শ্বশুরের ‘ব্যাড টাচ’ থেকে মোটা অঙ্কের প’ণের দাবি! মানসিক ও শারী’রিক নি’র্যাতনের সঙ্গে লাগাতার হু’মকির অভিযোগ! বিচ্ছেদ মামলার শুনানির পর সাংবাদিক বৈঠকে বি’স্ফোরক দেবলীনা নন্দী! ফাঁস একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য! প্রকাশ্যে প্রবাহের ‘আসল রূপ’, কী রায় দিল আদালত?

চলতি বছরের শুরু থেকে গায়িকা ও নেটপ্রভাবী ‘দেবলীনা নন্দী’ (Debolina Nandy) এবং তাঁর স্বামী ‘প্রবাহ নন্দী’র (Prabaha Nandy) ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে একের পর এক বিতর্ক সামনে এসেছে। ৩ জানুয়ারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের দাম্পত্য জীবন নিয়ে নানান বিতর্ক চলছিল। সম্প্রতি প্রায় ছয় মাস নীরব থাকার পর সংবাদ মাধ্যমের সামনে এসে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছিলেন প্রবাহ নন্দী। সেই সাক্ষাৎকারে তিনি একাধিক অভিযোগ ও দাবি সামনে আনেন। আর তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সমাজ মাধ্যমে পরোক্ষ প্রতিক্রিয়া জানান দেবলীনা। তবে এবার বিষয়টি আরও বড় মোড় নিল আদালতে বিচ্ছেদ সংক্রান্ত মামলার প্রথম শুনানির দিন।

জানা গিয়েছে, দেবলীনার জীবন শেষ করে দেওয়ার চেষ্টার ঘটনার কিছুদিন পরই বারুইপুর আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা দায়ের করেছিলেন প্রবাহ নন্দী। আজ ছিল সেই মামলার প্রথম শুনানি। শুনানি শেষ হওয়ার পর নিজের আইনজীবীদের সঙ্গে সাংবাদিক বৈঠকে হাজির হন দেবলীনা। সেখানেই তিনি জানান, এতদিন বহু তথ্য ও নথি নিজের কাছেই রেখে দিয়েছিলেন। কারণ তিনি কখনও চাননি প্রবাহের সম্মান বা পেশাগত জীবনে কোনও প্রভাব পড়ুক। এমনকি তিনি এটাও বলেন যে, ব্যক্তিগত বিষয় প্রকাশ্যে এনে কাউকে ছোট করার ইচ্ছা তাঁর কোনওদিনই ছিল না। কিন্তু সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তাঁর এবং তাঁর মায়ের বিরুদ্ধে যেসব কথা বলা হয়েছে, তার পর আর নীরব থাকা সম্ভব হয়নি।

সাংবাদিক বৈঠকে দেবলীনা বিশেষভাবে আপত্তি তোলেন সেই ভিডিওটি নিয়েও, যা সম্প্রতি সমাজ মাধ্যমে সামনে এসেছিল প্রবাহ। তাঁর বক্তব্য, ভিডিওটিতে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল তিনি অত্যন্ত খারাপ মানসিক অবস্থার মধ্যে ছিলেন। জামাকাপড়ও ঠিক ছিল না কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন এবং নিজের মৃ’ত্যু কামনার কথাও বলছিলেন। দেবলীনার প্রশ্ন, এমন একটি ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও প্রকাশ করে আসলে কী প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়েছে? তাঁর মতে, বিষয়টি অত্যন্ত অসম্মানজনক। তিনি আরও জানান, ওই ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পর তিনি মানসিকভাবে আরও আঘাত পেয়েছেন এবং এই পদক্ষেপের কোনও যৌক্তিকতা তিনি খুঁজে পাননি।

এদিন দেবলীনার পক্ষের আইনজীবীরাও একাধিক দাবি সামনে আনেন। তাঁদের বক্তব্য, প্রবাহ বারবার যে কথা বলেছেন, তিনি নাকি কখনও দেবলীনাকে তাঁর মা এবং সংসারের মধ্যে কাউকে বেছে নিতে বলেননি, সেই দাবি পুরোপুরি সঠিক নয়। আইনজীবীদের দাবি, তাঁদের কাছে এমন বহু চ্যাট, কথোপকথন, ভিডিও এবং অন্যান্য নথি রয়েছে যেখানে দেবলীনার মাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে এবং তাঁকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিয়ের পর মোটা অঙ্কের অর্থ চাওয়ার অভিযোগও তোলা হয়। দেবলীনার পরিবারের দাবি, মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই সেই আর্থিক দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন তাঁরা।

অভিযোগের তালিকা সেখানেই শেষ হয়নি। দেবলীনার পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে যে, প্রবাহ এবং তাঁর ভাই বিভিন্ন সময়ে ডিজিটাল ট্রান্সফারের মাধ্যমে বড় অঙ্কের টাকা নিয়েছেন। পাশাপাশি শ্বশুর-শাশুড়ির তরফে মানসিক ও শারী’রিক নি’র্যাতনের অভিযোগও সামনে আনা হয়েছে। বলা হয়েছে প্রবাহর ম’দ‍্যপ অবস্থায় মা’রধর করত, বারান্দা থেকে কয়েকবার ধাক্কা মা’রার চেষ্টাও করেছে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকরভাবে শ্বশুরের বিরুদ্ধে অস্বস্তিকর আচরণ এবং ‘ব্যাড টাচের’ অভিযোগও তুলেছেন দেবলীনা। যদিও এই মুহূর্তে বিষয়টি নিয়ে তিনি বিস্তারিত বলতে চাননি। তাঁর বক্তব্য, প্রয়োজন হলে পরবর্তী সময়ে আরও তথ্য ও প্রমাণ প্রকাশ করা হবে।

আরও পড়ুনঃ স্বরূপ বিশ্বাসের ব্যবহৃত চশমার ভেতরে লুকোনো থাকত ক্যামেরা! তো’লাবাজি এবং যৌ’ন হেন’স্থার পর, স্বরূপকে ঘিরে আদালতে নতুন করে বিস্ফোরক অভিযোগ! কী কারণে এমনটা? সামনে এল আরও বড় রহস্য?

এদিন আদালতের সিদ্ধান্ত নিয়েও কথা বলেন আইনজীবীরা। তাঁদের মতে, প্রবাহের পক্ষ থেকে যে সমস্ত অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলির ভিত্তি যদি এতটাই শক্তিশালী হতো, তাহলে আদালত মামলার বর্তমান অবস্থান বজায় রাখতেন না। আইনজীবীদের দাবি, আপাতত বিচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে এবং মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে আগামী ৪ জুলাই। সেই দিন আদালতে আরও তথ্য ও নথি জমা পড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। দেবলীনা নিজেও জানিয়েছেন, পরবর্তী শুনানির পর তিনি বাকি বিষয়গুলি নিয়ে আরও বিস্তারিতভাবে মুখ খুলবেন।

You cannot copy content of this page