স্বাধীনতা দিবসের আগে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে সমাজমাধ্যমে। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্বকে নিয়ে একটি কুরুচিকর মিম ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। এর আগে বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজ নেতাজিকে ‘দেশদ্রোহী’ বলে মন্তব্য করায় বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই মন্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত মত বলে দাবি করে দলের সঙ্গে এর যোগ নেই বলে জানিয়েছিলেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। পরবর্তীতে অনন্ত মহারাজের বঙ্গবিভূষণ সম্মানও কেড়ে নেওয়া হয়। কিন্তু সেই বিতর্কের মধ্যেই নেতাজির ব্যক্তিগত জীবন ও ভাবমূর্তি নিয়ে তৈরি একটি আপত্তিকর পোস্ট নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ওই পোস্ট সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরই তীব্র প্রতিবাদ জানান শ্রীলেখা মিত্র। নেতাজির মতো জাতীয় মহানায়ককে নিয়ে এমন পোস্ট কীভাবে প্রকাশ্যে আসতে পারে, সেই প্রশ্ন তোলেন অভিনেত্রী। নিজের সমাজমাধ্যমের পাতায় তিনি লেখেন, ‘নির্লজ্জতারও একটা সীমা থাকে, এরা বোধহয় সেই সীমাটুকুও বহু আগেই অতিক্রম করে ফেলেছে। স্বাধীনতার প্রাক্কালে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে এমন কুরুচিপূর্ণ, অবমাননাকর পোস্ট করার পরেও কি সব ঠিকঠাক থাকবে? এর জন্য কি এফআইআর হবে না? নাকি আইন, প্রশাসন আর নৈতিকতার সংজ্ঞা মানুষভেদে বদলে যায়?’ তাঁর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে স্পষ্টভাবেই এই ঘটনার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী।
শুধু পোস্টটির বিষয়বস্তু নয়, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শ্রীলেখা। তাঁর অভিযোগ, সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে সামান্য কোনও বিষয় সামনে এলেও দ্রুত এফআইআর, মামলা কিংবা নানা ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়। অথচ নেতাজির মতো একজন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য বা পোস্ট ছড়িয়ে পড়ার পরেও কেন প্রশাসনের তরফে নীরবতা দেখা যাচ্ছে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। অভিনেত্রীর কথায়, ‘অন্য কারও ক্ষেত্রে সামান্য কিছু হলেই এফআইআর, মামলা, হেনস্থা আর এখানে সব নীরব? বাহ! কী চমৎকার দ্বিচারিতা!’ একইসঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অজুহাতে নেতাজির ভাবমূর্তি নষ্ট করার ঘটনাকে ছেড়ে দেওয়া নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন তিনি।
শ্রীলেখা আরও মনে করিয়ে দিয়েছেন, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নেতাজি দেশের ইতিহাস, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং জাতীয় আত্মমর্যাদার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। তাই তাঁকে নিয়ে কুরুচিকর পোস্ট বা মন্তব্যকে কোনও রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বিচার না করে আইন অনুযায়ী দেখা উচিত বলেই মনে করেন অভিনেত্রী। আইন যদি সত্যিই সবার জন্য সমান হয়, তাহলে এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলেও দাবি করেছেন তিনি। স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগে নেতাজিকে ঘিরে তৈরি এই বিতর্ক তাই নতুন করে সমাজমাধ্যমে আলোচনা তৈরি করেছে।
আরও পড়ুনঃ যে ধারাবাহিক অনেক মেয়েকেই স্বপ্ন দেখেছিল এমনই একটা সংসার যদি সত্যিই পাওয়া যেত! আকাশের মতো জীবনসঙ্গী আর নন্দিনীর মতো মানুষ হতে চেয়েছিল যে প্রজন্ম, তাদের কাছে ‘এক আকাশের নীচে’ আজও নস্টালজিয়ার নাম! সময় বদলেছে, ছোট হয়েছে পরিবারের আকার, সেই বাড়ির মানুষগুলোকে কি মনে পড়ে? কোন চরিত্রটা ছিল আপনার সবচেয়ে প্রিয়?
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়েই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিয়ে তৈরি একটি কুরুচিকর পোস্টার হাতে প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দেওয়ার ঘটনায় আইনি জটিলতায় পড়েছিলেন শ্রীলেখা মিত্র। তাঁর নামে একাধিক এফআইআর দায়ের হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসে। সেই ঘটনায় অভিনেত্রীর বক্তব্য ছিল, তিনি চশমা পরে ছিলেন না এবং তাই হাতে থাকা বিকৃত পোস্টারটি তাঁর চোখে পড়েনি। তবে তাঁর এই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ ছিল গেরুয়া শিবির। সেই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নেতাজিকে নিয়ে আপত্তিকর মিমের বিরুদ্ধে সরব হলেন অভিনেত্রী। ফলে শ্রীলেখার সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়েও নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনা শুরু হয়েছে।






