেননি। রেকর্ডিং শেষ হতেই তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। পরে তিনি শাশ্বতকে জড়িয়ে ধরে জানান, এই গানটি তাঁর হৃদয় ছুঁয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি তিনি এটাও বলেন যে, “এই গান গাওয়ার অভিজ্ঞতা তিনি কোনওদিন ভুলবেন না।” সঙ্গীত পরিচালকের দাবি, একজন শিল্পীর এমন প্রতিক্রিয়া তাঁর কাছেও অত্যন্ত স্মরণীয় হয়ে রয়েছে। এই ঘটনাই প্রমাণ করে গানটি কতটা গভীরভাবে শিল্পীর মন স্পর্শ করেছিল।
আসলে ছবির গল্পে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্তে ব্যবহার করা হয়েছে এই গান। দীর্ঘ কয়েক বছর পাকিস্তানে গুপ্তচর হিসেবে কাটানোর পর রণবীর সিংহের চরিত্র যখন নিজের গ্রামে ফিরে আসে, তখন সেই আবেগঘন দৃশ্যের পটভূমিতে শোনা যায় ‘ফির সে নয়না ভরে’। শাশ্বত জানান, অরিজিৎ খুব ভালোভাবেই বুঝেছিলেন দৃশ্যটির আবেগ এবং গুরুত্ব। তাই তিনি শুধু গায়ক হিসেবে নয়, একজন শিল্পী হিসেবেও নিজের সমস্ত অনুভূতি ঢেলে দিয়েছিলেন গানটির মধ্যে। সেই কারণেই গানটি শ্রোতাদের মনেও বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। ছবির আবহের সঙ্গে গানটির মেলবন্ধন দর্শকদের কাছে আরও বেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুনঃ “মমতা ও অভিষেকের হাত কখনও ছাড়ব না… তৃণমূল মানে মাটির সঙ্গে মিশে থাকা কর্মী,এই দলের সম্পদ কর্মীরা” সায়নীর জায়গায় যুব সভাপতির দায়িত্ব পেয়ে তৃণমূলের ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা অর্ণব ব্যানার্জির!
শাশ্বত সচদেব আরও জানান, পরিচালক আদিত্য ধরের সঙ্গে তাঁর কাজের সম্পর্ক নতুন নয়। ২০১৬ সাল থেকেই তাঁরা একসঙ্গে কাজ করে আসছেন। সঙ্গীত পরিচালকের কথায়, যখন ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর তেমন পরিচিতি ছিল না, তখনও আদিত্য তাঁর উপর আস্থা রেখেছিলেন। সেই বিশ্বাসের মূল্য দিতেই তিনি কঠিন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছিলেন। মাত্র ১১ দিনের মধ্যে ১৪টি গান তৈরি করা এবং মাত্র ৩ দিনের মধ্যে পুরো ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর সম্পূর্ণ করার দায়িত্বও তিনি সফলভাবে সামলেছেন। তাঁর মতে, এই ছবির কাজের অভিজ্ঞতা যেমন চ্যালেঞ্জিং ছিল, তেমনই ছিল অত্যন্ত স্মরণীয়। আর সেই স্মৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকবে অরিজিৎ সিংয়ের সেই আবেগঘন রেকর্ডিং সেশন।






