জি বাংলার জনপ্রিয় সঙ্গীতভিত্তিক রিয়েলিটি শো ‘সারেগামাপা’-র চলতি মরশুমে শুরু থেকেই নজর কেড়েছেন উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরের ছেলে আয়ুষ গুপ্তা। আলুপট্টির এই তরুণ নিজের গান দিয়ে একের পর এক মঞ্চে প্রশংসা অর্জন করেছেন। বিচারকদের ইতিবাচক মন্তব্যের পাশাপাশি দর্শকদের ভালবাসাও পেয়েছেন তিনি। দীর্ঘ কয়েক মাসের কঠিন প্রতিযোগিতা পেরিয়ে এখন তিনি পৌঁছে গিয়েছেন ফাইনালের মঞ্চে। ফলে ইসলামপুর থেকে শুরু করে গোটা উত্তরবঙ্গ জুড়েই তাঁকে নিয়ে উচ্ছ্বাস তুঙ্গে। অনেকেরই বিশ্বাস, এবারের খেতাব জয়ের দৌড়ে অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার আয়ুষ।
ছোট শহর থেকে উঠে এসে রাজ্যজুড়ে পরিচিতি পাওয়ার এই পথ মোটেও সহজ ছিল না। সাধারণ পরিবারের ছেলে আয়ুষ ছোটবেলা থেকেই গানের প্রতি গভীর আগ্রহ দেখিয়েছিল। পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত গান নিয়ে চর্চা করত সে। সুযোগ পেলেই নিজের দক্ষতা আরও বাড়ানোর চেষ্টা করত। তবে এই পথচলায় তাকে নানা ধরনের মন্তব্যও শুনতে হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, শুধুমাত্র গানকে ভরসা করে ভবিষ্যৎ গড়া সম্ভব কি না। কিন্তু সেইসব কথা উপেক্ষা করে নিজের লক্ষ্য থেকে কখনও সরে যায়নি আয়ুষ। আজ ফাইনালে পৌঁছে সে নিজের পরিশ্রমের ফলই যেন সকলের সামনে তুলে ধরেছে।
আয়ুষের এই সাফল্যে সবচেয়ে বেশি খুশি তাঁর পরিবার। বিশেষ করে তাঁর মা রেখা দেবী ছেলের এই অর্জনে আবেগাপ্লুত। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই গানের প্রতি আয়ুষের আলাদা ভালবাসা ছিল। পরিবারের সদস্যরাও সবসময় তার পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। ছেলের সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “ছোট থেকেই ওর গানের প্রতি একটা অন্যরকম টান ছিল। আমরা সবসময় চেষ্টা করেছি ওর পাশে থাকার। আজ ওকে ফাইনালে দেখতে পেয়ে খুব ভাল লাগছে। আমার একটাই প্রার্থনা, ও যেন আরও বড় মঞ্চে নিজের জায়গা তৈরি করতে পারে এবং মানুষের ভালবাসা পেতে থাকে।” তাঁর কথায় ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশা এবং গর্ব দুটোই স্পষ্ট।
শুধু মা নন, আয়ুষের বাবা মনোজ গুপ্তাও ছেলের পরিশ্রম এবং একাগ্রতার প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, আয়ুষ সবসময় পড়াশোনা এবং গান দুটোকেই সমান গুরুত্ব দিয়েছে। কখনও কোনও একটিকে অবহেলা করেনি। ছেলের সাফল্য নিয়ে তিনি বলেন, “আয়ুষ কখনও শুধু গান নয়, পড়াশোনাতেও সমান মনোযোগ দিয়েছে। নিজের পরিশ্রম আর একাগ্রতার জোরেই আজ এই জায়গায় পৌঁছেছে। একজন বাবা হিসেবে আমি গর্বিত। ও যেন নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে এবং আরও অনেক দূর এগিয়ে যায়, সেটাই চাই।” বাবার এই বক্তব্যেও ছেলের প্রতি অগাধ আস্থা ও শুভকামনার প্রতিফলন দেখা যায়।
এখন আয়ুষের সাফল্য শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ইসলামপুরের বহু তরুণ-তরুণীর কাছেও তিনি অনুপ্রেরণার নাম হয়ে উঠেছেন। ছোট শহর থেকেও যে বড় মঞ্চে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখা যায়, আয়ুষ সেই বিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করেছেন। তাঁর এই যাত্রা দেখিয়ে দিয়েছে, সুযোগ এবং পরিশ্রম একসঙ্গে থাকলে স্বপ্ন পূরণ অসম্ভব নয়। তাই স্থানীয় মানুষও তাঁর সাফল্যকে নিজেদের গর্ব হিসেবেই দেখছেন। ফাইনালের আগে তাঁকে ঘিরে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে।
আরও পড়ুনঃ “মেয়ের জন্যই বেঁচে আছি, দু’হাতে মোট ১৮টি সেলাই…দেড় বছর ধরে ডিপ্রে’শনে ভুগছি” “না বুঝেছি সংসার, পেশার রাজনীতিও বুঝিনি” চোখের নীচে কালি, মনে জমেছে দুঃখের পাহাড়! সন্তানকে আঁকড়ে থাকা থেকে কাজ না পাওয়া, নিজের বর্তমান অবস্থার কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন স্বর্ণকমল দত্ত!
এখন সকলের নজর সারেগামাপার গ্র্যান্ড ফিনালের দিকে। ইসলামপুর, উত্তর দিনাজপুর এবং গোটা উত্তরবঙ্গের অসংখ্য মানুষ অপেক্ষা করছেন ফল ঘোষণার সেই মুহূর্তটির জন্য। আয়ুষের কণ্ঠ ইতিমধ্যেই দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। বিচারকদের প্রশংসাও বারবার পেয়েছেন তিনি। তাই অনেকেই মনে করছেন, এবারের সেরার মুকুট হয়তো উঠতে পারে ইসলামপুরের এই তরুণ গায়কের মাথায়। এমনকি সূত্রের খবরও তেমনটাই বলছে। যদিও শেষ পর্যন্ত কী হয়, তার উত্তর মিলবে ফাইনালের মঞ্চেই।






