‘ডাক্তার ও ইঞ্জিনিয়ারের সাফল্যে লাগে সারা জীবন, সেখানে এরা কীভাবে রাতারাতি বিলাসবহুল জীবনের মালিক?’ অফুরন্ত টাকা আর খ্যাতি পেয়ে ধরাকে সরা জ্ঞান করছে! নতুন প্রজন্মের সীমাহীন লোভ নিয়ে কী কড়া বার্তা শাস্বতী গুহঠাকুরতার?

বাংলা বিনোদন জগতের দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ ‘শাস্বতী গুহঠাকুরতা’ (Saswati Guhathakurta)। তবে অভিনেত্রী হবার আগে তিনি একজন দক্ষ সঞ্চালিকা। দূরদর্শনের শুরুর দিনগুলির যাঁরা সাক্ষী থেকেছেন, তাদের মধ্যে একজন হলেন তিনি। পর্দায় তার প্রতিটি চরিত্র এবং সাবলীলভাবে সেগুলিকে জীবন্ত করে তোলার ক্ষমতা ভোলার মতো নয়। পর্দায় তিনি যতটা স্পষ্ট বক্তা, বাস্তবেও ঠিক তেমনি। রাজ্যে পালাবদলের আবহে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বর্তমান টলিউড, নতুন প্রজন্মের শিল্পী এবং রাজনীতির প্রভাব নিয়ে খোলামেলা মত প্রকাশ করেছেন।

কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি মনে করেন, বিনোদন জগতের পরিবেশ এখন অনেকটাই বদলে গেছে। একসময় কাজের জায়গায় যে পারিবারিক আবহ এবং আন্তরিকতা ছিল, আজকের দিনে তা অনেকাংশে কমে এসেছে। সময়ের সঙ্গে শিল্প মাধ্যমের পরিবর্তন স্বাভাবিক হলেও কিছু বিষয় তাঁকে ভাবায় বলেই জানিয়েছেন তিনি। নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের দ্রুত সাফল্য এবং আর্থিক উন্নতি নিয়েও নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন তিনি। তাঁর মতে, অন্যান্য পেশায় প্রতিষ্ঠিত হতে বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম, পড়াশোনা এবং অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়।

অথচ বিনোদন জগতে অনেক সময় একটি সফল কাজই একজন নতুন মুখকে অল্প সময়ে পরিচিতি এবং অর্থ দুটোই এনে দেয়। এই হঠাৎ পাওয়া জনপ্রিয়তা অনেকের কাছে সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। পর্যাপ্ত মানসিক প্রস্তুতি বা পারিবারিক মূল্যবোধের অভাব থাকলে সাফল্যের মোহ মানুষকে ভুল সিদ্ধান্তের দিকেও ঠেলে দিতে পারে বলেই তাঁর ধারণা। অভিনেত্রীর ভাষায়, “একজন ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার পড়াশোনা করে সঠিক পথে সাফল্যের দিকে এগোলেও সেই সাফল্য পেতে অনেকটা সময় লেগে যায়, আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে মোটামুটি সুন্দর দেখতে একটা মুখে জন্য যেটা রাতারাতি সম্ভব।

খুব অল্প সময়ে অনেকটা অর্থ যেমন লাভ করে ফেলে, ঠিক তেমনি আরো অনেক অর্থ উপার্জনের পথ খুলে যায়।” শুধু তাই নয়, বর্তমান সময়ে শিল্পী এবং রাজনীতির সম্পর্ক নিয়েও তিনি স্পষ্ট মতামত দিয়েছেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ, এখন অনেক ক্ষেত্রেই শিল্পীদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা বেশি হয়। কেউ নিজের প্রয়োজনে রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা বাড়ান, আবার কেউ পরিস্থিতির চাপে কোনও না কোনও শিবিরের সঙ্গে যুক্ত হতে বাধ্য হন। তাঁর মতে, অতীতে এই প্রবণতা এতটা স্পষ্ট ছিল না। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্ষমতার সমীকরণ অনেক ক্ষেত্রেই কর্মজীবনের উপর প্রভাব ফেলছে, যা অস্বীকার করার উপায় নেই।

আরও পড়ুনঃ নিজেকে সামলাতে পারলেন না আর, হঠাৎ কেঁদে ফেললেন অরিজিৎ সিং! আবেগের বি’স্ফোরণ, কী এমন হল গায়কের?

তবে এত সমালোচনা বা উদ্বেগের মাঝেও নতুন প্রজন্মের প্রতি তাঁর আস্থা রয়েছে। তিনি মনে করেন, বিনোদন জগতের চকচকে দুনিয়ার মধ্যে থেকেও নিজের সীমারেখা সম্পর্কে সচেতন থাকা খুব জরুরি। কোথায় আপস করা যাবে আর কোথায় দৃঢ় থাকতে হবে, সেই বোধটাই একজন শিল্পীকে দীর্ঘ পথ চলতে সাহায্য করে। তাঁর মতে, জনপ্রিয়তা বা অর্থের চেয়ে নিজের কাজের প্রতি নিষ্ঠা এবং সততা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেই মূল্যবোধ ধরে রাখতে পারলেই আগামী দিনের শিল্পীরা আরও শক্ত ভিতের উপর নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারবেন।

You cannot copy content of this page